Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬
India Vs Zimbabwe

আজ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে রান রেট বাড়ানোর লড়াই ভারতের, নজর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচেও

দলে একাধিক বদলের ভাবনা। ফিরতে পারেন সঞ্জু।

Advertisement
আলাপন সাহা
আলাপন সাহা

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৩:১৯

link
আলাপন সাহা
আলাপন সাহা

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৩:১৯

options
link
আজ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে রান রেট বাড়ানোর লড়াই ভারতের, নজর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচেও zoom
জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে অনুশীলনে ভারত। ছবি: সোশাল মিডিয়া।

ভারতীয় দলে একটা ট্রেন্ড রয়েছে। হারুক কিংবা জিতুক, ম্যাচের আগের দিন সাধারণত খুব একটা কেউ প্র্যাকটিসে আসেন না। ঐচ্ছিক ট্রেনিং রাখা হয়। কিন্তু তিলক বর্ম কোথায়? বরুণ চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তো চিপকে এসেছেন। নেটে বরুণ বোলিং করছেন। তিনি, তিলক কোথায়?

খানিক পরে জানা গেল, বাইরের প্র্যাকটিস মাঠে তিলক একাকী প্র্যাকটিস করছেন। কিন্তু আগের দিন পুরো টিম মাঠেই নেট সেশন করছে। তাহলে তিলক হঠাৎ বাইরের মাঠে গেলেন কেন? সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেও প্র্যাকটিস দেখার উপায় নেই। তিলক নাকি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, নেট চলাকালীন মিডিয়া সেখানে থাকতে পারবে না! একপ্রকার লোকচক্ষুর আড়ালে মিনিট তিরিশেক একাই ব্যাটিং করে গেলেন ভারতীয় ব্যাটার। আলাদা কিছু করলেন কি না, দেখার উপায় ছিল না। পরে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, কয়েকজন নেট বোলারকে নিয়ে প্র্যাকটিসে চলে যান তিলক। যার মধ্যে স্পিনার ছিল। সঙ্গে নেটে বারবার সাইড আর্ম থ্রো ডাউন নিচ্ছিলেন। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে ব্যাটিং ভারতকে ভুগিয়ে আসছে। প্রশ্ন উঠছে, তিলকের স্ট্রাইক রেট নিয়ে। বলাবলি চলছে, তিনি নাকি স্পিনারদের কাছে আটকে যাচ্ছেন। বড় শট খেলতে পারছেন না! কে জানে, তার মোকাবিলা করতেই তিলক স্পিনার ডেকে আলাদা করে নেট সেশন করলেন কি না? যদিও ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে তিলক নিয়ে উষ্মার কথা বলা হচ্ছে না। ভারতীয় ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক বলছিলেন, “কেউ যদি ২৬ বলে ২৮ রানের ব্যাটিং করে, তাহলে দুটো শটের শুধু ব্যাপার থাকে। দুটো চার-ছয় এলেই সব অন্যরকম হয়ে যায়। তাই তিলক খারাপ ব্যাটিং করছে, সেটা কী করে বলব?”

Advertisement

ভারতীয় ব্যাটিং কোচ যা-ই বলে যান না কেন, চিন্তায় অবশ্যই রয়েছে ভারতীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও পর্যন্ত টুর্নামেন্টে যে আট টিম সুপার এইটে গিয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ব্যাটিং গড় ভারতীয় টিমের (২০)। না হলে টুর্নামেন্টের ‘বিজনেস এন্ডে’ এসে কেউ হঠাৎ করে টিম বদলের কথা ভাবে নাকি? ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট খুব ভালো করেই জানে, সঞ্জু স্যামসনকে খেলাতে হলে পুরো ব্যাটিং অর্ডার ওলটপালট করতে হতে পারে। অন্য সময় হলে হয়তো এই ভাবনাই আসত না।
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে যে, গম্ভীররা বাধ্য হয়ে দলে পরিবর্তনের কথা ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। কোটাকের কথায়, “আসলে আমাদের টপ অর্ডারের প্রথম তিনজনই বাঁ-হাতি হয়ে যাচ্ছে। তাই সঞ্জুকে নিয়ে আমরা ভাবনা-চিন্তা করছি। শুরুতে তিনজন বাঁ-হাতি থাকলে কোনও সমস্যা হয় বলে আমি মনে করি না। কিন্তু রেজাল্ট যখন আসছে না, তখন একটু অন্যরকম ভাবনা-চিন্তা করতে হয়। টিম কী হবে, বলছি না। তবে সঞ্জু অবশ্যই ভাবনা-চিন্তায় রয়েছে।”
প্রতিপক্ষ হিসাবে জিম্বাবোয়ে ভারতের (India Vs Zimbabwe) চেয়ে অনেকটাই দুর্বল। কিন্তু সূর্যদের প্রতিপক্ষকে নিয়ে অতশত ভাবার সময় কোথায়? তাছাড়া গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে সুপার এইটে এসেছে জিম্বাবোয়ে। অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কার মতো টিমকে হারিয়ে। জিম্বাবোয়ের ক্রিকেটার রায়ান বার্ল যেমন বাউন্ডারি লাইনের বাইরে ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে বলছিলেন যে, তাঁরা ভালো করেই জানেন আন্ডারডগ হয়ে চিপকে নামবেন। তবে মনে করিয়ে দিলেন, টিমের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে। সেই বিশ্বাসের জোরেই তাঁরা অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছেন। একইসঙ্গে নেটে দেখা গেল, ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা খুঁজে সেই অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুতি সারছেন রেসিং মুজারাবানিরা।

আসলে একটা ম্যাচ সবকিছু বদলে দিয়ে গিয়েছে। অনেকটা চেন্নাইয়ের আবহের মতো। চেন্নাইয়ে সকাল যতটা গরম, যতটা কষ্টদায়ক। বিকেল ঠিক ততটাই ফরফুরে। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগে পর্যন্ত ভারতীয় ড্রেসিংরুমে আবহ একেবারে ফুরফুরে ছিল। কিন্তু এখন ততটাই গুমোট। এখন শুধু জিতলে চলবে না। রান রেটের অসামান্য উন্নতি ঘটিয়ে জিততে হবে। একইসঙ্গে অন্য টিমগুলোর দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। ভারত যেমন তাকিয়ে থাকবে বৃহস্পতিবার দুপুরের দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের দিকে। সন্ধেয় সূর্যরা যখন চিপকে নামবেন, তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। যেখানে এডেন মার্করামরা জিতলে লাভ ভারতের। তখন আর রান রেটের দরকার পড়বে না। শেষ দু’টো ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত।
ক্রিকেট কী অদ্ভুত, তাই না? দু’দিন আগেই যাঁদের কাছে হারতে হয়েছিল, আজ ভেসে থাকার জন্য তাঁদের জয়ের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.