সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: যুব বিশ্বকাপ না বিশ্বকাপ? মঙ্গলবার রাত থেকে যুবভারতীর সামনে থইথই ভিড়। এক লহমায় সেদিকে তাকিয়ে এ প্রশ্ন ওঠাই সঙ্গত। কিন্তু এর নামই যে কলকাতা। আদ্যন্তে তো এ শহর ফুটবল পাগল। হয় সবুজ-মেরুন নয় লাল হলুদের জন্য গলা ফাটানো এ শহরের বহু বিকেলের মজ্জায় মিশে থাকে। আর তা যদি নাও হয় তবে নীল-সাদা নয় সবুজ-হলুদ আবেগে কেঁপে টেলিভিশনের সামনে বসে পড়া মাস্ট। মোটকথা বিশ্বের যে প্রান্তেই ফুটবল খেলা হোক না কেন, কলকাতা স্থির থাকতে পারে না। সেই শহরে যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। তাও আবার অপ্রত্যাশিত জ্যাকপট। ফলত উত্তুঙ্গ উত্তেজনায় তিলোত্তমা যে কাঁপবে এ আর বলার কী আছে!
[ ব্রাজিল-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুবভারতীতে ]
ব্রাজিল বনাম ইংল্যান্ড বললেই ফুটবল ইতিহাসের একাধিক পাতা উলটে যায়। ৬২, ৭০-এর বিশ্বকাপ এ প্রজন্মের অনেকে চাক্ষুস না করলেও, গল্প প্রায় সকলেরই জানা। ছোটরা খেললেও, হাজার হলেও সেই প্রতিপক্ষই নামতে চলেছে সাজানো যুবভারতীতে। এদিকে জার্মানির মতো নিয়মে বাঁধা দলকে যেভাবে শেষবেলায় সাম্বা ঝড়ে উড়িয়ে দিয়েছে ব্রাজিলের ছোটরা তাতে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। এমনিতেই কলকাতার সমর্থন ব্রাজিল ঘেঁষা। সাম্বা ঝড়ের সঙ্গে বুক ভাসাতে ভালবাসেন ফুটবলপ্রেমীরা। ইতিহাসের অভিশাপ মুছে দিয়ে পেলের দেশের ছোটদের জার্মানি বধের সাক্ষী থাকার পর সেমিফাইনালটা টিভিতে বসেই দেখতে হত। গুয়াহাটির মাঠের দুরবস্থায় শাপে বর হয়েছে। আর তারপর থেকে বাঙালির মুখে মুখে একটাই কথা, হলুদ-সবুজ ঝড় আরও একবার উঠুক। যুবভারতী যেভাবে চেহারা পালটে মুহূর্তে মারাকানা হয়ে ওঠে, তাতে কার্লোস আমাদেউ যে আমোদিত হবেন এমনটাই স্বাভাবিক। তাঁর ছেলেদের উপর ধকল খানিকটা গিয়েছে বটে, তবে এমন ভেন্যু পেয়ে খুশিই হয়েছেন তিনি। বাঙালি ফুটবলপ্রেমীদের দেখে তাঁর বুঝতে বাকি নেই, এমন বন্ধু আর কে আছে।
জার্মানির বিপক্ষের প্রথম একাদশ অপরিবর্তিতই রেখেছেন ব্রাজিলের কোচ। টুর্নামেন্টে দুটো গোল হজমের মধ্যে একটা এসেছে পেনাল্টি থেকে। তাই এ ব্যাপারে একটু জোর দিলেন। এরকম হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেট পিস মোমেন্ট দারুণ কাজে লাগে। ছেলেদের তাও প্র্যাকটিস করিয়ে রাখলেন আমাদেউ। অন্যদিকে কুপার জোর দিলেন মাঝমাঠের উপর। ইংল্যান্ড কোচ খুব ভালই জানেন, জার্মানি ম্যাচের শেষভাগের মতো ব্রাজিল যদি তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারে, আর উইং থেকে সাম্বা ঝড় ওঠে, তবে খেলা ঘুরিয়ে দিতে মাঝমাঠকে বড় ভূমিকা নিতেই হবে। এ পর্যন্ত দুটো গোল হজম করতে হয়েছে তাদেরও। তবে অন্যের জালে বল জড়িয়েছে ১৫ বার। ব্রাজিল সেখানে ১১। কিন্তু জার্মান বধের পর যে আত্মবিশ্বাসের শিখরে উঠেছে ব্রাজিল তাতেই বোধহয় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন কুপার।
[ সেমিফাইনালের টিকিটের হাহাকার, যুবভারতীতে বিক্ষোভ ফুটবলপ্রেমীদের ]
এদিকে মোটে তিন মিনিটে কলকাতায় ম্যাচ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এখনও পর্যন্ত ফিফার আস্থার পুরো মূল্য মিটিয়ে দিতে পেরেছে বাংলা। টিকিট নিয়ে ডামাডোল হওয়ার শঙ্কা ছিল। ভিড়ও হয়েছে বেজায়। কিন্তু সেসব সুষ্ঠুভাবেই সামলেছে রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তর। মঙ্গলবার সন্ধেয় সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, টুর্নামেন্টের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর জয় ভট্টাচার্যরা বলেই দিয়েছেন, আগে সাধারণ দর্শক টিকিট পাবে। তারপর অন্য কিছু। এদিকে আগের ম্যাচে মাঠে কিছু পাউচ পড়েছিল। একটা চেয়ার ভাঙা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। দর্শকদের অভব্যতা রুখতে স্টিওয়ার্ড রণকৌশল নিয়েছে পুলিশ। সাধারণ পোশাকেই দর্শকের ভিড়ে তাঁরা মিশে থাকবেন। তাঁদের বডি ক্যামেরাতেই ধরা পড়বে দর্শকদের কাজকর্ম। সেই অনুযায়ীই নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে এক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। মাঠে নামছে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড। আর সে যুদ্ধের সৈনিক হয়ে যেন স্টেডিয়াম ভরাতে চলেছেন কয়েক হাজার দর্শক। কলকাতার প্রত্যাশা হয়তো সাম্বা ঝড় উঠুক। তবে খেলার নিয়ম অনুযায়ী কেউ একজন জিতবে। কী হবে তা সময়ই জানাবে। তবে সকলের প্রত্যাশা বোধহয় একটাই, জিতে যাক ফুটবল। জিতে যাক বাঙালির ফুটবলপ্রেম।
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে বিশ্রী পারফরম্যান্স দলের, প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে দেশ ছেড়ে পালালেন কোচ
-
‘কালো টাকা’ লেনদেন কোন পথে? সিটের নজরে দেবরাজের ‘স্পেশাল ৩০’
-
‘আর্জেন্টিনার অবস্থা তৃণমূলের মতো’, কটাক্ষ দিলীপের, পার্টি অফিস ‘দখল’ নিয়েও খোঁচা!
-
পরিচালক রাজা চন্দর সঙ্গে আট বছরের দাম্পত্য, মা হচ্ছেন অভিনেত্রী পিয়ান
-
টানা ৩ বিশ্বকাপে হতাশা, সুদিন ফেরাতে জার্মানির দায়িত্বে ক্লপই