৪ কার্তিক  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: হাতে একটা তালিকা এসেছে। সঙ্গে একটি রেখাচিত্র। সেখানে দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার ফুরফুরে আবহাওয়ায় বসে আজ থেকে চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রমকে বেতার তরঙ্গে সংকেত পাঠানো শুরু করছে নাসার ডিপ স্পেস স্টেশনের (ডিএসএস) দু’টি পেল্লায় অ্যান্টেনা। একটি ডিএসএস ৩৪, দ্বিতীয়টি ডিএসএস ৩৬। দু’টিই কাজ করবে নির্দিষ্ট কয়েক দিন অন্তর। তবে বিক্রমের উপর অনেক আগে থেকেই নজর রাখছে নাসা। ইতিমধ্যে সে খবর বেশ কিছু সূত্রে সামনেও এসেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

[আরও পড়ুন: ল্যান্ডার বিক্রমকে খুঁজতে এবার আসরে নামল নাসা, কী জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা?]

বিক্রমের মুখ থুবড়ে পড়ার পর থেকেই নয়, চন্দ্রযান ওড়ার পর থেকেই ক্যানবেরা, স্পেনের মাদ্রিদ, আর ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ডস্টোন ডিপ স্পেস স্টেশনের ১২টি অ্যান্টেনা দফায় দফায় নজর রেখে চলেছে ইসরোর যানের উপর। ইসরোর এতদিনের নিস্তব্ধতা একপ্রকার বিক্রমের অবস্থা বুঝিয়ে দিয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদে বিক্রমের দুর্ঘটনার পর থেকেই নাসা তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার প্রাথমিক অ্যান্টেনা থেকে তাকে সংকেত পাঠিয়ে চলেছে। কোনও সাড়া মেলেনি। তাতে ইতিমধ্যে একপ্রকার তারা নিশ্চিত করে দিয়েছে, বিক্রমের শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। তবু তাদের আশা, শেষ দিনে ক্ষীণ হলেও একবার সাড়া নিশ্চয়ই দেবে ল্যান্ডার।

তবে আজ থেকে কাজ শুরু করছে শুধুমাত্র ক্যানবেরার দুই যমজ অ্যান্টেনা। দিনের হিসাবে আগামী অক্টোবর মাসের শেষ পর্যন্ত বিক্রমের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করবে নাসা। বিক্রমকে আপাতত শুধু আজকেই ক্যানবেরা থেকে সংকেত পাঠানো হবে। যাকে সিএইচ২এল অর্থাৎ ল্যান্ডার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে এ মাসের ১৫, ১৭ ও ২৪ তারিখে অরবিটার বা সিএইচ২ও-এর সঙ্গে যোগাযোগ করবে নাসা। পরের মাসের ১৬, ২১, ২৪ ও ২৯ তারিখও সিএইচ২ও-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। অন্যদিকে, নাসার নিজস্ব অরবিটার লুনার রিকনাইস্যান্স অরবিটার (এলআরও) যা গত দশ বছর ধরে চঁাদকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে, সেও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিক্রমের খবর নেবে। সংকেত পাঠাবে চন্দ্রযান ২-র অরবিটারের সঙ্গেই।

[আরও পড়ুন: বায়ুমণ্ডলে ছিল পর্যাপ্ত অক্সিজেন, একসময় বসবাসের যোগ্য ছিল মঙ্গল]

বেঙ্গালুরুর ৩২ মিটার ব্যাসের একটি অ্যান্টেনা বিক্রমের উপর নজর রাখছিলই। তবে তার বিম বা সংকেত একেবারে নির্দিষ্টভাবে বিক্রমের শরীর ভেদ করতে পারে। মহাকাশে বা অন্য গ্রহ-উপগ্রহে কোনও যানের আশপাশের অংশেও নজর রাখা প্রয়োজন। নাসার একটি সূত্র বলছে, এই কারণেই তিন মহাদেশে অবস্থিত তাদের তিন অ্যান্টেনার শক্তি প্রয়োজন। যা নিয়ে অনেক আগেই চুক্তিবদ্ধ ভারত ও আমেরিকা। একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঠিক ছিল প্রাথমিকভাবে মাদ্রিদের দু’টি অ্যান্টেনা ডিএসএস ৬৫ চন্দ্রযানের অরবিটারের উপর নজর রাখবে। ডিএসএস ৫৪ নজর রাখবে বিক্রমের উপর। গোল্ডস্টোনের ডিএসএস ২৪ (এল) ও ২৬ (ও) নজর রাখবে রোভারের উপর।
আপাতত তাদের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। ল্যান্ডার, রোভারেরও
খবর নেই। দায়িত্ব বুঝে নিয়ে তাদের খবর জানতে তাই আজ থেকে সক্রিয় হচ্ছে ক্যানবেরার যমজ অ্যান্টেনা।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং