এল নিনো। এটি একটি স্প্যানিশ শব্দ। যার অর্থ ‘শিশু’। সেই শিশু আবহাওয়ামণ্ডলে নানা গোলযোগ পাকায় নিয়মিত। মোটামুটি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর এল নিনোর প্রভাবে সারা বিশ্বের আবহাওয়াই প্রভাবিত হয়। এবার এল নিনোর প্রভাবে এদেশে ভয়ংকর ক্ষতি হতে পারে কৃষি তথা খাদ্য ভাণ্ডারের! এবারের এল নিনোকে ডাকা হচ্ছে ‘গডজিলা’ এল নিনো বলেও। এহেন নামকরণের নেপথ্যেই রয়ে গিয়েছে ভয়াবহতার আশঙ্কা-মেঘ! প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের হাজার কিলোমিটার দূরে উষ্ণ হয়ে ওঠা জলের একটা অংশেই ‘গোকুলে’ বেড়ে উঠে এবার ভারতের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে চলেছে। এমনটাই জানাচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমেই বলা যাক, ঠিক কী এই এল নিনো? প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পেরুর পাশে ভূপৃষ্ঠের উত্তপ্ত হওয়াকেই এল নিনো বলে। এল নিনোর ধাক্কায় সমুদ্রের তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বেড়ে যেতে পারে। মোটামুটি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর এল নিনোর প্রভাবে সারা বিশ্বের আবহাওয়াই প্রভাবিত হয়। এবার ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম’-এর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি জানিয়েছে, এল নিনো কেবলই একটা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সূচক মাত্র হয়ে থাকছে না। বরং তা এবার দেশের কৃষি, শক্তিক্ষেত্র, পরিবহণ, খাদ্য সংকটে প্রবল প্রভাব ফেলতে চলেছে।
আরও পড়ুন:
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের হাজার কিলোমিটার দূরে উষ্ণ হয়ে ওঠা জলের একটা অংশেই ‘গোকুলে’ বেড়ে উঠে এবার ভারতের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে চলেছে। এমনটাই জানাচ্ছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
আসলে এদেশের প্রায় অর্ধেক কৃষিজমি আজও ফলনের জন্য সেচের চেয়েও বর্ষার উপরই বেশি নির্ভরশীল। ধান, সয়াবিন, কাপাস, ডালও ভুট্টার মতো ফসলের ক্ষেত্রে তাই বৃষ্টির জলই বেশি প্রয়োজনীয়। এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাত কমে গেলে বা দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করলে কৃষকরা বীজ বোনার সময় পিছিয়ে দিতে পারেন। পাশাপাশি যে ধরনের ফসলে কম জল লাগে সেই ধরনের ফসল চাষ করার পরিকল্পনাও করতে পারেন তাঁরা। কিংবা সেচ ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে বাধ্য হতে পারেন। এছাড়া, ফসলের বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে কম বৃষ্টিপাতের সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রার সংমিশ্রণে ফলনও প্রবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার ফলশ্রুতি, অচিরেই খাদ্য সংকটও দেখা দিতে পারে। কেননা এর প্রভাব কেবল কৃষির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
কৃষি উৎপাদন কমে গেলে তা খাদ্য সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে ডাল ও শস্যজাতীয় খাবারের দামও হু হু করে বাড়তে পারে। যার ফলে আমজনতার পকেটেও টান পড়বে। সব মিলিয়ে এল নিনো ধেয়ে আসছে ‘গডজিলা’র মতোই। তাই ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাজ্যসভায় ফের ভাঙল তৃণমূল, সুখেন্দু-সুস্মিতার পর ইস্তফা আরও এক সাংসদের
-
অনগ্রসর শ্রেণির ভুয়ো শংসাপত্র দেওয়া আধিকারিকদের ছাড় নয়, অ্যাকশন মুডে নদিয়ারচাঁদ
-
লক্ষ্য দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, তৃণমূলের পর এবার আরও এক বিরোধী দল ভাঙাচ্ছে NDA!
-
‘ফ্রিতে গাজর দেব’, ‘খরগোশ জনতা পার্টি’ খুলে নিজেকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ ঘোষণা এলভিশ যাদবের
-
বাসকর্মীকে পিটিয়ে খুন টোটো চালকদের! প্রতিবাদে শান্তিপুরের তিনটি রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট