সর্পিল গতিতে এগিয়ে চলেছেন দিয়েগো মারাদোনা। একে একে তাঁর গতির কাছে হার মানছেন পিটার রিড, পিটার বেয়ার্ডসলি, টেরি বুচার ও টেরি ফেনউইকরা। সামনে কেবল গোলরক্ষক পিটার শিলটন। তাঁকেও পরাস্ত করে জন্ম দেন ফুটবল ইতিহাসের অমর ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’র। আর সেই ম্যাচেই ছিল বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এই দুই মুহূর্ত। সঙ্গে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি। তবে চার দশক আগের সেই বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) ফাইনালের আরেকটি ঘটনা মারাদোনার জাদুর আড়ালে প্রায় হারিয়েই গিয়েছে। খুব কম মানুষই জানেন, অসহনীয় যন্ত্রণা সহ্য করেও ফাইনাল ভাঙার বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি হোসে লুইস ‘টাটা’ ব্রাউন।

আরও পড়ুন:
যে আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোকে হারিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ ও ‘থ্রি লায়ন্স’ গেয়ে সেলিব্রেশনে মেতে উঠেছিলেন ইংল্যান্ড ফুটবলাররা, সেই স্টেডিয়ামেই চার দশক আগে ফাইনালের আসর বসেছিল। গ্যালারিতে ১ লক্ষ ১৪ হাজার দর্শক। মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-পশ্চিম জার্মানি। শুরু থেকেই ঝড় তোলে আকাশি-সাদা ব্রিগেড। ম্যাচের বয়স তখন ২৪ মিনিট। বুরুচাগার ফ্রিকিক থেকে জার্মান গোলরক্ষক হারাল্ড শুমাখারের ভুলের সুযোগ নিয়ে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ব্রাউন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটাই ছিল তাঁর একমাত্র গোল! আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৪৯ মিনিটে নরবার্ট এডারের সঙ্গে সংঘর্ষে কাঁধে গুরুতর চোট পেলেন। কিন্তু কথায় আছে, ব্যথা আমাদের ধৈর্য বাড়ায়। দুঃখ আমাদের কোমল করে। আঘাত আমাদের আরও শক্তিশালী করে তোলে। ব্রাউনের ক্ষেত্রে হয়তো এ কথা খেটে যায়।
চিকিৎসকরা চেয়েছিলেন, তিনি যাতে না খেলেন। কারণ এই ধরনের চোটে ঝুঁকি আরও বাড়ে। কিন্তু ব্রাউনের সিদ্ধান্ত ছিল অন্যরকম। তিনি মাঠ ছাড়বেন না। জার্সিতে দাঁত দিয়ে একটি ছিদ্র করে সেটিকেই অস্থায়ী স্লিং বানিয়ে আহত হাত ঝুলিয়ে নেন। মাত্র ২৮ সেকেন্ড মাঠের বাইরে থেকে আবার নেমে পড়েন খেলায়। তবে গল্পের শুরুটা এটা নয়। শুনলে অবাক হবেন, একটা সময় হাঁটুর চোটে ভুগতে ভুগতে ঠিকানাহীন হয়ে পড়েছিলেন। কোনও ক্লাব ছিল না। এমনকী ’৮৬ বিশ্বকাপেও দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম। কোচ কার্লোস বিলার্দো ভালো করেই চিনতেন ব্রাউনকে। তাঁর সৌজন্যেই দলে তিনি জায়গা করে নেন। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। কিন্তু আর্জেন্টিনা দলে ছিলেন কিংবদন্তি সেন্টার ব্যাক সেন্টার-ব্যাক ড্যানিয়েল পাসারেল্লা। তাঁর জায়গায় কীভাবে মিলবে সুযোগ? এন্টেরোকোলাইটিস নামক পেটের অসুখে ভুগে বিশ্বকাপ খেলতেই পারলেন না। সেই সুযোগ কাজে লাগালেন ব্রাউন।

কিন্তু ব্রাউনও তো পুরোপুরি চোটমুক্ত নন। কীভাবে অসাধ্য সাধন হল? এর নেপথ্যে কোচিং স্টাফের সদস্য প্রফেসর রিকার্ডো এচেভেরিয়ার অসাধারণ ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট। তাঁদের কল্যাণেই আর্জেন্টিনা ডিফেন্সের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠেন ব্রাউন। ফাইনালের আগের রাত। উত্তেজনায় ঘুমোতেই পারলেন না! কখনও এপাশ-ওপাশ করেছেন। কখনও দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে থেকেছেন। আবার কখনও সন্তানের ছবি দেখেছেন। সেই তিনিই ফাইনালে ইতিহাস লিখেছেন। কাঁধ ডিসলোকেট (স্থানচ্যুত) হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাঠ ছাড়ার প্রশ্নই ওঠেনি। আর্জেন্টিনার আর কোনও বদলির সুযোগ ছিল না। তাই এক হাত প্রায় ঝুলিয়ে রেখেই পুরো ম্যাচ শেষ করেন ব্রাউন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলার চেয়ে আহত অবস্থায় মাঠে থাকা দলের জন্য বেশি মূল্যবান। ব্যথা তখন অসহনীয়। প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি ক্লিয়ারেন্সে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছিলেন। লড়াই থামাননি এক মুহূর্তের জন্যও।আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপ জিতে নেয়। ব্রাউনের সেই আত্মত্যাগ আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চতুর্থ বিয়ের ৫ মাসেই মা হলেন সুস্মিতা, প্রথমবার মাতৃত্বের স্বাদ পেয়ে কী জানালেন ইনফ্লুয়েন্সর?
-
পাঞ্জাবে ৪ বছরে শিশুকে ছিঁড়ে খেল পথকুকুর! আর্তনাদ শুনে ছুটে এসেও বাঁচাতে পারল না মা-বাবা
-
প্রেমিকার বাড়িতে ডেকে ৩ মাসের স্ত্রীকে খুন! নেপাল পালিয়েও হল না রক্ষা, পুলিশের জালে অভিযুক্তরা
-
শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে পতাকা উত্তোলনের সময় মর্মান্তিক ঘটনা, মৃত্যু বিজেপি কর্মীর!
-
বারুইপুর কাণ্ডে জিরো টলারেন্স, এবার যুক্ত হল গণধর্ষণের ধারাও, পুলিশ হেফাজতে দুই
