Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
বঙ্গোপসাগর

বিশ্বের ২৬ ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তিস্থল বঙ্গোপসাগরই, জানেন কেন?

ছমাসের ব্যবধানে পরপর দুটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সাক্ষি রইল বাংলা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২০, ১৫:০০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২০, ২০২০, ১৫:০০

options
link
বিশ্বের ২৬ ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তিস্থল বঙ্গোপসাগরই, জানেন কেন? zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আর কয়েকঘণ্টার মধ্যে বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে আমফান। আরও একবার উসকে দিচ্ছে আয়লা, ফনী বা বুলবুলের স্মৃতি। মাত্র ছমাসের ব্যবধানে পরপর দুটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সাক্ষি রইল বাংলা। বুলবুল ও আমফান। যা চিন্তা বাড়াচ্ছে পরিবেশবিদদের। তাঁদের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ সালে বাংলাকে তছনছ করেছিল আয়লা। এর ১০ বছর পর ২০১৯ সালে ধেযে এসেছে বুলবুল। অথচ মাত্র ছয়মাসে ব্যবধানে আরও এক সুপার সাইক্লোনের তাণ্ডবের আশঙ্কায় কাঁপছে বাংলা উপকূল।

বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে বাস করে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ। বিশ্বের ইতিহাসে যতসব ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হেনেছে, তার বেশিরভাগই হয়েছে এই বঙ্গোপসাগরে।পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ৩৫টি মৌসুমি ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে ২৬টি ঘূর্ণিঝড়ই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে। আমফান বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ২৭ নম্বর সুপার সাইক্লোন।ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘূর্ণিঝড়টি যখন উপকূলে আঘাত হানবে, তখন এটি ভয়ঙ্কর শক্তিশালী হয়ে উঠবে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার। গত বছর আরব ও বঙ্গোপসাগর মিলিয়ে মোট আটটি ঘূর্ণিঝড় দেখা গিয়েছে। যার মধ্যে ছটিই সুপার সাইক্লোন। আবার ২০২০ সালের প্রথম ঘূর্ণিঝড়টিই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া সুপার সাইক্লোন। বাংলায় এত ঘনঘন সুপার সাইক্লোনের আনাগোনা কিন্তু আবহাওয়াবিদদের চাপ বাড়াচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০২ সালের পর ২০০৯ সালে বাংলায় হানা দিয়েছিল। আয়লা। নিয়ম মেনে তার ১০ বছর পর বুলবুল। কিন্তু তারপর বছর ঘোরার আঘেই আমফানে কাঁপছে এই রাজ্যে।

Advertisement

[আরও পড়ুন : প্রাণ বাঁচাতে ত্রাণ শিবিরে যেতে নারাজ, শেষ সম্বল আঁকড়ে ভাঙা বাড়িতেই সুন্দরবনের বহু মানুষ]

আবহাওয়াবিদদের মতে, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে অবতল আকৃতির অগভীর উপসাগরে। এ রকম ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ হচ্ছে বঙ্গোপসাগর। তবে বঙ্গোপসাগরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও বাড়তি কিছু বৈশিষ্ট্য। যেমন সমুদ্রের উপরিতল বা সারফেসের তাপমাত্রা। বলছেন ভারতের আবহাওয়া দফতরের প্রধান ডি মহাপাত্র। এটি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। তাঁর কথায়, বঙ্গোপসাগর খুবই উষ্ণ। আর এ উপকূলজুড়ে যে রকম ঘনবসতি, সেটি ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্বের প্রতি চারজন মানুষের একজন থাকে বঙ্গোপসাগর উপকূলের দেশগুলোতে।

[আরও পড়ুন : ঘরে ফিরতে লাখ টাকা খরচ! মহারাষ্ট্র থেকে বাংলায় ফিরে সর্বস্বান্ত হলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা]

বঙ্গোপসাগরে বা আরব সাগরে যেসব ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, প্রতি ১০ বছরে তার মাত্র একটি হয়তো এ রকম প্রচণ্ড ক্ষমতা বা শক্তির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়।

  • ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের ভোলায় যে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল, সেটি ছিল বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়। এতে মারা গিয়েছিল প্রায় ৫ লাখ মানুষ। এই ঘূর্ণিঝড়ের সময় যে জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল, তার উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৪ মিটার বা ৩৪ ফুট।
  • ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশে উপকূলে আছড় পড়েছিল। তাতে প্রায় এওক লাখ ৩৮ হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছিল।
  • ১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড়ে তছনছ হয়েছিল ওড়িশা। মৃত্যু হয়েছ্িল ১০ হাজার মানুষের।
  • ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোনের তেজ দেখেছিল বাংলাদেশ।
  • ২০০৮ সালের মে মাসে মায়ানমারের উপকূলে আঘাত হেনেছিল সাইক্লোন নার্গিস। সেই সাইক্লোনে অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল এবং ২০ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছিল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.