৭  আশ্বিন  ১৪২৯  মঙ্গলবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

‘জ্লাটান আর রোনাল্ডোই আমায় ছোটাচ্ছে’, মন্ত্রী হয়েও সেঞ্চুরি করার রহস্য ফাঁস মনোজের

Published by: Anwesha Adhikary |    Posted: June 11, 2022 11:57 am|    Updated: June 11, 2022 11:57 am

Zlatan and Ronaldo inspires me, says Manoj Tiwary | Sangbad Pratidin

তাঁকে নিয়ে অনেকেই বলাবলি শুরু করে দিয়েছিলেন। বলাবলি চলছিল, তিনি নাকি আর আগের মতো ব্যাটিংটা করতে পারেন না। ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে রনজি কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম ইনিংসেও ৭৩ রানের একটা ভাল ইনিংস খেলেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করে মনোজ তিওয়ারি সমালোচকদের উদ্দেশে বার্তাটা দিয়ে রাখলেন- তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি। শুক্রবার বিকেলে বেঙ্গালুরু থেকে সংবাদ প্রতিদিন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনোজ যা বললেন…

প্রশ্ন: ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি পর বলাবলি শুরু হয়েছে ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি (Manoj Tiwary) ‘আবহি জিন্দা হ্যায়’।
মনোজ: তাই নাকি (হাসি)।
প্রশ্ন: হ্যাঁ, মাঝে আপনাকে নিয়ে প্রচুর কথা হচ্ছিল। বলা হচ্ছিল, মনোজ নাকি এখন স্রেফ অতীতের ছায়া?
মনোজ: জানি না, কারা এসব বলছেন। দেখুন লোকের মতামত তো আমি বদলাতে পারব না।
প্রশ্ন: এতবছর পরেও যখন এসব শুনতে হয়, খারাপ লাগে না?
মনোজ: রান না করলে লোকেরা কথা বলবেই। আবার রান করলে তারাই প্রশংসা করবে। একটা জিনিস বুঝতে হবে, খেলার মধ্যে চড়াই-উতরাই থাকে। কখনও আপনি ভাল করবেন। কখনও আবার ভাল হবে না। ব্যাটারদের জন্য খেলাটা এক বলের। অনেক কিছু আমাদের কন্ট্রোলে থাকে না। আম্পায়ারিং থেকে শুরু করে অনেক কিছু। এরকম অনেক সময় হয় যেখানে বোলার আউট সুইং বল করল, কিন্তু সেটা গুড লেংথে পড়ে হঠাৎ করে ইনসুইং হয়ে গেল, তখন একজন ব্যাটার কী করবে? আমরা তো আর সেকেন্ড চান্সও পাব না। দেখুন আসল কথা হল, কারা বলছে, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা চোখের সামনে আমাকে এত বছর খেলতে দেখছে, তাঁরা যদি কিছু বলে তখন কিছুটা দুঃখ হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমার কাজ হল বাংলার হয়ে রান করা। সেটাই করে যাচ্ছি।
প্রশ্ন: প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আঠাশ নম্বর সেঞ্চুরিটা করলেন। এই ইনিংসটাকে কোথায় রাখবেন?
মনোজ: অবশ্যই উপরের দিকে রাখব। কারণ এখানে নিজের কাছেই নিজেকে প্রমাণ করার একটা তাগিদ ছিল। আরও ভাল লাগছে এটা ভেবে যে, দলের জয়ে আমিও অবদান রাখতে পেরেছি। আমার মাথায় সবসময় এটাই থাকে যে–দল যখন ভাল খেলবে, নকআউটে (Ranji Trophy Knock Out) কোয়ালিফাই করবে তখন যেন কনট্রিবিউট করতে পারি। তাহলেই লোকে মনে রাখবে। দেখুন, এখানে আমরা শুধু কুড়িজন খেলতে আসিনি। পুরো বাংলা আমাদের সঙ্গে রয়েছে। বাংলার প্রত্যেকটা মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আশায় রয়েছে যে আমরা ট্রফি নিয়ে ফিরতে পারব।
প্রশ্ন: কোনও মন্ত্রী রনজিতে নেমে সেঞ্চুরি করছে, ভারতীয় ক্রিকেটে মনে হয় না এরকম উদাহরণ আর রয়েছে।
মনোজ: সেটা বলতে পারব না। আমার লক্ষ্য থাকে সবসময় নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার। সেটাই প্রত্যেকটা দিন করার চেষ্টা করছি।

[আরও পড়ুন: ফিল্ডিংয়ের সময় নিয়ম ভেঙে বিপাকে পাক অধিনায়ক বাবর, ৫ রান উপহার পেল প্রতিপক্ষ]

প্রশ্ন: মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা। কীভাবে ম্যানেজ করেন?
মনোজ: মনের জোর । আমি মনে করি মন থেকে যদি আপনি কিছু করতে চান, তাহলে সবকিছু করা সম্ভব। জীবনে সবকিছু সহজে হয় না। প্রচুর লড়াই থাকে। লড়াই করেই জিততে হবে। আমি সেভাবেই দেখি। তাই নিজেকে কীভাবে ম্যানেজ করতে হবে সেটা জানি। নিজের প্ল্যানিংটা ঠিকঠাকভাবে করতে পেরেছি বলেই আজ এই জায়গায় রয়েছি।
প্রশ্ন: অনুষ্টুপ মজুমদার আটত্রিশে সেঞ্চুরি করছেন। আপনিও ছত্রিশে এরকম বিধ্বংসী ব্যাটিং করছেন। বয়স যে শুধু সংখ্যা মাত্র সেটা প্রমাণ করে দিচ্ছেন।
মনোজ: জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ চল্লিশে ট্রফি জিতছে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কী সব পারফরম্যান্স করছে। ওদের দেখি যখন অবশ্যই একটা বাড়তি মোটিভেশন কাজ করে। তবে আসল ব‌্যাপার হল, আমাদের শরীরকে নিজেদেরই অ্যানালিসিস করতে হবে। শরীর কীরকম রেসপন্স করছে, সেটাই আসল। আমি যদি মনে করি যে শারীরিক দিক থেকে পুরোপুরি সুস্থ, যতদিন ফিটনেস ঠিক রয়েছে, পারফর্ম করতে পারছি, ততদিন আমি খেলা চালিয়ে যাব। আমার কাছে বয়স শুধুই সংখ্যা মাত্র। দলে যারা আমার থেকে জুনিয়র, ধারাবাহিকভাবে যদি তাদের থেকে বেশি রান করতে পারি, তাহলে মনে হয় না কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে।

প্রশ্ন: বাংলা গতবার রনজি (Ranji Trophy) ফাইনাল খেলল। এবার সেমিফাইনাল। এই টিমটার এক্স ফ্যাক্টর কী?
মনোজ: টিমের ব্যালান্স খুব ভাল। ভাল পেসার রয়েছে। ভাল স্পিনার রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওদের ব্যাক আপও রয়েছে। সবাই অনেক বছর ধরে খেলছে, ফলে ওরা জানে কোথায় কীরকম পারফর্ম করতে হয়। টিমের পরিবেশ খুব ভাল। কোচ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা সাপোর্ট স্টাফ খুব ভাল। আমাদের নির্বাচক প্রধান প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে দলের সঙ্গে রয়েছে। সবাই যখন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোয়, তখনই ভাল কিছু সম্ভব। ঠিক যেটা এখন আমরা করছি। গতবার রনজি ফাইনাল উঠেও আমরা পারিনি। এবার ট্রফিটা নিয়ে ফিরতেই হবে। রনজি জেতার জন‌্য জীবনও বাজি রাখতে পারি।

[আরও পড়ুন: কলা কেনার খরচ ৩৫ লক্ষ, অথচ ক্রিকেটারদের ভাতা ১০০ টাকা! চরম বেনিয়ম উত্তরাখণ্ড ক্রিকেট সংস্থায়]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে