Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
CAB

বয়সের গরমিল ধরতে আম্পায়ারদের ‘এসআইআর’, কড়া পদক্ষেপের পথে সিএবি

ক্রিকেট সংস্থায় আম্পায়ারদের ‘এসআইআর’ হচ্ছে, এ জিনিস কেউ দেখেছে না শুনেছে? কেউ দেখেওনি। শোনেওনি। মজার হল, সিএবি ঠিক সেটাই চালু করতে চলেছে। যা বেশ অভিনব।

রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ১০, ২০২৬, ১৪:১৫

link
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: জুন ১০, ২০২৬, ১৪:১৫

options
link
বয়সের গরমিল ধরতে আম্পায়ারদের ‘এসআইআর’, কড়া পদক্ষেপের পথে সিএবি zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে ‘এসআইআর’-এর কথা লোকে শুনেছে। শুনছে। দেখেছে। কিন্তু ক্রিকেট সংস্থায় আম্পায়ারদের ‘এসআইআর’ হচ্ছে, এ জিনিস কেউ দেখেছে না শুনেছে? কেউ দেখেওনি। শোনেওনি। 

মজার হল, সিএবি ঠিক সেটাই চালু করতে চলেছে। যা বেশ অভিনব। অবশ‌্যই প্রক্রিয়ার নাম ‘এসআইআর’ নয়। বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার লোকজনরা নিজেরাই মজা করে সে নাম দিয়েছেন। এবং এহেন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ‌্যও আলাদা। এ আদতে আম্পায়ারদের বয়সের ছানবিন। বিভিন্ন নথি চেয়ে বয়স মিলিয়ে দেখা যে, আম্পায়ারদের কারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে কি না? বা নথিগত তথ্যের সঙ্গে তাঁদের বয়স মিলছে কি না?

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গতকাল সিএবি একটা নোটিশ জারি করেছে স্থানীয় আম্পায়ারদের উদ্দেশে। বলা হয়েছে, স্থানীয় ক্রিকেটের সমস্ত আম্পায়ারদের আগামী পনেরো দিনের মধ‌্যে নিম্নলিখিত নথির যে কোনও একটা বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার কাছে জমা করতে হবে।

১) আধার কার্ড। ২) পাসপোর্ট। ৩) মাধ‌্যমিকের অ‌্যাডমিট কার্ড। ৪) জন্ম সার্টিফিকেট।

যে নোটিশ অভিনব। এবং তার খবর ছড়িয়ে পড়াতে ময়দানে বেশ চাঞ্চল‌্যও সৃষ্টি হয়েছে। সিএবি সচিব বাবলু কোলের সই করা সে নোটিশে বলা রয়েছে, সম্পূর্ণ বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ‌্য নিয়ে নথি চাওয়া হচ্ছে আম্পায়ারদের থেকে। তবে বোর্ড প‌্যানেলে থাকা বাংলার আম্পায়ারদের কারও নথি জমা করার প্রয়োজন নেই। 

কিন্তু আচমকা স্থানীয় আম্পায়ারদের বয়স নিয়ে এ ধরনের ‘ময়নাতদন্ত’ কেন? মোটামুটি সিএবিতে নথিভুক্ত আম্পায়ার এ মুহূর্তে রয়েছেন দেড়শো জনের আশপাশে। তাঁদের মধ‌্যে ১৩০-১৩৫ জন অ‌্যাক্টিভ ভাবে আম্পায়ারিং করেন। অ‌্যাসাইনমেন্ট দিলে যান। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, কারও বাষট্টি বছর বয়স হয়ে গেলে কেউ আর আম্পায়ারিং করতে পারবেন না। নিয়মমাফিক তাঁকে অবসরে চলে যেতে হবে। আবার সিএবি আম্পায়রিংয়ের পরীক্ষায় বসার ন‌্যূনতম বয়স হল ১৮। তার নিচে কেউ পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। ওয়াকিবহাল মহলের সন্দেহ, বর্তমান আম্পায়ারদের কেউ কেউ বাষট্টি উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছেন। কেউ কেউ আবার আঠারো বছরের নিচে পরীক্ষা দিয়ে আম্পায়ার হয়ে গিয়েছেন। তাই পুনরায় নথি চাওয়া হচ্ছে আম্পায়ারদের থেকে। সিএবি আম্পায়ার হিসাবে যোগদানের সময় তাঁরা যে বয়স সংক্রান্ত তথ‌্য প্রভৃতি দিয়েছিলেন, তা মিলিয়ে দেখার জন‌্য।

সিএবি সচিব বাবলু কোলেকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘‘এ রকম জিনিস যে আগে হয়নি, তা নয়। আসলে আম্পায়ারদের একটা অবসরের বয়স আছে। কিছুই না, আমরা একটু পুরো বিষয়টা চেক করে নিচ্ছি। প্লেয়ারদেরও তো নথি চেক করা হয়। আম্পায়ারদেরও হবে। নিয়ম সবার ক্ষেত্রেই এক হওয়া উচিত।’’ কিন্তু পনেরো দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ‌্যে যদি কোনও আম্পায়ার নথি জমা না করেন? এবার সিএবি সচিবের জবাব, ‘‘সেক্ষেত্রে আরও কিছুটা সময় দেওয়া হবে। ধরা যাক, সাত দিন। কিন্তু তার পরেও যদি কেউ নথি না দেন, ধরে নিতে হবে কিছু একটা গন্ডগোল রয়েছে। তখন সেই ব‌্যক্তি আর আম্পায়ারিং করতে পারবেন না।’’ সিএবির এহেন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে ময়দান। শুধু শেষে একটা প্রশ্নও তুলছে। বলছে, ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে দু’রকম নথি দিলে চলবে না। আম্পায়ারদের ক্ষেত্রেও তথ্যে গরমিল থাকলে, পদক্ষেপ করা হবে। সব ঠিক আছে। কিন্তু সংস্থার পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে একই কাজ করা হবে না কেন? সিএবি সহ-সভাপতি নীতীশরঞ্জন দত্ত দুই নথিতে দু’রকম বয়স নিয়ে কী করে পদে বসে থাকেন?

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.