Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ৭ জুলাই ২০২৬
Himalayan Marmots

দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে লাদাখের মারমট, পর্যটকদের ‘পশুপ্রেম’ই ডেকে আনছে বিপদ?

চিপস-বিস্কুট-কেকে যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, তেল, কৃত্রিম স্বাদবর্ধক ও প্রিজারভেটিভ থাকে, তা মারমটের স্বাভাবিক পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ১৬:৩৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৬, ১৬:৩৩

options
link
দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে লাদাখের মারমট, পর্যটকদের ‘পশুপ্রেম’ই ডেকে আনছে বিপদ? zoom
মারমটদের অবাধে কেক-বিস্কুট খাওয়ান পর্যটকেরা।

হঠাৎ দেখলে মনে হয় পেল্লায় আকারের কাঠবেড়ালি যেন! লাদাখের জনবিরল পার্বত্য এলাকায় ঘুরতে গিয়ে পর্যটকদের প্রায়শই মোলাকাত হয়ে যায় এই অদ্ভুতদর্শন প্রাণীটির সঙ্গে, যার নাম মারমট। মানুষের সঙ্গে মেলামেশায় তেমন আপত্তি দেখা যায় না মারমটের। মানুষের দেওয়া বিস্কুট-কেক সোৎসাহে গ্রহণ করে বরং। কামড় বসিয়ে কুটুরমুটুর খায়। মানুষ এই মজার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে, ছড়িয়ে দেয় সোশাল মিডিয়ায়। আর তাতেই বেধেছে বিপত্তি। পর্যটকদের এই আচরণে দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে মারমটের দল!

হয়তো ভাবছেন, ক্ষুধার্ত পশুকে খাবার দেওয়াই তো মানবিক আচরণ। কিন্তু না, আদতে এই গল্প খানিক আলাদা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
nature activists urge tourists not to feed marmots in Ladakh
হিমালয়ান মারমট।

সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এক ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্যাংগং হ্রদের পথে এক ব্যক্তি পর্যটকদের তীব্রভাবে বাধা দিচ্ছেন মারমটদের প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ানোতে। বারবার অনুরোধ করছেন, ‘ছবি তুলুন, দূর থেকে দেখুন, কিন্তু ওদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নষ্ট করবেন না।‘ ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দায়িত্বশীল পর্যটন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

কেন মারমটদের খাওয়ানো বিপজ্জনক?

হিমালয়ান মারমট (Himalayan Marmot) মূলত একটি তৃণভোজী স্তন্যপায়ী প্রাণী। তারা পাহাড়ি ঘাস, ভেষজ উদ্ভিদ, শিকড়, ফুল ইত্যাদি খেয়ে বেঁচে থাকে। চিপস-বিস্কুট-কেকে যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি, তেল, কৃত্রিম স্বাদবর্ধক ও প্রিজারভেটিভ থাকে, তা মারমটের স্বাভাবিক পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, ধীরে ধীরে তারা প্রাকৃতিক উপায়ে খাদ্য সংগ্রহের অভ্যাস হারিয়ে, মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

এক সময় লাদাখে রাস্তার ধারে দূর থেকে মারমট দেখা যেত। এখন বহু পর্যটক গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। খাবার দেখিয়ে কাছে ডেকে সেলফি তোলেন, ভিডিও-রিল বানান। এর ফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মারমটকে অনেকেই শুধু ‘কিউট’ প্রাণী হিসেবে দেখেন। কিন্তু বাস্তবে তারা লাদাখের উচ্চভূমির বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা মাটির নিচে বিস্তৃত গর্ত তৈরি করে, যার ফলে মাটিতে বায়ু চলাচল বাড়ে এবং মাটির গুণগত মান উন্নত হয়। সেই গর্ত পরবর্তীকালে অন্যান্য ছোট প্রাণীও ব্যবহার করে। তাছাড়া তুষারচিতা, তিব্বতি নেকড়ে, শিকারি পাখি ও শিয়ালের মতো বহু প্রাণীই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে মারমটদের। ফলে মারমটের সংখ্যা বা আচরণে পরিবর্তন সমগ্র খাদ্যশৃঙ্খলকে প্রভাবিত করে।

nature activists urge tourists not to feed marmots in Ladakh

গত এক দশকে লাদাখে পর্যটকের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। বেড়েছে প্লাস্টিক আবর্জনা, দূষণ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে মানুষের অনুপ্রবেশের মতো সমস্যা। ভারতে হিমালয়ান মারমট বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের আওতায় সুরক্ষিত। তাই অন্যান্য যে কোনও বন্য প্রাণীর মতোই মারমটদেরকেও দেওয়া যাবে না মানুষের ভোজ্য খাবার, বারবার অনুরোধ করছে সংশ্লিষ্ট বন্যপ্রাণী দপ্তর।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.