Advertisement
Advertisement
FIFA World Cup 2026

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বৈরিতা বহু আগের! সুইস-জয় মেসিদের ভরসা দিতে পারছে না ‘ফকল্যান্ড’ যুদ্ধে

আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে খেলতে নামার আগে বিশ্বব্যাপী নীল-সাদা সমর্থকদের হৃদয় অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠেছে।

দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১৭:০০

link
দুলাল দে
দুলাল দে

শেষ আপডেট: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১৭:০০

options
link
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বৈরিতা বহু আগের! সুইস-জয় মেসিদের ভরসা দিতে পারছে না ‘ফকল্যান্ড’ যুদ্ধে zoom
উচ্ছ্বসিত জুলিয়ান আলভারেজ। ছবি সংগৃহীত।
Advertisement

এবার আর শুধুই ফুটবল নয়। সামনে এবার ফুটবল-রূপী অন্য রকমের যুদ্ধ। কিন্তু সেই যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে লিওনেল মেসিরা যে পারফরম্যান্স দেখালেন, তাতে কিন্তু আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে খেলতে নামার আগে বিশ্বব্যাপী নীল-সাদা সমর্থকদের হৃদয় অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠেছে।

আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। সবাই হয়তো সেই ’৮২-র ‘ফকল্যান্ড যুদ্ধে’র উপমা টেনে আনবেন। কিন্তু ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ডের মধ্যে ফুটবল সম্পর্কিত বৈরিতা শুরু তার বহুকাল আগেই।

Advertisement

১৯৬৬ সালে। সেই ‘কালা বিশ্বকাপে’র কোয়ার্টার ফাইনাল। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক রাত্তিনকে লাল কার্ড দেখান জার্মান রেফারি। প্রথমটায় বুঝতে না পেরে বিরক্তিতে মাঠেই দাঁড়িয়ে থাকেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। শেষে পুলিশ দিয়ে মাঠ থেকে বের করা হয় রাত্তিনকে! মাঠে দাঁড়িয়েই ইংল্যান্ড কোচ আল্ফ র‌্যামসে ‘পশু’ বলে সম্বোধন করেন রাত্তিনকে। যা বর্ণবিদ্বেষী আচরণ হিসাবে চরম অপমানের সঙ্গে মনে রেখে দেয় আর্জেন্টাইনরা।

ছবি সংগৃহীত।

সেই শুরু। তারপর ফকল্যান্ড যুদ্ধ তো সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। ৭৪ দিনের টানা যুদ্ধে ব্রিটিশদের কাছে পরাজয়। বহু আর্জেন্টাইনের মৃত্যু। আরও একজন সেদিন মন থেকে মেনে নিতে পারেননি এই পরাজয়। যুদ্ধক্ষেত্রে হয়তো রাইফেল হাতে ছুটে যাননি। কিন্তু চার বছর পর ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির খর্বকায় মানুষটা বাঁ পা দিয়ে শাসন করেছিলেন ইংল্যান্ডের মিথ্যে অহংকার আর ঐতিহ্যকে। প্রথমটায় সেই বিতর্কিত, ‘হ্যান্ড অফ গড।’ দ্বিতীয়টি ৬ জনকে কাটিয়ে শতাব্দীর সেরা গোলে। কিন্তু এবার কি মেসি আটলান্টার বুকে পারবেন, ফকল্যান্ড যুদ্ধে নিহত সেই ৬৪৯ জন আর্জেন্তাইনের হয়ে এই ‘৩৯’ বছর বয়সে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠতে?

পরিস্থিতি বলছে, কঠিন। বেশ কঠিন। অন্তত কানসাসের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড ম্যাচ দেখার পর মনে হচ্ছে, দলের মধ্যে দ্রুত না বদল ঘটাতে পারলে হ্যারি কেনরা কিন্তু এবার সত্যিই সমস্যায় ফেলবেন। যদিও বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি বললেন, “আসলে আমাদের দলই এরকম। কোণঠাসা না হলে, ঘুরে দাঁড়ায় না।”

কেপ ভার্দে দিয়ে শুরু। তারপর মিশর হয়ে সুইজারল্যান্ড। এখন আর্জেন্টিনা ম্যাচ দেখার আগে বিধিসম্মত সতর্কীকরণ দেওয়া উচিত, ‘হৃদযন্ত্রে সামান্য সমস্যা থাকলেও ম্যাচ দেখবেন না।’ ৭২ মিনিটে এমবোলো লাল কার্ড দেখায়, সুইজারল্যান্ড তখন ১০ জনে খেলছে। আর ঠিক সেই সময়েই জুলিয়ান আলভারেজের সেই বিশ্বমানের গোল। তবে এমবোলোর লাল কার্ড দেখা নিয়েও সামান্য বিতর্ক তৈরি হল। প্রথমে ফাউল ভেবে হলুদ কার্ডটা দেখানো হয়েছিল পারেদেসকে। পরে ‘ভিএআর’-এর সাহায্য নিয়ে হলুদ কার্ড দেখলেন এমবোলো। দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ডের জন্য সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড। তাতেও যে মেসিরা খুব একটা স্বস্তিতে ছিলেন এরকমটা নয়। বরং মাঠে থাকা সাউন্ড সিস্টেম থেকে শোনা যায়, পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরোকে মেসি বলছেন, “আমাকে সম্মান দিয়ে সঠিকভাবে কথা বলুন। আমি আপনাকে অসম্মানিত করিনি।” এই ঘটনার পর অবশ্য রেফারি-মেসির কোনও সংঘাত হয়েছে বলে এরকম কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে রেফারির প্রতি সরাসরি অভিযোগ হেনে বলেন, “যে নিয়মে এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, সেটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই নিয়মের সঙ্গে ফুটবলের কোনও সম্পর্ক নেই।”

ছবি সংগৃহীত।

তবে সুইজারল্যান্ড ১০ জনে হয়ে যাওয়ার পরেও যে আর্জেন্টিনা তাদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছে, এরকমটা নয়। বরং ৩-১ ফলাফলে জয়ের স্কোরবোর্ড দেখলে ম্যাচের আসল চিত্রটাই প্রকাশিত হবে না। শুরুতেই মেসির কর্নার থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডে গোলের পর মনে হচ্ছিল, খেলা বোধহয় সেখানেই শেষ। কিন্তু ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিয়ে খেলায় ফিরল সুইজারল্যান্ড। দুই দলের মুখোমুখির ইতিহাস যতই তাদের বিরুদ্ধে থাকুক না কেন, দ্বিতীয়ার্ধে এনদোয়ে, গোলকিপার এমি মার্টিনেজের পায়ের ফাঁক থেকে যেভাবে জোরালো শটে গোলটা শোধ করলেন, অবিশ্বাস্য! আর তারপরেই সেই অভিশপ্ত লাল কার্ডে সুইজারল্যান্ডের ১০ জন হয়ে যাওয়া। তার আগেই অবশ্য মার্টিনেজের সঙ্গে হ্যান্ডশেক দূরত্ব থেকে গোল মিস করে গিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

দশজনের সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হলেও আলভারেজ যে গোলটা করেছেন, সেটা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) প্রথম দশে থাকতেই পারে। সেমিফাইনালের আগে স্কালোনির জন্য এটাই খুশির খবর যে, পরিবর্তে নেমে গোল পেলেন লটারো মার্টিনেজ। নাহলে মেসিকে সেমিফাইনালে আরাম করে ইংল্যান্ড ঘুরে বেড়াতে দেবে মাঠে, এরকমটা ভাবাই বোকামি।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.