৪ আশ্বিন  ১৪২৬  রবিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে স্বাধীন হয়েছে ‘চন্দ্রযান-২’! বুধবার ভোরে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চাঁদের দিকে বিরাট লাফ দিয়েছে চন্দ্রযান-২। এ যাত্রাপথে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের বেশিরভাগটাই পেরিয়ে যাবে সে। ইসরোর দাবি, এভাবে এগোলে ছয় দিন পর অর্থাৎ আগামী ২০ আগস্টই চাঁদের কক্ষপথে ঢুকে পড়বে। আর সমস্ত কিছু ঠিকঠাক থাকলে ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদের মাটিতে নামবে চন্দ্রযান-২।

[আরও পড়ুন: ইতিহাস তৈরির দোরগোড়ায় ভারত, পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের পথে চন্দ্রযান ২]

এই ২০ আগস্ট অবধি সময়টাই বেশ ঝুঁকিবহুল ইসরোর বিজ্ঞানীদের জন্য। এমনটাই মনে করছেন মহাকাশ গবেষকরা। আসলে একটু এ দিক ও দিক হয়ে গেলে জলে যাবে ১ হাজার কোটি টাকা। তাই উত্তেজনা মিশন কন্ট্রোল রুমে। হিসাবে একটু ভুলচুক হয়ে গেলেই চন্দ্রযান-২’এর আর চাঁদে নামা হবে না! চাঁদের পাশ কাটিয়ে ভারতের মহাকাশযান চলে যেতেই পারে সৌরমণ্ডলের অন্য কোনও দিকে। কোনও অজানা, অচেনা গন্তব্যে। চাঁদ সে ক্ষেত্রে অধরাই থেকে যেতে পারে ভারতের!
বুধবার ১৪ অক্টোবর ভোর রাত, ২টো ২১ মিনিটে পৃথিবীর কক্ষপথ চাঁদের দিকে পাড়ি দেওয়ার এই কাজটি শুরু করে চন্দ্রযান-২। ইসরো জানিয়েছে, এই লাফ দেওয়ার জন্য চন্দ্রযান-২এর লিকুইড ইঞ্জিন ফায়ার করানো হয়। টানা ১২০৩ সেকেন্ড অর্থাৎ প্রায় ২০ মিনিট ধরে জ্বলে ওই লিকুইড ইঞ্জিন। আর তারপরেই পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে সজোরে চাঁদের দিকে লাফ দেয় চন্দ্রযান২।
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পৃথিবী থেকে রওনা হওয়ার দিন পিছিয়ে গিয়েছিল চন্দ্রযান-২’এর। তাই সময়ের ওই ঘাটতি পূরণ করার কাজ মহাকাশেই করছে চন্দ্রযান-২। গত ২৩ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে নিজের গতিবেগ অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে চন্দ্রযান ২। বুধবার পৃথিবী থেকে চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার পর আগামী ২০ আগস্ট যখন চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশের চেষ্টা করবে চন্দ্রযান২ তখনও আরও একবার জ্বলবে লিকু্যইড ইঞ্জিন।
ইসরো জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত সমস্ত কিছু ঠিক পথেই এগোচ্ছে। চন্দ্রযান২—এর স্বাস্থ্যও ভাল রয়েছে। আপাতত চন্দ্রযান২ এর স্বাস্থ্যের খবরাখবর রাখছে বেঙ্গালুরুর ইসরো টেলিমেট্রি, ট্র্যাকিং অ্যান্ড কম্যান্ড নেটওয়ার্ক দফতরের মিশন অপারেশন কমপ্লেক্স। বেঙ্গালুরুর কাছে ব্যালালুতে ইন্ডিয়ান ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের অ্যান্টেনার সাহায্য নিয়ে চন্দ্রযান২ এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ইসরো।

[আরও পড়ুন: ‘সারফেস ওয়াটার পরিশ্রুত করে পানীয় জল সরবরাহ করুন’, জেলা পরিষদকে পরামর্শ মন্ত্রীর]

প্রথমবারের যান্ত্রিক ত্রুটি সামলে গত ২২ জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান স্পেস রিসার্চ সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেয় চন্দ্রযান ২। জিয়ো সিনক্রোনাইজড লঞ্চ ভেহিক্যাল থেকে ‘বাহুবলী’ রকেটের পিঠে চড়ে চন্দ্রযান উড়ে যায় তিনটি অংশ অরবিটর স্যাটেলাইট, বিক্রম ল্যান্ডার এবং প্রজ্ঞান রোভার নিয়ে। তিনটি অংশ মিলিয়ে ওজন ৩৮৫০ কেজি।
ইসরোর বিজ্ঞানীদের দাবি, পৃথিবীর চারধারেই লাট্টুর মতো পাক খাচ্ছিল চন্দ্রযান-২। পৃথিবী এবং চন্দ্রের কক্ষপথে ঘোরার মধ্যে মোট ১৫টি ধাপে শক্তি বাড়ানো হবে। এভাবেই ধীরে ধীরে এগিয়ে দেওয়া হবে চাঁদের দিকে। শেষে চাঁদের মাটিতে নামবে ল্যান্ডার ‘বিক্রম’। অভিকর্ষজ বলের তোয়াক্কা না করে ভারতীয় সময় রাত ২টো ২১ মিনিট নাগাদ পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যায় চন্দ্রযান। বর্তমানে চন্দ্রযান ২ চাঁদের পথে ‘লুনার ট্রান্সফার ট্রাজেকটরি’ তে ঢুকে পড়েছে। কোনও সমস্যা না হলে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যেই চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে যাবে চন্দ্রযান-২।
ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, চাঁদের কক্ষপথের প্রায় ১০০ কিলোমিটার উপরে থাকতেই চন্দ্রযান-২ থেকে বেরিয়ে আসবে ল্যান্ডার বিক্রম। নামবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে৷ চাঁদের মাটিতে ঘুরে ঘুরে ছবি ও তথ্য পাঠাবে ল্যান্ডার বিক্রম।
১৪ দিন ধরে চাঁদের আধ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঘুরবে ওই রোভারটি। সূর্যের আলো না পৌঁছনো চাঁদের অংশ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাবে চন্দ্রযানের রোভার।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং