Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬
T20 World Cup

শেষমেশ ‘ধোঁকাই’ দিল পাকিস্তান, আইসিসি’র ‘ক্ষমা’ সত্ত্বেও বিশ্বকাপে ভাঁড়ে মা ভবানী দশা বাংলাদেশের

২০২৮ অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ আগে থাকতেই বাংলাদেশে হওয়ার কথা ছিল। ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ বহু আগে ভারত আর বাংলাদেশের যৌথ ভাবে আয়োজন করার কথা। পাক-ঘোষণার দশ দিন পর কপালে শুধু নতুন করে কিছু পুরনো প্রাপ্য জুটল।

Advertisement
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১৩:২০

link
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১৩:২০

options
link
শেষমেশ ‘ধোঁকাই’ দিল পাকিস্তান, আইসিসি’র ‘ক্ষমা’ সত্ত্বেও বিশ্বকাপে ভাঁড়ে মা ভবানী দশা বাংলাদেশের zoom
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি। ফাইল ছবি

পাকিস্তানের ফাঁদে পা দিয়ে বিশ্বকাপ (T20 World Cup) বয়কট করেছিল বাংলাদেশ। আর শেষে পাকিস্তান যথাসময়ে পালটি খেল। ‘বয়কট’, ‘বয়কট’ নাটক শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে নামবেন বাবর আজমরা। ফলে যার উসকানিতে ভরসা করে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ, তাদের থেকে শেষ পর্যন্ত ‘বেইমানি’ সহ্য করতে হল। তবে আইসিসি শেষ পর্যন্ত ‘ক্ষমা’ করে দিয়েছে বাংলাদেশ বোর্ডকে। কোনও জরিমানা বা শাস্তি হচ্ছে না তাদের।

রবিবারের বৈঠকে আইসিসি প্রতিনিধিদের কাছে চার দফা দাবি পাকিস্তান পেশ করেছিল। তার মধ্যে একটা ছিল, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ না খেলার জন্য কোনও রকম শাস্তি দেওয়া যাবে না। প্রথম তিন দাবির একটাও মানা হয়নি। আইসিসি প্রতিনিধি ইমরান খোয়াজা স্পষ্ট বলে দেন, এর একটাও তাঁর এক্তিয়ারভুক্ত নয়। তাই তাঁকে এ সমস্ত নিয়ে বলে লাভ নেই। আর পাকিস্তনের চতুর্থ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, বাংলাদেশের শাস্তি বা জরিমানার কোনও ব্যাপারই ছিল না। বরং তাদেরটা প্রকৃত ‘ফোর্স ম্যাজেওর’। বাংলাদেশ বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এক ঘটনা। যে কারণে তারা বিশ্বকাপ খেলছে না। ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসা নিয়ে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে আশঙ্কিত ছিল বাংলাদেশ সরকার। আইসিসি সিদ্ধান্ত না বদলানোয় তারা গোটা বিশ্বকাপ থেকেই সরে গিয়েছে। যা ‘ফোর্স ম্যাজেওর’ অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তানের মতো মিথ্যে ‘ফোর্স ম্যাজেওর’-এর ওজর তারা তোলেনি।

Advertisement

ভাবার কোনও কারণ নেই, পাকিস্তানের বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্তে পদ্মাপার জনতাও প্রবল খুশি হয়েছে। বরং তাঁদের গরিষ্ঠ অংশের মনে হচ্ছে যে, দিন শেষে তাঁরাই প্রতারিত হলেন। পাকিস্তান প্রথমে নাটুকেপনা করে বলল, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে ‘বাদ’ দেওয়ার প্রতিবাদে তারাও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না। তার পর গভীর গড্ডায় পড়ে ঠিকই খেলে নিল!

পদ্মাপার জনতার গরিষ্ঠ অংশের মনে হচ্ছে যে, দিন শেষে তাঁরাই প্রতারিত হলেন। পাকিস্তান প্রথমে নাটুকেপনা করে বলল, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে ‘বাদ’ দেওয়ার প্রতিবাদে তারাও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না। তার পর গভীর গড্ডায় পড়ে ঠিকই খেলে নিল!

বাংলাদেশের হাতে পেনসিল ধরিয়ে। আসলে পাকিস্তান জানত, ‘ফোর্স ম্যাজেওর’-এর ফাঁকা বুলি আউড়ে বিশাল আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়া যাবে না। চুক্তি ভেঙে ভারত ম্যাচ না খেললে, সম্প্রচার সংস্থা ছেড়ে কথা বলবে না। আদালতে টেনে নিয়ে যাবে। আইসিসি সলমন আলি আঘাদের সমস্ত খেলাধুলো বন্ধ করে দেবে। পাকিস্তান সুপার লিগে বিদেশি প্লেয়ারদের খেলতে দেবে না। মাঝখান থেকে বাংলাদেশ যে অন্ধকূপে পড়ে ছিল, সেখানেই পড়ে থাকল। বিশ্বকাপ তাদের খেলা আর হল না। বদলে পাক-ঘোষণার দশ দিন পর কপালে শুধু নতুন করে কিছু পুরনো প্রাপ্য জুটল। ২০২৮ অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ আগে থাকতেই বাংলাদেশে হওয়ার কথা ছিল। ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ বহু আগে ভারত আর বাংলাদেশের যৌথ ভাবে আয়োজন করার কথা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আইসিসি বেসরকারি ভাবেও কখনও বাংলাদেশকে বলেনি যে শোনো হে, অবাধ্যতার দাম তোমাদের দিতে হবে। পরের দু’টো ওয়ার্ল্ড ইভেন্ট তোমরা পাবে না।

T20 World Cup: No penalty or sanction for Bangladesh Cricket Board, says ICC
আইসিসি’র সঙ্গে আলোচনায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বোর্ডের কর্তারা।

উত্তেজিত বাংলাদেশ ক্রিকেট-জনতা বরং বোর্ড প্রধানের উদ্দেশে বলছে, অহেতুক নাচনকোঁদন অবিলম্বে বন্ধ করতে। কারণ, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের বাজারে বাংলাদেশের কপালে ভাঁড়ে ভবানীই জুটেছে। পাকিস্তান তো খুব বলেছিল, বাংলাদেশের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না। বয়কট করবে। করেছে কি? পরে পাকিস্তান সরকার বিবৃতি দিয়ে বলেছিল, প্রতিবাদে ভারত ম্যাচ খেলবে না। দিন শেষে খেলছে না কি? শুধু মুখরক্ষার খাতিরে বাংলাদেশকে কিছু একটা ‘পাইয়ে দিলাম’ দেখাতে হত তাদের। সেই কারণে বুলবুলকে বৈঠকে ডেকে পাঠানো। সেই কারণে ঘটা করে আইসিসিকে দিয়ে বলানো, বিশ্বকাপ বয়কট করায় শাস্তি হবে না বাংলাদেশের। অতএব, ক্রিকেট নিজের মতো চলবে। শুধু বাংলাদেশ সেই তিমিরেই। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.