Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Number of fishing cats increased at Sundarbans

রয়্যাল বেঙ্গলের ডেরায় বাড়ছে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী, সুন্দরবনে খোঁজ মিলল ৩৮৫টি বাঘরোলের

চিলকার জঙ্গলে সর্বপ্রথম বাঘরোল গণনা করা হয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২২, ১৩:৫৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২২, ১৩:৫৫

options
link
রয়্যাল বেঙ্গলের ডেরায় বাড়ছে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী, সুন্দরবনে খোঁজ মিলল ৩৮৫টি বাঘরোলের zoom

দেবব্রত মণ্ডল, সুন্দরবন: শুধু বাঘ নয়, এবার বাঘরোল গণনার পরিসংখ্যান আসল সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে। বাঘের জন্য বসানো জঙ্গলের ছবি তোলায় ক্যামেরায় ধরা পড়লো ৩৮৫টি বাঘরোল। যা ভারতবর্ষের জঙ্গলে বাঘরোল গণনার দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে চিলকার জঙ্গলে সর্বপ্রথম বাঘরোল গণনা করা হয়। শুধু সুন্দরবনের বাঘ নয়। বাঘের বাইরে যে আরও যে সমস্ত প্রাণী আছে সেগুলো গণনা শুরু করেছে বনদপ্তর। যাদের মধ্যে বাঘরোল অন্যতম প্রাণী। এর আগে কুমির গণনা করা হয়েছিল সুন্দরবনের নদীতে। এবার সুন্দরবনের জঙ্গলের মধ্যে বাঘরোল গণনা করা হল।

Fishing Cat

Advertisement

গত বছর ৭ থেকে ১৪ই ডিসেম্বর সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে ক্যামেরা বসিয়ে চলে বাঘ গণনার কাজ। আর এই বাঘের জন্য বসানো ক্যামেরায় ধরা পড়ে বিভিন্ন প্রাণীর ছবি। তাই বনদপ্তর সিদ্ধান্ত নেয় এই ক্যামেরার মধ্যে জমা হওয়া সমস্ত বাঘরোলের ছবি গণনা করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত মতো উঠে আসে বাঘরোলের একটি পরিষ্কার চিত্র। ইতিমধ্যেই যে সমস্ত প্রাণীগুলিকে বিরল প্রজাতির তালিকায় ধরা হয়েছে তার মধ্যে বাঘরোল অন্যতম।

Fishing-Cat

বাঘরোলকে ইংরাজিতে বলা হয় ফিশিং ক্যাট। গ্রামে অনেকেই মেছো বিড়াল (Fishing Cat) হিসেবেই চেনেন। গ্রামবাংলায় বাঘরোল ঢুকে পড়লে পিটিয়ে মারার ঘটনা ঘটে প্রায়ই। তাই স্থানীয়দের বাঘরোল সম্পর্কে সচেতন করতে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বনদপ্তর। বাঘরোল গণনা করে এই প্রাণীটি সম্পর্কে মানুষকে আলাদা ধারণা দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, এই প্রাণী বাঁচাতে কি কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাও ইতিমধ্যেই বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

[আরও পড়ুন: জ্যোতি বসুর উদ্বোধন করা বামভবনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান! ‘ভোট পাওয়ার চেষ্টা’, কটাক্ষ তৃণমূলের]

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জাস্টিনস জোন্স বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই ৩৮৫ টি বাঘরোলের সন্ধান পেয়েছি সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে। এই বিরল প্রাণী সম্পর্কে মানুষকে সচেতনতা দেওয়াই আমাদের উদ্দেশ্য। যে সমস্ত এলাকায় জলাশয় আছে এবং জঙ্গল ও ঝোপ থাকে সেখানেই বাঘরোলের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু ইদানিং যেভাবে মানুষের জনবসতি গড়ে উঠছে তাতে বাঘরোলের জীবন সংশয় শুরু হয়েছে।

সুন্দরবনের জঙ্গলে একদিকে যেমন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, পাখি সবই দেখতে পাওয়া যায় অন্যদিকে তেমনি আছে বিভিন্ন প্রাণী। চিতল হরিণ, বাঁদর ,গোসাপ, কুমির সবই সুন্দরবনের বন্যপ্রাণীর অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সমস্ত প্রাণী গণনা করা সম্ভব হয় না বনদপ্তরের পক্ষ থেকে। বাঘের মতোই তাই বাঘরোলকে গণনা করার সিদ্ধান্ত নেয় বনদপ্তরের কর্মীরা। যা ইতিমধ্যেই ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বাঘরোল গণনা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষের বন্যপ্রাণী বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বাঘ সংকল্প নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

Fishing-Cat

বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘শের’ এর উদ্যোগে সুন্দরবনের পাখিরালা দ্বীপে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যেখানে একটি লাইব্রেরি করা হয়েছে। ওই লাইব্রেরিতে থাকা বই নিয়ে পড়াশোনা করে প্রয়োজনে বাঘ ও বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পারবেন স্থানীয় স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ জয়দীপ কুণ্ডু বলেন, “বাঘরোল বাঁচাতে স্থানীয় মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘরোলের সংখ্যা কত, তা ক্যামেরার মাধ্যমে দেখা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই প্রাণীটি সম্পর্কে মানুষের আরও বেশি সচেতনতা বাড়াতে হবে।”

[আরও পড়ুন: ডিজে ঠেকাতে সাউন্ড লিমিটার চান পরিবেশবিদরা, পিকনিকের মরশুমে আগাম সতর্কতার দাবি]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.