প্রায় দেড় দশক পর দলীপ ট্রফি জয় পূর্বাঞ্চলের। দলীপ জয় ঈশান কিষানদের কাছে যেমন স্পেশাল, তেমনই আরও একজনের কাছে এটা আরও বেশি স্পেশাল। মহম্মদ শামি। বয়স ছত্রিশ পেরিয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন। দেশের অন্যতম সেরা পেসার বলা হয় তাঁকে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে তাঁকে। ভারতীয় জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেছেন গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। কিন্তু তাতেও পারফরম্যান্সের ‘খিদে’ এতটুকু কমেনি সামির। গতবার ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় সব ম্যাচ খেলেছেন। বাংলার হয়ে প্রচুর উইকেট নিয়েছেন। এবারের দলীপ ফাইনাল শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ছিল ভারতীয় পেসারের। সেই ম্যাচে তাঁর টিম ট্রফি জিতল, সেটাও ১৪ বছর পর। স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি তৃপ্ত শামি।
দলীপ জিতে ম্যাচ শেষ শামি বললেন, “আমার একশোতম ম্যাচ ছিল। আমরা দলীপ ট্রফি জিতলাম। অবশ্যই স্পেশাল অনুভূতি। অনেক বছর পর পূর্বাঞ্চল আবার এই ট্রফি জিতল। দুর্দান্ত লাগছে। সবচেয়ে বড় কথা কী জানেন, এই টিমের সবাই পারফর্ম করেছে। ট্রফি জেতার পর প্রাণপাত করেছে। হৃদয় দিয়ে খেলেছে। চেন্নাইয়ের পরিবেশ সহজ ছিল না। প্রচুর গরম ছিল। এরকম পরিবেশে কর্তৃত্ব করে ট্রফি জেতা খুব স্পেশাল। যদি আমার কথা বলেন, প্রথম ম্যাচ খেলছি কিংবা একশোতম ম্যাচ খেলছি, সেটা ব্যাপার নয়। আসল হল, চেষ্টা আর মানসিকতা একইরকম থাকছে কি না।”
আরও পড়ুন:
কিন্তু এত বছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার ঘরোয়া ক্রিকেটে এসে মানিয়ে নিতে কোনও অসুবিধে হয় না? শামির কথায়, “যখন আপনি জার্সি পরে মাঠে নেমে পড়েন, তখন অন্য কিছু আর মাথায় থাকে না। তখন আপনি কোন পর্যায়ের ক্রিকেট খেলছেন, সেটা আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। দলের জন্য খেললে, জার্সির জন্য খেললে, লড়াই করার খিদে এমনিতেই চলে আসে। যেখানেই সুযোগ পাব, আমাকে সেটা কাজে লাগাতে চাই। আর আমাকে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। দলের জন্য আমাকে পারফর্ম করতে হবে। সেটা যে পর্যায় খেলি না কেন।”
দলীপে প্রথম পর্বের ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে খেলেছিলেন। ফাইনাল চেন্নাইয়ে। বেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাইয়ের দূরত্ব ঘণ্টা তিনেকের হলে কী হবে, দুই শহরের আবহাওয়ার পার্থক্য বিশাল। বেঙ্গালুরু পরিবেশ কিছুটা হলেও বোলার-বন্ধু ছিল। চেন্নাইয়ে আবার পুরো উলটো। শামি বলেন, “এ রকম পরিবেশে খুব বেশি সুইং হয় না। বাউন্সও কম ছিল। বেঙ্গালুরুতে বোলারদের জন্য পরিস্থিতি অনেক বেশি সহায়ক ছিল। চেন্নাইয়ে এখানে আমার একটাই প্ল্যান ছিল। লাইন ও লেংথ ঠিক রাখা। আর তারপর রিভার্স সুইং কাজে লাগানো। যখন পরিস্থিতি আপনার পক্ষে থাকে, তখন পরিকল্পনা কাজে লাগানো সহজ। আসল পরীক্ষা তখনই, যখন পরিবেশ আপনার বিরুদ্ধে। সেখানেই দক্ষতার আসল পরীক্ষা হয়।”
ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে যাওয়ার পরেও জাতীয় দলের দরজা খুলছে না। শামি হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না। বললেন, “আমার কাজ শুধু কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বারবার চোটের কবলে ক্রিকেটাররা, দায় একজনেরই! আফগান সিরিজের আগে কড়া সিদ্ধান্তের পথে বোর্ড
-
‘মির্জাপুর’ ছবিতে মহারানা প্রতাপের অবমাননা! সেন্সরকে গান ছাঁটার আর্জি বিজেপি নেতার
-
মোদি-পুতিন-জিনপিংদের সঙ্গে নৈশভোজে শুভেন্দু! ব্রিকস সম্মেলনে দিল্লি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী
-
ডোভাল চালেই কাটল জট, ৭ বছর পর দিল্লিতে জিনপিং, আম-ছালা দুই হারালেন তারেক!
-
খালি করতেই হবে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস! দমকলের নোটিসে কোনও হস্তক্ষেপই করল না হাই কোর্ট