১২ বছর ক্ষমতায় না থেকেও কংগ্রেসের তহবিলে ২০৭ কোটি, বঙ্গ ভোটের আগে কত চাঁদা বিজেপির?
বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটে কত খরচ করেছে বিজেপি? কংগ্রেসের খরচই বা কত?
তবে এসবের মধ্যেও ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরির নির্বাচনের আগে মোটামুটি সম্মানজনক চাঁদা পেয়েছে কংগ্রেস। পাঁচ রাজ্যে ভোটের সময় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য ইউনিটগুলি মিলিয়ে চাঁদা জমা পড়েছে ২০৭ কোটি টাকা। ভোট চলাকালীন তাদের খরচ হয়েছে ২৪৮.৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ পাঁচ রাজ্যের ভোটের মুখে রোজগারের তুলনায় খরচ বেশি হচ্ছে হাত শিবিরের।
আরও পড়ুন:
কমিশনের কাছে রাজ্যভিত্তিক নির্বাচনের তহবিলের বিস্তারিত খতিয়ান জমা করেছে কংগ্রেস। সেই তহবিলের হিসাব দেখাচ্ছে, কংগ্রেস পাঁচ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে অসমে। তারপর কেরল ও অন্য রাজ্যে। চমকপ্রদ বিষয় হল ভোটের আগে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় দপ্তর ও পাঁচ রাজ্যের দপ্তরে মোট তহবিল ছিল ১৬৯ কোটি টাকা। সেটা ভোটের পর কমে হয়েছে ১৪৬ কোটির কিছু বেশি। অর্থাৎ ২২ কোটি কমেছে।
এ তো গেল কংগ্রেস। বিজেপি কোথায়? হাত শিবিরের নিরিখে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের আগে বিজেপির রোজগার অনেকটাই বেশি। সঠিকভাবে বলতে গেলে প্রায় ৭ গুণ। পাঁচ রাজ্যে ভোটের সময় বিজেপির শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরে ১ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকার অনুদান এসেছে। এই প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বাইরেও বিজেপির রাজ্য দপ্তরগুলিতেও আলাদা করে চাঁদা জমা পড়েছে।
শুধু তাই নয়, ভোট শুরুর আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের হাতে যা অর্থ ছিল, বিশাল খরচ সত্ত্বেও ভোটের পর তার পরিমাণ আরও বেড়েছে।খতিয়ান অনুযায়ী চলতি বছরের ১৫ মার্চ দলের নির্বাচনী তহবিলে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের পর ৬ মে পর্যন্ত সঃেই অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন:
পাঁচ রাজ্যের ভোটে কত খরচ করেছে বিজেপি? জানা গিয়েছে, অসম, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোটে তারা ১৬০ কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে এরমধ্যে প্রার্থীদের ব্যয় এবং রাজ্য ও জেলা পার্টির ধরা নেই। কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটের খরচের হিসাব এখনও দেয়নি গেরুয়া শিবির। সেই অঙ্কটা অনেকটাই বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সদ্য শেষ হওয়া পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল আয়ের বহর দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। এত টাকার উৎস কী? কারাই বা বিজেপিকে অত খরচের জন্য অনুদান দিলেন? এসব প্রশ্ন বিরোধীদের। কংগ্রেস বলছে, পরিসংখ্যানই প্রমাণ দিচ্ছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইটি হয়েছে অসম। বিজেপির বিপুল ধনসমর্থনের কাছে অসহায় বিরোধীদের জনসমর্থন। তবে দলের চাঁদার অঙ্ক এত কমল কীভাবে, আত্মসমীক্ষাও শুরু করেছে হাত শিবির।