৫ আশ্বিন  ১৪২৬  সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়, বেঙ্গালুরু: ১.৪০ মিনিট থেকে ১.৫৫ মিনিট। আজ গভীর রাতের এই ১৫ মিনিট নিয়েই মহা টেনশনে ইসরোর বিজ্ঞানী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে আম ভারতবাসী। এই সময়েই চাঁদের মাটি ছোঁবে চন্দ্রযান বিক্রম।

ইসরো জানিয়েছে, শুক্রবার রাত একটা থেকে দু’টোর মধ্যে চন্দ্রপৃষ্ঠের পথে নামা শুরু করবে বিক্রম। চাঁদের মাটি স্পর্শ করবে রাত দেড়টা থেকে আড়াইটের মধ্যে। তবে অবতরণের শেষ ১৫ মিনিটকেই সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বলে উল্লেখ করেছেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিভান। দুশ্চিন্তার মুহূর্ত শুরু হবে রাত ১টা ৪০ মিনিটে। সব কিছু ঠিক থাকলে চাঁদের মাটিতে ভারতীয় বিক্রমের পা পড়বে দু’টো বাজতে ঠিক পাঁচ মিনিট আগে। তারপরই রাশিয়া, আমেরিকা, চিনের পর ইতিহাস তৈরি করবে ৯৭৮ কোটি টাকার ‘চন্দ্রযান ২’ মিশন। এর ১৫ মিনিট পর চাঁদের ওই অঞ্চলের প্রথম ছবি তুলে পাঠাবে বিক্রম ল্যান্ডার। তার আগে বেঙ্গালুরুতে ইসরোর টেলিমেট্রি ট্র্যাকিং অ্যান্ড কম্যান্ড নেটওয়ার্কের সদর দপ্তরে শুক্রবার সকাল থেকে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি।

গোটা বিশ্বের নজর আজ বিক্রমের উপর। চাঁদ ও চন্দ্রযান নিয়ে ক্যুইজ জেতা জনা ষাটেক স্কুল পড়ুয়াকে নিয়ে এদিন রাতে এখানে হাজির থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার দুপুরে টুইটারে লেখেন, “২২ জুলাই চন্দ্রযান ২ উৎক্ষেপণের পর থেকেই নিয়মিত আপডেট রাখছি। সবাইকে অনুরোধ করি, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান ২-এর অবতরণের মুহূর্ত দেখুন। নিজেদের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দিন। সেই সব ছবির কিছু আমিও রিটুইট করব।”

[আরও পড়ুন: এনআরসির ‘ক্ষত’! তালিকায় নাম নেই মিশন চন্দ্রযানের অন্যতম উপদেষ্টা বিজ্ঞানীর]

শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে ছ’টার মধ্যে সৌরশক্তিতে বলীয়ান প্রজ্ঞান রোভার বেরিয়ে আসবে বিক্রমের পেট থেকে। বিক্রম, প্রজ্ঞানের গায়ে আঁকা তেরঙ্গা, অশোকচক্র চকচক করবে চাঁদের বুকে। বিক্রমের যে অংশের উপর দেশের গৌরব নির্ভর করছে, চাঁদে তার অবতরণের জন্য দু’টি জায়গা বাছা রয়েছে। প্রথম, ম্যানজিনাস আর সিমপেলিয়াস নামে দু’টি বড় গহ্বরের মধ্যবর্তী সমতল অংশ। দক্ষিণ মেরুর সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার উত্তরে। দ্বিতীয় জায়গাটি আরও কিছুটা দক্ষিণে ঘুরে একটি উপত্যকাসম এলাকা। ইসরোকে ছবিতে সবটা বুঝিয়ে ৩৫ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে চাঁদের মাটির দিকে রওনা দেবে বিক্রম। ১০০ মিটার দূরত্ব থেকে হবে চূড়ান্ত অবতরণ। এই অভিযানের নাম ‘উওরিড টাচডাউন’। প্রচণ্ড টেনশন, আতঙ্কের সেই অবতরণের দৃশ্য, গায়ে কাঁটা ধরানো সেই অভিজ্ঞতা লাইভ দেখাবে বিক্রম। অবতরণ নিয়ে কেন এত টেনশন?

