Advertisement
Advertisement
Germany vs Paraguay

বিশ্বকাপে মহা অঘটন! রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় জার্মানির

জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৩০, ২০২৬, ০৫:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৩০, ২০২৬, ০৫:২০

options
link
বিশ্বকাপে মহা অঘটন! রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় জার্মানির zoom
গোলের পর প্যারাগুয়ের এনসিসোর উচ্ছ্বাস। ছবি: সোশাল মিডিয়া

জার্মানি: ১ (হাভার্ৎজ)
প্যারাগুয়ে: ১ (এনসিসো)
টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে প্যারাগুয়ে জয়ী
বিশ্বকাপে মহা অঘটন! জার্মানিকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে। রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে সাডেন ডেথে জিতে পরের রাউন্ডে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ। অন্যদিকে স্বপ্নভঙ্গই সঙ্গী চারবারের বিশ্বজয়ী দলের। ৪২ মিনিটে এনসিসোর হেডে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়েই। ৫৪ মিনিটে সমতা ফেরান জার্মানির কাই হাভার্ৎজ। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময়ের পর ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারেননি কিংবদন্তি গোলকিপার ম্যানুয়েল ন্যয়ারও। জোড়া সেভে নায়ক প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।

এবারের বিশ্বকাপে অঘটনের কমতি নেই। বস্টন স্টেডিয়ামে জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান যে দলটা নামাল, তাতেই বিপদের গন্ধ ছিল। প্রথম একাদশে নেই জামাল মুসিয়ালা। চোট-আঘাতের সমস্যা নেই। একেবারেই ‘ট্যাকটিক্যাল ডিসিশন’। প্যারাগুয়ের মতো ‘ছোট’ দল যে চারবারের বিশ্বজয়ীদের বিরুদ্ধে ‘পার্ক দ্য বাস’ ডিফেন্স করবে, সেটাই প্রত্যাশিত। সেখানে মুসিয়ালাকে বসিয়ে রাখার অর্থ বল ডিস্ট্রিবিউশন হবে না, কোনও ডিফেন্স চেরা পাস আসবে না। বদলে কাই হাভার্ৎজের সঙ্গে প্রথম থেকেই জুড়ে দেওয়া হল ডেনিজ উন্দাভকে। দুই স্ট্রাইকার বক্সের মাথায় দাঁড়িয়ে রইলেন, বল এল না। দুই তরুণ মিডফিল্ডার এনমেচা ও পাভলোভিচ, দুজনেই বরাবরই ধারাবাহিকতার অভাবে ভোগেন। এদিন প্যারাগুয়ের ছেড়ে দেওয়া মাঝমাঠটা ব্যবহার করতে পারলেন না কেউই। দুই উইং ধরে উইঙ্গার ফ্লোরিয়ান উইর্ৎজ ও লেরয় সানে অনর্থক দৌড়ে গেলেন। ভারতীয় সময় মধ্যরাতে ঘুমপাড়ানি ফুটবল দেখাটা সত্যিই বিরক্তিকর।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তবে ৪২ মিনিটে জার্মানির ঘুম ছুটিয়ে দিলেন জুলিও এনসিসো। মাতিয়াস গালারজার ক্রস থেকে আচমকা হেডে গোল করে যান এনসিসো। কেউ মার্কিংই করেননি তাঁকে। জার্মানির দুই দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার ও জোনাথান তাহও বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘুম ভাঙতে দেখলেন বল জালের ভিতর। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান জোশুয়া কিমিচরা। প্রায় ৮০ শতাংশ বল পজিশন থাকলেও গোল লক্ষ্য করে শটে এগিয়ে ছিল প্যারাগুয়েই।

দ্বিতীয়ার্ধে এনমেচাকে তুলে বড় চেহারার লিওঁ গোরেৎজকাকে নামায় জার্মানি। আর ৫৪ মিনিটে সমতা ফেরালেন হাভার্ৎজ। ক্লাবের হয়ে বড় ম্যাচে গোল করার অভ্যাস আছে জার্মান স্ট্রাইকারের। দেশের হয়েও সেটা করে দেখালেন। উইর্ৎজের মাপা ক্রসে মাথা ছুঁয়ে গোল করেন তিনি। এর মধ্যে প্যারাগুয়ের বিপদ আরও বাড়ল গোলদাতা এনসিসো চোট পেয়ে উঠে যাওয়ায়। তবু গোলের দেখা মেলেনি। বাধ্য হয়ে মুসিয়ালা-সহ তুরুপের বাকি তাস বের করেন নাগেলসম্যান। ফের গোলের সুযোগ এসে গিয়েছিল হাভার্ৎজের কাছে। কিন্তু এবার অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় গোল বাঁচান প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল।

নির্ধারিত সময়ের ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির দাপট বজায় ছিল। ৯৭ মিনিটে ভোলটেমাডের শট বাঁচান প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার দিয়েগো গোমেজ। হ্যান্ডবলের আবেদনে কর্ণপাত করেননি রেফারি। ১০২ মিনিটে হেডে গোল করে ফেলেছিলেন জোনাথান তাহ। জার্মানির শেষ ১৬-য় ওঠা যেন তখনই নিশ্চিত। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ‘ভার’। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি জানিয়ে দেয়, আগেই প্যারাগুয়ের গোলকিপারকে ফাউল করা হয়েছিল। দু’টি সিদ্ধান্তই বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। পুরো ম্যাচজুড়ে জার্মানি বলের দখল রেখেছে, আক্রমণও করেছে। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও গোলের খুব কাছে এসে ফিরে গিয়েছে। অতিরিক্ত সময়ের শেষেও ফলাফল থাকে ১-১।

এরপর পেনাল্টি শুটআউট। কিন্তু প্রথমেই মিস করেন হাভার্ৎজ। বলা ভালো, বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ সেভ করেন গোলকিপার গিল। ম্যাচে গোল করলেও, শুরুতে তাঁর মিস করাটা ছিল অশনিসংকেত। প্যারাগুয়ের হয়ে গোল করেন মরিসিও। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হননি জার্মানির কিমিখ, মুসিয়ালারা। অন্যদিকে প্যারাগুয়েও পরপর গোল করে। আবার ভোলটেমাডের সেভ ফের বাঁচিয়ে দেন গিল। নাটক জমে যায় প্যারাগুয়ের সানাব্রিয়া বাইরে মারায়। জার্মানির আমিরিও গোল করেন। শেষ শটে মিস করেন প্যারাগুয়ের বালবুয়েনা। স্কোর ফের সমান-সমান। অবশেষে সাডেন ডেথ। সেখানে তাহ বল উড়িয়ে দেন আকাশে। অবশেষে হোসে গোল করতেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় জার্মানির। রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারের শেষে মহা অঘটন ঘটিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে গেল প্যারাগুয়ে। ২০১৪-য় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে শুধুই অঘটনের সাক্ষী থেকেছে জার্মানি। যে ম্যাচ গভীর রাতে শুরু হয়েছিল ঘুমপাড়ানি ফুটবলে, ভোরবেলায় সেটাই প্যারাগুয়ের জন্য রূপকথার জন্ম দিয়ে গেল।  

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.