সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লাভ ইন দ্য টাইম অফ ওয়ার্ল্ড কাপ৷ না মার্কেজ এরকম কোনও উপন্যাস লেখেননি৷ তবে বুধবার স্পার্টাক স্টেডিয়াম যে দৃশ্যের সাক্ষী থাকল তা মেজাজ-মর্জিতে মার্কেজের ম্যাজিক রিয়ালিজমের থেকে কম কিছু নয়৷ ফুটবল মাঠই বোধহয় উপহার দিতে পারে এমন জাদুবাস্তবতার৷ যেখানে ঠোঁটে ঠোট মিশে যায় দুই তরুণ-তরুণীর৷ আসলে ফুটবলপ্রেমীর৷ তবে একজনের গায়ে ব্রাজিলের জার্সি, অন্যজনের পরনে সার্বিয়ার পোশাক৷ মাঠের যুদ্ধে একদল হারছে, অন্যদল জিতছে৷ তবে ভালবাসা শত যুদ্ধেও জেতা যায় না৷ আবার ভালবাসা এত সহজেই ধরা দেয়৷ এদিন তাই যুদ্ধের আবহ পিছনে ফেলে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ব্যারিকেডই যেন গড়ে তুললেন দুই ফুটবলপ্রেমী৷
[ জার্মানরা হারতেই বান্ধবীকে বিয়ের প্রস্তাব মেক্সিকান যুবকের, তারপর… ]
গ্রুপ পর্যায়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ৷ শেষ ষোলোয় যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টায় মাঠে উঠছে সাম্বা ঝড়৷ আর প্রতিরোধ গড়ে তুলছে সার্বিয়া৷ স্বাভাবিকভাবেই সার্বিয়াকে পিছনে ফেলে অনেকটা এগিয়ে ছিল ব্রাজিল৷ একটা সময় স্পষ্ট হয়ে যায়, সার্বিয়ার প্রত্যাবর্তন অসম্ভব৷ চেষ্টার কসুর নেই৷ কিন্তু কোথাও একটা খামতি থেকেই যাচ্ছে৷ অথবা ব্রাজিলের দক্ষতার কাছে হার মানতে হচ্ছে তাদের৷ গ্যালারিতে বসে সে দেওয়াললিখন এ দুজন ফুটবলপ্রেমী কি পড়তে পারেননি? অবশ্যই পেরেছিলেন৷ ঠিক কোন সময়ে এ ছবি তোলা তা জানা যায়নি৷ তরুণ-তরুণীর পরিচয়ও জানা যায়নি৷ ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, সার্বিয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক বরিস মালাগুরস্কি৷ দেখা যাচ্ছে, মাঠে যখন যুদ্ধ চলছে তখন গ্যালারিতে সব যুদ্ধ এসে মিশে গিয়েছে প্রেমে৷ যুযুধান দুই দেশের সমর্থকই গভীর আবেগে একে অপরকে চুম্বন করছেন৷ সে চুম্বন যেন মায়াকাননের ফুল৷ যখন ফুটবলকে সমর্থন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল আকচাআকচি, যখন ঘৃণা-বিদ্বেষ আর অসূয়ার বীভৎস্য রস গড়িয়ে পড়ছে মন্তব্য থেকে প্রতি-মন্তব্যে, তখন এঁরা যেন দেখিয়ে দিচ্ছেন, ভালবাসা ফুটবলের থেকে অনেক বড়, লার্জার দ্যান লাইফ৷ সমর্থনের আংটি তাকে বেঁধে রাখতে পারে না৷ বরং তা বয়ে চলে এক রং থেকে অন্য রঙে, এক মন থেকে অন্য মনে, এক সমর্থক থেকে অন্য সমর্থনে৷
খেলার মাঠে এ নমুনা অবশ্য বিরল নয়৷ চলতি বিশ্বকাপেই এ ধরনের একটি ঘটনা নজরে এসেছিল৷ গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই জার্মানকে হারিয়ে দিয়েছিল মেক্সিকো৷ সেই আনন্দে এক মেক্সিকান যুবক তাঁর বান্ধবীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন৷ এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন দিনেই তো মন খোলা যায়৷ যুবকটি মেলে ধরেছিলেন নিজেকে৷ বুকে টেনে নিতে দ্বিধা করেননি কিশোরী৷ মধুরেণঃ সমাপয়েৎ হয়েছিল৷ এ দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল রিওর রোমান্সকে৷ মহিলাদের স্প্রিংবোর্ড ইভেন্টে রূপো জিতেছিলেন হে জি৷ একই খেলায় পুরুষ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তাঁর প্রেমিক কিন কে৷ সাফল্যের স্বীকৃতি মাথায় নিয়েই পোডিয়ামে একে অপরকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁরা৷ বড় মঞ্চে এভাবেই কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়৷ আর শুধু সেদিকে চোখ রেখেই যেন ঘিষাপিটা জীবনে আরও কিছুক্ষণ থেকে যেতে সাধ হয়৷ মনে হয়, জীবন এত ছোট কেন!
[ রিওয় রোমান্স: পদক জিতেই বিয়ের প্রস্তাব পেলেন চিনা অ্যাথলিট ]
কিন্তু তাঁরা কি কপোত-কপোতী? নাকি তাঁরা একেবারেই অপরিচিত? স্রেফ ভালবাসার টানেই কি তাঁরা ঠোঁটে ঠোঁট মেশালেন! কী এই তরুণ তরুণীর পরিচয়? কীইবা হবে তা জেনে! ভালবাসার ফুল যাঁরা ফোটাতে পারেন তাঁদের নামে কী এসে যায়৷ প্রেমের আবার আইডেন্টিটি কার্ড হয় নাকি!
সর্বশেষ খবর
-
ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় হার, ব্যর্থ হয়েও উজ্জ্বল বৈভব! লজ্জা ঢাকতে কী বললেন শ্রেয়স?
-
ছিয়াত্তরেও জীবনগাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত! ভাড়ার হলুদট্যাক্সিতে বছরের পর বছর যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ
-
ফিরল ২০১৪-র স্মৃতি! কলম্বিয়াকে হারিয়ে মেসিদের সামনে সুইজারল্যান্ড, শেষ আটে কার বিরুদ্ধে কে?
-
হরদীপ সিং নিজ্জর খুনের নেপথ্যে লরেন্স বিষ্ণোই, গোল্ডি ব্রার! এফবিআইয়ের জালে ২৪
-
কলকাতায় বিজেপির পুরনো দপ্তরে শ্যামাপ্রসাদ মিউজিয়াম, থাকবে ব্যবহৃত জিনিস, লেখা-ছবি