সুমিত বিশ্বাস: পাহাড়ের মত জমে থাকা আবর্জনার স্তূপের ছবিটা রাজ্যের যত্রতত্রই চোখে পড়ে। কিন্তু এবার তার দিন শেষ। ডাম্পিং গ্রাউন্ড ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য, জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে। ‘নির্মল বাংলা’র লক্ষ্যে রাজ্যের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, পুরসভা, এমনকী গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরেও চালু হচ্ছে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট।
রাজ্যের ১২৬টি পুর প্রতিষ্ঠান-সহ আপাতত ৬৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে পড়ে থাকা আবর্জনা থেকে বায়ো গ্যাস বা জৈব সার তৈরি করবে রাজ্য সরকার। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ রাজ্যের। আগামী বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত পুর শহরে এই ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা শহরতলির পুর এলাকার যেখানে সেখানে আবর্জনা পড়ে থাকার কারণে রাজ্যকে একাধিকবার মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়েছে। এই দপ্তরের প্রধান সচিব সুব্রত গুপ্ত নিজে জেলায় জেলায় পুরসভাগুলির সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছেন, আবর্জনার স্তূপ যাতে আর না জমে, তাই প্রত্যেকটি পুর এলাকায় পড়ে থাকা আবর্জনা থেকে বায়ো গ্যাস বা জৈব সার তৈরি হবে।
[আরও পড়ুন: মাত্র ৩০ সেকেন্ডে রক্তক্ষরণ বন্ধ করবে ‘স্টপ ব্লিড’, চমকপ্রদ আবিষ্কার বর্ধমানের যুবকের]
এই কাজ করতে মোট সাতটি এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। তারাই বিভিন্ন পুরসভায় বৈঠক করে এই প্রকল্পের ‘মাইক্রো প্ল্যানিং’ তৈরি করে দিচ্ছে। সেইমতো পুরসভাগুলি নিজেরাই এই কাজ করবে। পুর শহরগুলিতে সুডা (স্টেট আরবান ডেভলপমেন্ট এজেন্সি)–এর মাধ্যমে কাজ করছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন বিভাগ। গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের তত্ত্ববধানে এই কাজ চলবে। পুরুলিয়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) দীনেশচন্দ্র মণ্ডলের বলেন, “রাজ্যজুড়েই এই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। আপাতত রাজ্যের ৬৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এই কাজ হচ্ছে। পুরুলিয়ায় আমরা তিনটি পঞ্চায়েত দিয়ে এই কাজ শুরু করে দিয়েছি।”
সাতটি এজেন্সিকে ভাগাভাগি করে একাধিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়া, হুগলি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, কোচবিহারের দায়িত্বে থাকা বিতান সংস্থার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জোনাল কো–অর্ডিনেটর কোরক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই কাজে আমরা পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি করছি। পুরসভাই এই কাজ করবে। এই কাজ করতে বাড়তি কোনও কর্মীর প্রয়োজন হবে কি না, যন্ত্রপাতি লাগবে কি না – সেই সব প্রকল্প রিপোর্টে তুলে ধরা হচ্ছে।”
[আরও পড়ুন: কোথায় ল্যান্ডার বিক্রম? হদিশ পেল না নাসার অরবিটারও]
আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে তাদের এই প্রকল্প রিপোর্ট জমা দিতে হবে। তাই কাজ শুরু করে দিয়েছেন এজেন্সির প্রতিনিধিরা। তাঁরা বিভিন্ন পুরসভা এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে, নিকটবর্তী শপিং মল, হোটেলে কথা বলে দিন পিছু আবর্জনার পরিমাণ বুঝতে চাইছে। এই প্রকল্প চালু হলে রাজ্যের কোথাও কোনও ডাম্পিং গ্রাউন্ড থাকবে না। সংগৃহীত আবর্জনা সরাসরি প্রকল্পস্থলে চলে যাবে। এই প্রকল্প রূপায়ণে বাড়ি–বাড়ি থেকে দু’ধরনের বর্জ্যকে আলাদাভাবে সংগ্রহ করা হবে – যা পচনশীল নয় এবং যা পচনশীল। তবে পচনশীল নয়, এমন পদার্থের কিছু অংশ থেকে কোনও কিছুই তৈরি করা যায় না। সেক্ষেত্রে ‘সায়েন্টেফিক ল্যান্ড ফিলিং’–এর মাধ্যমে তা এক জায়গায় রাখা হবে। তা বেশ কিছু দিন পর নষ্ট হয়ে যাবে।
সর্বশেষ খবর
-
গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, স্টুডিও পাড়ায় তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত অরূপের ভাই
-
টিটাগড়-বারাকপুর পুর-দুর্নীতিতে স্পেশাল অডিটের দাবি, মেট্রো নিয়েও তৎপর কৌস্তভ
-
‘পিঠে বানাতে’ বিধায়ক কার্যালয়ে মহিলাদের ডাক! গ্রেপ্তার বর্ধমানের ‘শাহজাহান’ খোকন
-
৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বার ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক কসরত! ভিডিও দেখে হতবাক নেটপাড়া, উঠল সমালোচনার ঝড়
-
অবশেষে সুখবর দিল হাওয়া অফিস, নিনো ভ্রুকুটির মাঝেই দেশে ঢুকেছে বর্ষা!