Isro
ছবি সৌজন্যে ইসরো

ইসরো জানাচ্ছে, এই অঞ্চলে আগে কেউ কখনও নামেনি। অনাবিষ্কৃত এমন এলাকায় অপেক্ষা করে থাকতে পারে নানা অভিজ্ঞতা। থাকতে পারে এবড়োখেবড়ো পাহাড়, উপত্যকা, খাড়াই খাদ, এমনকী, অজানা গভীর গহ্বর। যেখানে এমনই ‘সফট ল্যান্ড’ করতে গিয়ে আছাড় খেয়ে পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ইজরায়েলের চন্দ্রযান। তাই এত হিসেব-নিকেশ। হিসেব মিলে গেলে বাকিটাও কেল্লা ফতে।

শেষ পথটুকু ১৩ সেকেন্ডে নেমে পাখির পালকের মতো চাঁদের মাটি ছোঁবে বিক্রম। এই কাজটা সহজ নয় বলেই ইসরো একাধিকবার এমন অবতরণের পরীক্ষা চালিয়েছে বিক্রমকে নিয়ে। সেই পরীক্ষা হয় বেঙ্গালুরুর এক পাথুরে জমিতে। তামিলনাড়ুর নামাক্কল থেকে মাটি এনে প্রথমে কৃত্রিম চন্দ্রপৃষ্ঠ তৈরি করা হয়েছিল। কারণ, এই মাটিতে এনোর্থোসাইট নামে এক ধরনের আগ্নেয়শিলা রয়েছে, যার সঙ্গে চন্দ্রপৃষ্ঠের খুব মিল। ফলে চাঁদের মাটিতে বিক্রমের নামার কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে প্রশ্ন, বাস্তব অভিজ্ঞতা আর হোমওয়ার্কের তফাতের। চাঁদের হালকা মাধ্যাকর্ষণই সবচেয়ে বড় অন্তরায় হতে পারে বিক্রমের কাছে। সমস্যা হতে পারে বাস্তবের চাঁদের মাটিও। কারণ তার পরতে কী আছে তা জানা নেই বিক্রমের।

বুধ ও বৃহস্পতিবার পরপর দু’দিন চাঁদকে ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে বেশ ক’বার দেখে নিয়েছে বিক্রম। আজ সন্ধ্যায় সেখান থেকেই তার অবতরণ শুরু হবে। ইসরোর এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, “এই উচ্চতা থেকে নির্ধারিত প্রথম জায়গায় অবতরণ করার হিসেবনিকেশ বিক্রমের জানা। নিজেই কিছু ছবি আর তথ্য মিলিয়ে পরিস্থিতি তার আয়ত্তে মনে হলে সেই জায়গাতেই বিক্রম নামা শুরু করবে।” ১০০ মিটারের মধ্যে নেমে কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়াবে বিক্রম। এই সময় থেকেই সে নামবে সোজাসুজি। ঠিক ওই দুই গহ্বরের মাথার উপর থেকে তাদের পর্যবেক্ষণ করবে। গহ্বর দুটির মধ্যে দূরত্ব দেড় কিলোমিটারের। তাদের মাঝের সমতলভূমিতে নামা সম্ভব হলে শুরু হবে ‘ফাইনাল ডিসেন্ট’।

[আরও পড়ুন: শেষ ১৫ মিনিটে রয়েছে চোখ, আজ গভীর রাতে চাঁদের পিঠে বিক্রম]

প্রথম যখন ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে বিক্রমের নামা শুরু হবে, ১০ মিনিটে সাড়ে সাত কিলোমিটার দূরত্বে নেমে আসবে সে। পরের ৩৮ সেকেন্ডে নামবে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে। তারপর ৮৯ সেকেন্ড সময় নেবে ৪০০ মিটার দূরত্বে নেমে আসতে। এখানে একটু থেমে তার বেশ কিছু তথ্য জোগাড়ের পালা। তারপর আরও ৬৬ সেকেন্ড নিয়ে নেমে আসবে ১০০ মিটারের মধ্যে। ইসরো জানাচ্ছে, প্রথম ও দ্বিতীয় দুটি ল্যান্ডিং সাইটেই সূর্যের আলো মাত্র ৬ ডিগ্রি কোনাকুনিভাবে এসে পড়ে। যার জেরে কোনওভাবেই সৃষ্টির আদিকালের চিহ্ন সেখান থেকে মুছে যাওয়া সম্ভব নয়। এই জায়গা থেকেই পরপর কিছু ছবি তুলে ইসরোকে পাঠাবে বিক্রম। পছন্দ করবে অবতরণের চূড়ান্ত জায়গা।

এই পর্বের অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসরোরই আরেক বিজ্ঞানী। বলছেন, “বিক্রম যদি প্রথম পছন্দের জায়গায় নামতে পারে তবে ৬৫ সেকেন্ডে ১০০ মিটার থেকে চাঁদের পিঠের ১০ মিটারের দূরত্বে সরাসরি নেমে পড়বে সে। আর যদি দ্বিতীয় পথে নামতে হয়, সে পথে বিক্রম ৪০ সেকেন্ড সময় নেবে ৬০ মিটার উচ্চতায় নামতে। তার পরের ২৫ সেকেন্ডে নামবে আরও ৫০ মিটার। বাকি থাকবে সেই ১০ মিটার।” 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং