রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিগত টেস্ট সিরিজের ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি। আসন্ন এশিয়া কাপের টিমেও জায়গা হল না শ্রেয়স আইয়ারের! সেই ব্রাত্যই থেকে গেলেন তিনি। যার পর দেশের ক্রিকেটমহল প্রবল রুষ্ট। কড়া প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কোন যুক্তিতে শ্রেয়সের মতো নির্ভরযোগ্য এক ব্যাটারকে পরের পর ফরম্যাটে নির্বিচারে বাদ দিচ্ছে ভারত? ইংল্যান্ড সফরে আইপিএলে ভালো পারফর্ম করা সাই সুদর্শনকে নিয়ে গিয়েছিল ভারত। আট বছর পর জাতীয় দলে করুণ নায়ারকে ফিরিয়েছিল। কিন্তু শ্রেয়সের প্রতি জাতীয় নির্বাচক কমিটি দৃকপাত পর্যন্ত করেনি। এবার এশিয়া কাপের দলেও জায়গা পেলেন না তিনি। না পনেরো জনের স্কোয়াডে। না স্ট্যান্ড বাই তালিকায়। অর্থাৎ, দেশের সেরা কুড়ি জন টি-টোয়েন্টি খেলিয়ের মধ্যে পাঞ্জাব কিংস অধিনায়ক নেই।
মঙ্গলবার দল নির্বাচনী বৈঠক শেষে জাতীয় নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর বলে যান, “আসলে আমাদের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে প্রচুর বিকল্প। স্কোয়াড নির্বাচন করাটা সব সময় সহজ হয় না।” কিন্তু নির্বাচক প্রধানের ‘সাফাই’-এ চিড়ে বিশেষ ভিজছে না। গত আইপিএলে ১৭ ম্যাচে ৬০৪ রান করেছিলেন শ্রেয়স। ১৭৫ স্ট্রাইক রেটে, ৫০.৩৩ ব্যাটিং গড়ে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অসামান্য খেলেছিলেন। তার পরেও এশিয়া কাপের স্কোয়াডে তাঁর জায়গা হয়নি। আর শুধুই কি আইপিএল কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি? ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিসংখ্যান দেখুন। সৈয়দ মুস্তাক আলিতে গত বছর ৯ ম্যাচের ৮ ইনিংসে ৩৪৫ রান করেছেন শ্রেয়স। ব্যাটিং গড় ৪৯.২৮। একটা সেঞ্চুরি, একটা হাফসেঞ্চুরি। স্ট্রাইক রেট ১৮৮.৫২। বিজয় হাজারেতে ৫ ম্যাচের ৫ ইনিংসে রান ৩২৫। দু’টো সেঞ্চুরি সহ গড় ব্যাটিং গড় ৩২৫! রনজি ট্রফিতে খেলেছেন ৫ ম্যাচ। তাতে সাত ইনিংসে রান ৪৮০। গড় ৬৮.৫৭। সত্যিই তো, ভারতীয় দলে জায়গা করে নিতে হলে আর ঠিক কী করতে হবে শ্রেয়সকে?
শোনা গেল, এ দিন নাকি নির্বাচনী বৈঠকে মাত্র দু’মিনিটের জন্য নাম উঠেছিল শ্রেয়সের। এক নির্বাচক নামটা তুলেছিলেন। কিন্তু বাকিরা বলতে থাকেন, শ্রেয়সকে নিতে গেলে রিঙ্কু সিং বা শিবম দুবের যে কোনও একজনকে বাদ দিতে হয়। রিঙ্কু-শিবম দু’জনেই বল করেন। আর খামোখা তাঁদের বাদ দেওয়া হবেই বা কেন? ব্যস, এরপর আর শ্রেয়স নিয়ে নির্বাচনী বৈঠকে আলোচনা এগোয়নি। শোনা গেল, ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরও মুম্বইকরকে এশিয়া কাপের দলে নিতে বিশেষ ইচ্ছুক ছিলেন না। কেউ কেউ হজম করতে পারছেন না যে, তিন সপ্তাহের টুর্নামেন্ট খেলতে তিনখানা উইকেটকিপার নিয়ে যেতে পারছে ভারত। কিন্তু শ্রেয়সকে জায়গা করে দেওয়া যাচ্ছে না।
ওয়াকিবহাল মহলও মুম্বইকরের দিনের পর দিন টানা ‘ব্রাত্য’ থাকার নেপথ্য কারণ নিয়ে সন্দিহান। একটা মহল জানতে উৎসুক, শ্রেয়সের ব্রাত্য থাকার কারণ কেকেআরের হয়ে ২০২৪ আইপিএল জেতার পর তাঁর মিডিয়া সাক্ষাৎকারে বলে বসা যে, অধিনায়ক হিসেবে যতটা মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য ছিল, ততটা তিনি পাননি। যে বক্তব্যের অদৃশ্য নির্যাস হল, নাইটদের তৃতীয় আইপিএল ট্রফি জয়ের সমস্ত কৃতিত্ব নিয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন কেকেআর মেন্টর গম্ভীর। তিনি অধিনায়ক হয়েও কিছুই মর্যাদা পাননি। অনেকের মতে, গম্ভীর যা ভালো ভাবে নেননি। যিনি বর্তমানে ভারতীয় দলের সর্বেসর্বা। অনেকের প্রশ্ন, সেই ‘অপরাধের’ ফল এখন ভুগতে হচ্ছে না তো শ্রেয়সকে?
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