যত দিন যাচ্ছে, তত সিএবি আর বিতর্ক যেন সমার্থক হয়ে যাচ্ছে। কখনও সংস্থার যুগ্ম সচিব মদন ঘোষ সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিকাকে ‘অশ্রদ্ধা-অমান্য’ করে দিনের পর দিন পদে বসে রয়েছেন। নিজের প্রশাসনিক মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও। কখনও সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য সুরজিৎ লাহিড়ীর বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠে পড়ছে। কখনও আবার বাংলার প্রথিতযশা প্রাক্তন অধিনায়ক প্রণব রায়ের সঙ্গে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার ‘যুদ্ধ-বিগ্রহ’ লেগে যাচ্ছে!
এবার সিএবি কর্মী মনোজিৎ মৌলিকের বিরুদ্ধে দশ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন প্রণব রায়। তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সেই সিএবি কর্মীর করা কুরুচিকর ফেসবুক পোস্টের বিরুদ্ধে। শুধু মামলা করাই নয়, আদালত থেকে সেই মামলার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশও পেয়ে গেলেন প্রণব। যেখানে আদালতের তরফে সুস্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হল যে, অভিযুক্ত সিএবি কর্মী প্রণবের বিরুদ্ধে কোনও রকম অপমানজনক বিবৃতি বা পোস্ট করতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, সিএবি কর্মীর প্রতি আদালত-নির্দেশিকা হল, নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রণব রায় সম্পর্কিত যে পোস্ট তিনি করেছেন, অবিলম্বে সেটাকে ‘ফ্রিজ’ করে দিতে হবে। যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে। সুনিশ্চিত করতে হবে, সেই পোস্ট যেন ইন্টারনেটে অন্য কেউ ব্যবহার না করতে পারে। তৃতীয়ত, আগামী পনেরো দিনের মধ্যে অভিযুক্ত সিএবি কর্মীকে জানাতে হবে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে এ হেন আদেশ প্রদান করা যাবে না?
আরও পড়ুন:
ঠিক কী ঘটেছে?
দিন কয়েক আগে প্রবাদপ্রতিম পঙ্কজ রায়ের জন্মদিন পানলকে কেন্দ্র করে কলঙ্কিত হয়েছিল সিএবি। পিতার জন্মদিন পালনে পঙ্কজ-পুত্র প্রণবকেই না ডেকে! যা নিয়ে তুলকালাম বেঁধে গিয়েছিল বাংলা ক্রিকেটে। যার পর ক্ষুব্ধ প্রণব বলেছিলেন যে, তাঁর পিতার জন্মদিন পালন বন্ধ করে দিক সিএববি! বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থা সে রাত্রেই মিডিয়া রিলিজ করে জানিয়েছিল যে, পঙ্কজ-পুত্রকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পঙ্কজের জন্মদিনে কোন ফুল ব্যবহার হয়েছিল, বাসি না টাটকা–তা নিয়েও একপ্রস্থ তর্ক-বিতর্ক চলে সে সময়। সিএবির কাছে প্রণব তাঁর বাবার জন্মদিন পালনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজও চেয়ে পাঠান। যেহেতু ফুল নিয়ে এত কথা উঠছে। ঘটনাটা সেখানে শেষ হয়ে গেলে তবু কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বরং সিএবি কর্মী পরবর্তীতে একটা ফেসবুক পোস্ট করে বসেন প্রণবের বিরুদ্ধে (যার প্রমাণ রয়েছে সংবাদ প্রতিদিনের কাছে)। যেখানে তাঁকে কদর্য ভাবে আক্রমণ করা হয়। কেন তিনি সিএবির কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছেন, কেন ‘আমন্ত্রণ’ তিনি দেখেও দেখেননি, কী ভাবে সিএবি আধিকারিকদের ফোনের অপেক্ষায় না থেকে তিনি ‘কোটা’-র টিকিট তুলতে চলে আসেন– সব কিছু নিয়ে প্রণবকে আক্রমণ করে বসেন ওই সিএবি কর্মী। যার পরিণতি হিসেবে দশ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের। এবং আদালতের অন্তবর্তিকালীন আদেশ।

সন্ধেয় যোগাযোগ করা হলে এ নিয়ে প্রণব ক্ষুব্ধভাবে বললেন, ‘‘সিএবি কর্মীর পোস্ট থেকে এটা পরিষ্কার যে, উনি আমার বা আমার বাবা পঙ্কজ রায় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এটা পরিষ্কার যে ওঁকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে লেখানো হয়েছে। দেখুন, আমার পরিবারকে কেউ যদি অপমান করে, আমাকে যদি অপমান করে, ছেড়ে কথা বলব না। কারণ আজ যদি ছেড়ে দিই, তা হলে আগামীকাল আবার আমাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করা হবে।’’ সঙ্গে প্রাক্তন বাংলা অধিনায়কের উত্তেজিত সংযোজন, ‘‘সিএবির বিরুদ্ধে বলতে আমার ভালো লাগে না। কারণ, বাংলা ক্রিকেট, বাংলার ক্রিকেট সংস্থার কারণেই আমি প্রণব রায় হয়েছি। সংস্থার বিরুদ্ধে আমি বলছি না। বলছি, যারা সংস্থা আজ চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে। আমি মিডিয়ায় দেখেছি, বাবার জন্মদিনে যে ফুল ব্যবহার করেছে সিএবি, তা বাসি না তাজা, তাই নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। আমি তাই সিএবির কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছি। যাতে চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন হয়। তাতে ভুলটা কোথায়? আমি ফুটেজ চেয়ে ই-মেল করেছিলাম সিএবিকে। আজ পর্যন্ত তার কোনও উত্তর পাইনি। দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, সিএবি এখন মিথ্যের উপর ভিত্তি করে চলছে!’’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
দুরন্ত পারফরম্যান্সেও শেষরক্ষা হল না, আত্মঘাতী গোলে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে জয় হাতছাড়া মিশরের
-
ইউপিএসসি প্রিলিমস-এর ফলপ্রকাশ, পাশ করল কত হাজার?
-
মা-বাবাকে ছাড়া বড় হওয়া, স্পেনকে আটকে চোখে জল! কে এই কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা?
-
নবান্নে শুভেন্দু-প্রসূন সাক্ষাৎ, বাংলায় বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা?
-
বিশ্বকাপে অঘটনের শুরু! কেপ ভার্দের ‘বুড়ো’ গোলকিপারের হাতে আটকে গেল স্পেন, ব্যর্থ বদলি ইয়ামালও