BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ফুটবলার নির্বাচন নিয়ে সমর্থকদের রোষের মুখে অ্যালভিটো, অভিযোগ কাটমানি নেওয়ারও!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: February 2, 2018 3:19 pm|    Updated: September 17, 2019 1:51 pm

An Images

দুলাল দে: ১৪ বছর জাতীয় লিগ অধরা। লাল-হলুদ সমর্থকদের রাগ, ক্ষোভ-বিক্ষোভ আছড়ে পড়ছে সোশ্যাল সাইটে। টার্গেট কর্তাদের সঙ্গে ফুটবলার রিক্রুটের দায়িত্বে থাকা অ্যালভিটো ডি’কুনহাও। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুৎসা প্রচার কিছুই বাদ যাচ্ছে না। একান্ত সাক্ষাৎকারে কী জানালেন অ্যালভিটো?

প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে সমর্থকদের মারাত্মক অভিযোগ, আপনি নাকি ফুটবলারদের থেকে কাটমানি নেন?
অ্যালভিটো: সমর্থকদের কাছে নির্দিষ্ট ইনফরমেশন আছে বলেই নিশ্চয় অভিযোগ করছেন। হাত জোর করে সমর্থকদের বলছি, একজন ফুটবলারকে বলতে বলুন না যে আমায় কাটমানি দিয়েছে। সবার সামনে বলুক, কবে কার থেকে কত কাটমানি নিয়েছি। তা হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। আর যদি সেটা না পারেন তাহলে থামুন। কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়। শুনেছি যখনই ক্লাবের ফল খারাপ হয়েছে তার কারণ খুঁজে না পেয়ে কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রশ্ন: এটা তো ঠিক ভারতীয়দের সঙ্গে বিদেশি ফুটবলার আপনিই নিয়ে এসেছেন?
অ্যালভিটো: আমার এতটা ক্ষমতা রয়েছে জানতাম না। ফুটবলার বাছাই করেন কোচ। কর্তারা আমাকে বলেন সেই ফুটবলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। আমি যেহেতু ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি, কোঙ্কনি এবং একইসঙ্গে পর্তুগিজে কথা বলতে পারি তাই আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এজেন্টের সঙ্গেও আমার যোগাযোগ আছে। তাই সরাসরি ফুটবলারদের কাছে পৌঁছতে আমার সুবিধা হয়। আমি কথা বলার পর তাকে দলে নেওয়া হবে কি হবে না তা ঠিক করার দায়িত্ব কোচের। এখানে আমার ক্ষমতা কোথায়?

[কী ভাবছেন ইনি সর্দারজি! ভাল করে দেখুন তো চিনতে পারেন কিনা?]

প্রশ্ন: আপনি প্রাক্তন ফুটবলার। তাহলে আপনার মাধ্যমে ডুডুর মতো একজন বর্ষীয়ান, আনফিট ফুটবলার আনার সময় কেন আপত্তি জানাননি?
অ্যালভিটো: কে বলল জানাইনি? কোচ খালিদ যখন বলল ডুডুকে চান, খোঁজ নিয়ে বললাম এই মুহূর্তে খেলার জায়গায় নেই। তারপরও খালিদ বলল ডুডুকেই চাই। ক্লাবের একজন কর্মী হিসেবে আমার কাজ কোচের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেওয়া। তাহলে আমার দোষটা কোথায়?

প্রশ্ন: কিন্তু দলের ব্যর্থতায় তো আপনিও সমান অংশীদার।
অ্যালভিটো: অবশ্যই। আপনার কী মনে হয় দলের এই ব্যর্থতায় আমার কষ্ট হচ্ছে না? এত কষ্ট করে দল করি। সেটা কি হারার জন্য? কিন্তু আমাকেই শুধু টার্গেট করা হচ্ছে কেন? গত বছর মর্গ্যান কোচ থাকার সময় আমি দলের ধারেকাছে ছিলাম না। কোনও ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলিনি। তাহলে গত মরশুমে আই লিগ পেলাম না কেন? মনে করে দেখুন গত মরশুমেও মোহনবাগানের কাছে আমরা দু’বার হেরেছি। শুধু গত মরশুমই নয়, গত চোদ্দো বছরের ব্যর্থতার বেশির ভাগ সময়টাই আমি দলবদলে নেই। তাহলে ট্রফি আসেনি কেন? ব্যর্থতার কারণ না খুঁজে আমাকে ভিলেন বানানো হচ্ছে।

প্রশ্ন: এটা তো সত্যি আপনার মাথায় ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের (নীতু দা) আশীর্বাদের হাত রয়েছে?
অ্যালভিটো: এটার কী উত্তর দেব বলুন। নীতু দা শুধু আমাকেই নয়, সবাইকে ভালবাসেন। খোঁজ নিয়ে দেখুন বিভিন্ন দরকারে তুষার রক্ষিতের থেকে পরামর্শ নেন নীতু দা। মনা দা, ভাস্কর দা সবার সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এমনকী চন্দন দাসও নীতুদার প্রিয় ফুটবলার। আমার কপাল খারাপ। ক্লাবের জন্য এত করেও খারাপ কথা শুনতে হয়। ঘরে, বাইরে দল কখন, কোথায় প্র্যাকটিস করবে? কোচের সঙ্গে কথা বলে সবকিছু ঠিক করি। সমর্থকরা সেগুলো জানতেও পারেন না।

প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ, শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের সঙ্গে গোয়ায় নাকি আপনার হোটেল ব্যবসা আছে..।
অ্যালভিটো: ভেবে পাচ্ছি না কেন এসব কথা বলা হচ্ছে। আমার হোটেল আমিই দেখতে পেলাম না! সমর্থকদের অনুরোধ, আপনারা দয়া করে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আমার নামে জনস্বার্থ মামলা করুন। তাহলে জেনে যাবেন নীতু দার সঙ্গে আমার কোথায় ক’টা হোটেল আছে। আইনিভাবে প্রমাণ করতে না পারলে কাদা ছোড়া বন্ধ করুন। মনে রাখবেন আমারও পরিবার আছে।

[কোহলি-রাহানের সঙ্গে একসারিতে কুলদীপ-চাহালকে বসালেন শচীন]

প্রশ্ন: এরপরেও ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত আছেন?
অ্যালভিটো: অনেকবার অন্য ক্লাবের নানা প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে ইস্টবেঙ্গলেই থেকেছি। একটা ম্যাচের কথাই বলছি। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তিন গোলে পিছিয়ে ছিলাম আমরা। সেখান থেকে দু’গোল করে খেলায় ফিরিয়ে এনেছিলাম। ম্যাচ শেষে এই সমর্থকরাই আমার পায়ে এসে পড়েছে। কোলে তুলে ড্রেসিংরুমে পৌঁছে দিয়েছে। তারপর এসব কথা শুনলে কষ্ট হয়। মনে হয়, এরাই প্রমাণ ছাড়া স্রেফ অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কাদা ছুড়ছেন।

প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আক্রম ইস্টবেঙ্গলে খেলতে চেয়েছিল। আপনি নেননি। তাই মোহনবাগান পায়?
অ্যালভিটো: একটু ভুল হল। আমি আক্রমের সঙ্গে প্রথমে যোগাযোগ করি। আক্রম প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ইস্টবেঙ্গলে খেলতে চায়। খালিদকে জানানোর পরও আক্রমকে না চেয়ে ডুডুকে চাইল। আগেও বললাম কোচ যা চাইবেন সেটা পালন করা আমার কর্তব্য। অথচ আমিই কিনা ভিলেন হয়ে গেলাম।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement