৫ আশ্বিন  ১৪২৬  সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সৌরভ মাজি, বর্ধমান: ডেঙ্গু-সহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নর্দমা বা জমা জলে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার সর্বজনবিদিত। তাতেই মশককুলের বিনাশ হয় বলে ধারণা। কিন্তু বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ঠিক উলটো কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মশা গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন, ব্লিচিং পাউডারে মশা মরে না। অধিক পাউডার প্রয়োগে মশার লার্ভার মৃত্যু হয় বটে, কিন্তু তাতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বিনষ্ট হয়। 

[আরও পড়ুন: পুকুর ভরাট করে বহুতল তৈরির ছক, প্রোমোটার-রাজের প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ গাইঘাটা]

তেচোখা মাছ মশার লার্ভা খেয়ে বংশবৃদ্ধি রুখতে সাহায্য করে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মশা গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা বলছেন, মশা প্রতিরোধে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার না করার। ২০ আগস্ট বিশ্ব মশক দিবসে এই নিয়ে প্রচারও শুরু করেছেন তাঁরা।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করেছেন অধ্যাপক গৌতম চন্দ্র। মশা নিধনে বেশ কিছু আধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কারও করেছেন তিনি। এবার ব্লিচিং পাউডারের প্রভাব মশার উপর কতটা নিয়ে গবেষণা করেন গৌতমবাবু ও তাঁর সহযোগী গবেষকরা। গৌতমবাবু জানান, মশা রোধে ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর প্রয়োজন নেই, তাতে উপকারের থেকে বরং ক্ষতিই বেশি হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক গবেষণায় তেমনটাই পেয়েছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মশা গবেষণাগারে মুখবন্ধ খাঁচায় পূর্ণাঙ্গ মশা ছেড়েছিলেন। তারপর সেই খাঁচার ভিতরে অধিক পরিমাণে ব্লিচিং পাউডার দেন তাঁরা। ২৪ ঘণ্টা ব্লিচিং পাউডার থেকে তৈরি ক্লোরিন গ্যাসের মধ্যে থেকেও একটিও মশা মরেনি। তাছাড়া নর্দমায় ব্লিচিং পাউডার ছড়ালে মশা উড়ে যায়। পাশাপাশি, তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, ব্লিচিং পাউডার খুব বেশি পরিমাণ না ছড়ালে মশার লার্ভাও মরে না।

গৌতমবাবু আরও জানান, নর্দমার নোংরা জলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া বা জাপানি এনসেফালাইটিসের জীবাণুবাহী মশা জন্মায় না। তাই তাঁদের পরামর্শ, নর্দমায় ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে এইসব মশার বংশবিস্তার রোখার চেষ্টা অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। নর্দমার নোংরা জলে জীবাণুবাহী কিউলেক্স মশা জন্মায়। কিন্তু ব্লিচিং পাউডার ছড়ালে সেই মশা মরে না। পরীক্ষা করে গবেষকরা জেনেছেন, ব্লিচিংয়ের  প্রয়োগে বরং জলে থাকা বিভিন্ন উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বিনাশ ঘটে। মশার স্বাভাবিক শত্রু তেচোখা মাছ, গাপ্পি মাছ ও ব্যাঙাচিকে মেরে ফেলতে পারে ব্লিচিং পাউডার। আবার শামুক-গুগলিরও প্রাণহানির কারণ হয় ব্লিচিং পাউডার। 

[আরও পড়ুন: পৃথিবীর অক্সিজেন ভাণ্ডার এখন বিষাক্ত গ্যাসের খনি, জ্বলছে আমাজনের অরণ্য]

এছাড়া কম মাত্রাতেও ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করলে মাছের জীবন্ত খাদ্য শৈবাল এবং পরিবেশ-দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কাইরোনমস মাছির লার্ভা বিনষ্ট হয়। আবার গবেষক গৌতমবাবু বলেন, “তাই মশা নিধনে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা উচিৎ নয়। তা নিয়ে আমরা প্রচারও শুরু করেছি। সকলেরই এটা বোঝা উচিৎ। ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগে মশা নিধন দূরের কথা বরং উপকারী জলজ প্রাণিকূল, উদ্ভিদ, শৈবাল, ব্যাকটেরিয়ার উপর কুপ্রভাব ফেলে।” তাই ব্লিচিংয়ের ব্যবহার কমাতে সচেতনতা প্রচার শুরু হচ্ছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং