গরম বলে গরম! দিনভর এত বৃষ্টি, তবু ঘর্মাক্ত পরিবেশ থেকে মুক্তি নেই। এবছর ভারতে বিশেষত উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে অতিরিক্ত বর্ষণ হলেও গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি কিন্তু ঠিক উলটো। ইউরোপ, আমেরিকা দাবানলে পুড়েছে বছরের অধিকাংশ সময়ে। শুধু স্থলভাগ নয়, উষ্ণতার জেরে জলভাগের পরিবেশেও আমূল বদল ঘটে গিয়েছে। ত্বরান্বিত হয়েছে হিমবাহের গলন। সম্প্রতি তার সাক্ষাৎ প্রলংকারী রূপ দেখেছে নেপাল। হিমবাহ হ্রদ ভাঙা জলের তোড়ে তছনছ দেশের অধিকাংশ এলাকা। আর ধারাবাহিক এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে অশনি সংকেত দেখছেন বিজ্ঞানীরা। বলা হচ্ছে, সমস্ত রেকর্ড ভেঙে উষ্ণতম মাসের তকমা দেওয়া হচ্ছে আগস্টকে। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসটি ছিল উষ্ণতম।

আরও পড়ুন:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্গত কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস বা সিথ্রিএস এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র আগস্টেই পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১.৫৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখলে জানা যাচ্ছে, ১৯৯১ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৮৫ ডিগ্রি বেশি। এই তীব্র গরম শুধু স্থলভাগে আটকে নেই। সমুদ্রপৃষ্ঠ ও তলদেশের উষ্ণতাও একই হারে বেড়ে চলেছে। সেটাই আরও বেশি উদ্বেগের বিষয়। সিথ্রিএস-র তথ্য অনুযায়ী, মেরু অঞ্চলের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় সমুদ্রের তাপমাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে ২১.০৭ ডিগ্রি, যা উষ্ণতম হিসেবে সর্বকালীন রেকর্ড।
আবহবিদ সামান্থা বার্গেসের কথায়, ‘‘২০২৬ সালের আগস্ট বিশ্বের জলবায়ু পরিসংখ্যানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। উষ্ণতম আগস্ট ও উষ্ণতম মাস আগস্ট। বিশ্বের গড় উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপে কীভাবে এর প্রভাব পড়েছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি। রাস্তাঘাট গলে যাচ্ছে, ট্রেনলাইনে ফাটল, স্কুল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এসবই হচ্ছে দিকে দিকে দাবানলের কারণে। এটা খুব উদ্বেগের বিষয়।”
এবার আসা যাক ইউরোপের পরিবেশে। সেখানে ২০২৪ সাল থেকেই বাড়তি গরম টের পাওয়া গিয়েছে। সেবছরের মার্চ মাসে সবচেয়ে বেশি পুড়ছিল ইউরোপের দেশগুলি। পশ্চিম ইউরোপে জুন থেকে আগস্ট – তিনমাস ছিল উষ্ণতম। আর এবছর দেখা গেল, সেই উষ্ণতা পৌঁছেছে ২১.৬৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে, যা গড় তাপমাত্রার তুলনায় আড়াই ডিগ্রি বেশি। এ বড় বিপদ সংকেতই বটে! আবহবিদ সামান্থা বার্গেসের কথায়, ‘‘২০২৬ সালের আগস্ট বিশ্বের জলবায়ু পরিসংখ্যানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। উষ্ণতম আগস্ট ও উষ্ণতম মাস আগস্ট। বিশ্বের গড় উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপে কীভাবে এর প্রভাব পড়েছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি। রাস্তাঘাট গলে যাচ্ছে, ট্রেনলাইনে ফাটল, স্কুল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এসবই হচ্ছে দিকে দিকে দাবানলের কারণে। এটা খুব উদ্বেগের বিষয়।”

সিথ্রিএসের বিজ্ঞানীদের মতে, ইউরোপের বহু দেশ, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়ায় খরা পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, নেপালের হড়পা বান সব ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। জলবায়ুর এই পরস্পরবিরোধী প্রভাবের কারণ অন্য কিছু নয়। মানুষের নানা কাজের ফলে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাসের অতিরিক্ত নির্গমন। যা ঘোর বিপদ ডেকে আনবে খুব শিগগিরই। এই আশঙ্কায় কাঁপছেন বিজ্ঞানীরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
EXCLUSIVE: বিয়ের পিঁড়িতে মিমি চক্রবর্তী! কাকে জীবনসঙ্গী বাছছেন টলি নায়িকা?
-
মোবাইলে নেটওয়ার্কের সমস্যা, টেলিকম কর্মীকে ধরে টাওয়ারে বেঁধে রাখল গ্রামবাসী!
-
নজরে উপনির্বাচন! রেজিনগর-নন্দীগ্রামে প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের
-
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বারাকপুরে বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে রেইকি ৩ যুবকের! পুলিশের জালে ১
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি