সে এক আদিম পৃথিবী। থরথর করে মাটি কেঁপে উঠত বারবার। অতিকায় সব দানবসদৃশ প্রাণীদের পায়ের ভারে। সেই অতীত দুনিয়ার এক দানব যদি আবার হাঁটে আজকের পৃথিবীর বুকে। কোনও কল্পবিজ্ঞান ছবির গল্প নয়, এমনটাই ঘটতে চলেছে বাস্তবে। বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাহায্যে আবারও সেই অতিকায় হাতিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে। মার্কিন জৈব প্রযুক্তি সংস্থা কলোসাল বায়োসায়েন্সেসের উদ্যোগে এমনই এক গবেষণা চলছে। আশা, শিগগিরি সফল হবেন গবেষকরা। কিন্তু ঠিক কীভাবে সম্ভব হবে এই ‘অসম্ভব’?
বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েকটি ম্যামথের দেহাবশেষ থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ খতিয়ে দেখেছেন। দেখা গিয়েছে, ডিএনএ-র ক্রম বা সিকোয়েন্সের সঙ্গে তাদের নিকটতম জীবিত আত্মীয় এশীয় হাতির জিনোমের তুলনা করছেন। দুই প্রজাতির ডিএনএ-র প্রায় ৯৯.৬ শতাংশই অবিকল এক। কিন্তু পার্থক্যও রয়েছে। ঘন লোম, ছোট কান, চর্বি ধরে রাখার ক্ষমতা, মাথার খুলির গঠন এবং শীতের পরিবেশে টিকে থাকার উপযোগিতার মতো বৈশিষ্ট্যগুলি আলাদা।
আরও পড়ুন:
গবেষকরা তাই ‘ক্রিসপার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এশীয় হাতির জিনোমের নির্দিষ্ট কিছু অংশ নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। ম্যামথের সম্পূর্ণ জিনোম প্রতিস্থাপন না করে ডিএনএ-তে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনাই লক্ষ্য তাঁদের। ফলে এর মাধ্যমে যে প্রাণীটি সৃষ্টি হবে, তা ৪ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণকারী কোনও ম্যামথের হুবহু জিনগত প্রতিলিপি হবে না। বরং এটি হবে এমন এক প্রকৌশল-সৃষ্ট জীব, যার মধ্যে ম্যামথের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটিয়ে তোলার নকশা করা হয়েছে।
আর এই কাজেও নেপথ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা! এআই এবং মেশিন-লার্নিং সিস্টেম এই বিশাল ডেটাসেটগুলোর প্রক্রিয়াকরণে এবং এমন সব প্যাটার্ন শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, যা হাতে-কলমে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কলোসাল জানাচ্ছে, তারা জটিল জৈবিক ডেটা বিশ্লেষণ করতে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
উপনির্বাচনের আগেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে হুমায়ুন? রেজিনগরে নয়া সমীকরণ!
-
গান্ধীজয়ন্তীতে মহাচমক! বাপুকে স্মরণ করে ‘জাতির জনক’ অবতারে এলেন মনোজ বাজপেয়ী
-
সোশাল মিডিয়ায় জাত তুলে গালি, তফসিলি জাতি-উপজাতি আইনে বিচার হবে, রায় কলকাতা হাই কোর্টের
-
১৯৬৭-তে চন্দননগরে আসেন সন্ন্যাসী সুভাষচন্দ্র! কেউ জানত না?
-
অবশেষে খুলল পাক আকাশসীমা, মধ্যরাতেই ঢাকা পৌঁছবে রুশ পরমাণু জ্বালানি