৩২ শ্রাবণ  ১৪২৬  রবিবার ১৮ আগস্ট ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: মাঝ শ্রাবণেও সেভাবে বৃষ্টির দেখা নেই। জেলাজুড়ে কার্যত অনাবৃষ্টির ছবি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জল সংরক্ষণে অভিনব পরিকল্পনা পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের৷ তৈরি হচ্ছে ‘পন্ড ব্যাংক’৷ জঙ্গলমহলের এই জেলার জলাশয়গুলি চিহ্নিত করতে ব্লক স্তরে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে৷

[আরও পড়ুন:বিজেপি কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ অ্যাম্বুল্যান্স চালকদের]

জল সংরক্ষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত প্রকল্প ‘জল বাঁচাও জীবন বাঁচাও’৷ আর তার অধীনেই পুরুলিয়ায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন৷ এভাবে জল সংরক্ষণ করে চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য৷ সেই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার আর্থ–সামাজিক পরিস্থিতি বদলে দিতে এই জলাশয়গুলিতে মাছ চাষের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে৷ যাতে গ্রামীণ অর্থনীতি কিছুটা চাঙ্গা হতে পারে৷ পুরুলিয়ার জেলাশাসক রাহুল মজুমদার বলেন, ‘জেলাজুড়ে কোথায় কোথায় জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে, সেই তালিকা আমরা তৈরি করছি। যাতে এই জলকে সংরক্ষণ করে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। বৃষ্টি না হওয়ায় জেলায় ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা জলাশয়গুলি থেকে চাষাবাদের কাজে জল দেওয়া যায় কিনা, সেটাও দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে যেখানে জলাশয় রয়েছে, সেখানে মাছ চাষ কতটা উপযোগী এই বিষয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা চলছে।’

রাজ্যে পালাবদলের পর ‘জল ধরো জল ভরো’ প্রকল্পকে সামনে রেখে ২০১৩–১৪ আর্থিক বছর থেকে ২০১৬–১৭ আর্থিক বছর পর্যন্ত এই জেলায় প্রায় সব ব্লকেই একাধিক চেক ড্যাম তৈরি হয়। এই চেক ড্যাম নির্মাণের ফলে রুখাশুখা এই জেলায় চাষাবাদের কাজে সহায়তা মিলেছে। কিন্তু বেশ কিছু ব্লকে সঠিকভাবে পরিকল্পনা ছাড়াই চেক ড্যাম তৈরি হওয়ায় সেখানে জল ধরে রাখা যায় না। তাই জেলা প্রশাসন এই অনাবৃষ্টিতে একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে ‘পন্ড ব্যাংক’ তৈরি করে বোঝার চেষ্টা করছে, জলাশয়ে যা জল আছে, তা এই অনাবৃষ্টিতে পর্যাপ্ত কিনা। না হলে শুধু পানীয় জলই নয়, গৃহস্থলির কাজে ব্যবহারের জন্য প্রশাসনকে ট্যাঙ্কারে করে জরুরিকালীন ভিত্তিতে জলবণ্টনের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।

[আরও পড়ুন: রাজ্যে প্রথম ডেঙ্গুর বলি, হাবড়ায় মৃত্যু ১ প্রাথমিক শিক্ষকের়]

জেলার জলাশয়গুলির তালিকা তৈরি করতে বিভিন্ন ব্লকে মৎস্য দপ্তর-সহ পঞ্চায়েতের কর্মীদের কাজে লাগানো হচ্ছে। পঞ্চায়েত ভিত্তিক ব্লকে ব্লকে জলাশয়ের তালিকা জিআইএস ম্যাপিং-সহ একসঙ্গে জেলা প্রশাসনের দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপে জলাভূমি ভরাট করার মত বেআইনি কাজও খুব সহজেই বন্ধ করা যাবে বলে আশাবাদী পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন৷

ছবি: অমিত সিং দেও৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং