Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
যুদ্ধের ঘনঘটা
Black Rain In Iran

তৈলভাণ্ডারগুলিতে লাগাতার হামলা, ‘কালো বৃষ্টি’তে ভিজল ইরান! কতটা ভয়ংকর এই ‘ব্ল্যাক রেন’?

'কালো' বৃষ্টি তৈরির মূলে বাতাসের যে বিষাক্ত পদার্থ, সেগুলি কত দিন স্থায়ী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদি তৈলক্ষেত্র দিনের পর দিন জ্বলতে থাকে, তাহলে মেয়াদ মাস কয়েক হতে পারে। আর দাবানলের ক্ষেত্রে বড়জোর তিন-সাত দিন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৬, ২০২৬, ১৭:২৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৬, ২০২৬, ১৭:২৪

options
link
তৈলভাণ্ডারগুলিতে লাগাতার হামলা, ‘কালো বৃষ্টি’তে ভিজল ইরান! কতটা ভয়ংকর এই ‘ব্ল্যাক রেন’? zoom
আকাশ থেকে নেমে এল 'কালো বৃষ্টি'। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানকে (Iran) ভাতে মারতে তার তৈলসম্পদকে নিশানা করেছিল প্রতিপক্ষ আমেরিকা এবং ইজরায়েল। বেছে বেছে হামলা চালিয়েছিল দেশটির তৈলভাণ্ডার এবং তৈল শোধনাগারগুলিতে। তার পরিণতি হল ভয়ংকর। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে এবার আকাশ থেকে নেমে এল ‘কালো’ বৃষ্টি (Black Rain)!

বড় বড় জলের ফোঁটা। কিন্তু পুরোপুরি জলীয় নয়। তেল মিশে রয়েছে তাতে। হাতে পড়লে চট চট করছে। বৃষ্টিকণার রংও জলের মতো স্বচ্ছ নয়। কালো। তেহরানের বাসিন্দাদের দাবি, শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এই ‘ব্ল‍্যাক রেন’। ‘কালো’ বৃষ্টি। যার পর থেকেই শহরের আর কেউ সহজ-স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন না। শ্বাসকষ্ট তো হচ্ছেই। সঙ্গে চোখজ্বালা করছে, চোখ দিয়ে জলও পড়ছে কারও কারও। সব মিলিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি। একে যুদ্ধের আতঙ্ক, তায় আবার প্রকৃতির এই বিষম রূপ। কিন্তু প্রশ্ন, কীভাবে এর কবলে পড়ল ইরান? উত্তর-দেশটির বেশ কিছু তৈলভাণ্ডার ধ্বংস করেছিল নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের সেনা। এছাড়াও মুহুর্মুহু চলছিল ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র এবং ফাইটার জেট নিয়ে হামলা। এ সবের জেরে ইরানের আকাশে ক্রমাগত জমছিল ঘন কালো ধোঁয়া। প্রবলভাবে হচ্ছিল বায়ুদূষণ। আর সেই দূষণ থেকেই কালো বৃষ্টি। বাতাসে দীর্ঘ সময় ধরে জমতে থাকা দূষিত পদার্থ, রাসায়নিক বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে মাটিতে পড়েছে। বহুলভাবে বাড়িয়েছে বাসিন্দাদের উদ্বেগ, স্বাস্থ্য সংকটের আশঙ্কা।

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণভাবে, শুধু প্রবল বায়ুদূষণ হলেই যে ‘ব্ল‍্যাক রেন’ হয়, তা কিন্তু নয়। আগ্নেয়গিরি প্রবণ এলাকাতেও এমনটা ঘটতে পারে, দাবি বিশেষজ্ঞদের। দাবানল হলে বা বিপুল পরিমাণ লাভার উদগিরণ হয় যে জায়গায়, সেখানে দেখা দেয়। আবার শিল্পাঞ্চলগুলিতেও হতে পারে। সেখানে বাতাসে ক্রমাগত ঝুল-কালি (আণুবীক্ষণিক, যার পার্টিকল বা কণাগুলির আকার, মানুষের মাথার একটি চুল যতখানি চওড়া, তার তুলনায় ৪০ গুণ ছোট) মিশতে থাকে। আবার আগ্নেয়গিরি-প্রবণ জায়গায় বাতাসে মেশে ছাই, বিষাক্ত রাসায়নিক। এই সব কিছু বাতাসে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেকটা পরিমাণে মিশে গেলে, বৃষ্টির সময় এগুলোই জলের ফোঁটার সঙ্গে মাটিতে ঝরে পড়ে। ইরানের ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই হয়েছে। মনে রাখতে হবে, ‘কালো’ বৃষ্টিতে থাকতে পারে সালফার যৌগ, নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন এবং নানা ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক।

‘কালো বৃষ্টি’র বিষাক্ত পদার্থগুলি মানব ফুসফুসেই গিয়ে জমা হয়, এবং তার ক্ষতি করে। ত্বকের রোগব্যাধি ছাড়াও রক্তে মিশে হার্টের সমস্যাও ডেকে আনতে পারে এবং যার সর্বশেষ তথা চরম পরিণতি হল মৃত্যু।

আর এই গুলিই মানব শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে পারে বলে ইতিমধ্যেই সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা হু। তারা জানিয়েছে, “এই ব্ল‍্যাক রেন এবং অ্যাসিড রেন জনবসতির জন্য সাক্ষাৎ বিপদের বার্তা। মূলত শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা এর থেকে হতে পারে।” কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভি ফাই ম্যাকনিলও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যাচ্ছে, যে বিষ বাতাসে মিশেছে এবং যার জেরে এই কালো বৃষ্টি ইরানে হচ্ছে, তাতে সেখানকার মানুষের ফুসফুসের বড় সমস্যা দেখা যেতে পারে অচিরেই। কারণ, এই বিষাক্ত পদার্থগুলি মানব ফুসফুসেই গিয়ে জমা হয়, এবং তার ক্ষতি করে। ত্বকের রোগব্যাধি ছাড়াও রক্তে মিশে হার্টের সমস্যাও ডেকে আনতে পারে এবং যার সর্বশেষ তথা চরম পরিণতি হল মৃত্যু। এছাড়াও রয়েছে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন, ‘কালো’ বৃষ্টি তৈরির মূলে বাতাসের যে বিষাক্ত পদার্থ, সেগুলি কত দিন স্থায়ী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদি তৈলক্ষেত্র দিনের পর দিন জ্বলতে থাকে, তাহলে মেয়াদ মাস কয়েক হতে পারে। আর দাবানলের ক্ষেত্রে বড়জোর তিন-সাত দিন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.