একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। উলটে গত কয়েকদিন আগে শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গে একইদিনে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। এরপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, উত্তরবঙ্গ কি ছোট নাগপুর মালভূমি অঞ্চলের মতো বজ্রপাতের ‘হটস্পট’ হয়ে উঠছে!
গত বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বাজ পড়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুরে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। জলপাইগুড়িতে এক বিএসএফ জওয়ান-সহ দু’জন এবং কোচবিহারের হলদিবাড়িতে একজন মারা গিয়েছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে উত্তরে বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। শুধুমাত্র মালদহে ১১ জনের প্রাণ কেড়েছে বাজ। এবার ঝড়বৃষ্টি শুরু হতে একদিনে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। জখম হয়েছেন অন্তত সাতজন। যেভাবে বজ্রপাত বেড়ে চলেছে সতর্ক না হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা গত বছরের চেয়েও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা আবহাওয়াবিদ মহলের।
আরও পড়ুন:
সাধারণত উত্তরে পুরোদমে বজ্র-বিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি শুরু হয় জুন মাস থেকে। এবার মে মাস থেকেই ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপের জেরে স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরির জেরে শুরু হয়েছে ঝড়বৃষ্টির দাপট। পাশাপাশি মেঘ কাটতে প্রখর হচ্ছে রোদের তাপ। এবারও মে মাসে আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রবণতা বেড়েছে। কিন্তু ঝড়বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় কমেনি তাপমাত্রা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে সব মিলিয়ে বজ্রপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে উত্তরে। আবহাওয়াবিদ গোপীনাথ রাহা বলেন, “রোদ, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, ঘুর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপের উপস্থিতি আবহাওয়ার চরিত্র পালটে দিয়েছে।” তিনি জানান, আবহাওয়া দপ্তরের তরফে প্রতিদিন সতর্ক করা হচ্ছে আকাশে মেঘ থাকলে, ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি দেখা দিলে খোলা মাঠ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে হবে। ওই সতর্কতা অনেকেই কানে তুলছেন না জন্য দুর্ঘটনা ঘটছে। আবহাওয়া দপ্তরের কর্তারা জানান, বজ্রপাত সাধারণত বিকেলের পর বেশি হয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার সেটাই হয়েছে। ওই দিন বিকেলের পর থেকে প্রবল ঝড়বৃষ্টি সহ বজ্রপাত শুরু হয়। যারা প্রাণ হারিয়েছেন প্রত্যেকে বাইরে ছিলেন।
উত্তরে বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার ঘটনা নজর কাড়ে ২০১২ সালে। ওই বছর বজ্রপাতে ১৫০ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২০২৪ সালে মাত্র তিনদিনে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে তেরোজনের। জখম হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। চলতি বছরে অনেক আগে বজ্র-বিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টি শুরু হলেও দুর্ঘটনা মে মাসে কম ছিল। জুন মাসের শুরুতে বেড়ে যায়। তুলনামূলকভাবে এবার বজ্রপাত বেড়েছে। বিহার দীর্ঘদিন থেকে দেশের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ রাজ্য অর্থাৎ বজ্রপাত ও বজ্রপাতজনিত মৃত্যুর ‘হটস্পট’। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে তবে কি আবহাওয়া পরিবর্তনের জেরে উত্তরবঙ্গ সেই পথে এগোচ্ছে?
সমীক্ষা রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরের মার্চ মাস থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের ১২টি রাজ্যে বজ্রপাতে ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এপ্রিল মাসের প্রথম ১৭ দিনে ১৪২ জনের প্রাণ কেড়েছে বজ্রপাত। ওই দুর্ঘটনা ২০২৪ সালের এপ্রিলের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। বিশেষজ্ঞদের কয়েকজন জানান, বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ যে বজ্রপাতের সংখ্যা বৃদ্ধি সেটা পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট। ২০১৯-২০২০ সালে দেশে বজ্রপাতের সংখ্যা ছিল ১.৩৮ কোটি। ২০২১ সালে সংখ্যাটা বেড়ে হয় ১.৮৫ কোটিতে। অর্থাৎ, এক বছরে বজ্রপাতের সংখ্যা বেড়েছে ৪৬.৮৩ লক্ষ। কেন এমনটা হচ্ছে? গবেষকদের দাবি, গরম ভূপৃষ্ঠ এবং বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প থাকায় উত্তরে বজ্রপাত ক্রমশ বাড়ছে।
সর্বশেষ খবর
-
এসআইআর করে ‘ভোট লুট’, শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবি, এবার প্রধান বিচারপতিকে চিঠি ‘ইন্ডিয়া’র!
-
সরকারি জমি দখল করে তৃণমূলের অফিস! বুলডোজারের ভয়ে দেওয়াল থেকে ‘ভ্যানিশ’ মমতার ছবি
-
ঋতব্রত নাকি শোভনদেব, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কে? জল গড়াল হাই কোর্টে
-
আজই কলকাতায় পুরসভায় প্রশাসক, কাউন্সিলরদের হাতেই থাকছে সার্টিফিকেট জারির ক্ষমতা
-
মুখে হাসি মধ্যবিত্তের, এক ধাক্কায় অনেকটা কমল সোনার দাম, তবে বড় পতন শেয়ার বাজারে