ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ফুটবলে আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ, এ নিয়ে বিতর্ক সপ্তমে। তবে ‘লা আলবিসেলেস্তে’কে নিয়ে অভিযোগ বেশ গুরুতর। আর্জেন্টিনাকে নাকি জোর করে জেতানো হয়েছে। আগে থেকেই নাকি ঠিক করা ছিল, আর্জেন্টিনাকেই জেতাতে হবে। সেই কারণেই অযাচিত সুবিধা পাচ্ছেন লিওনেল মেসিরা। কিন্তু এই ‘সেটিং তত্ত্ব’ কতটা সত্যি? এই প্রশ্নের মাঝেই প্রকাশ্যে এল ভিএআর পরিসংখ্যান।
সোশাল মিডিয়ায় এই তত্ত্ব এখন রীতিমতো ট্রেন্ডিং। সেমিফাইনালের চার দল চূড়ান্ত হওয়ার পর বিতর্ক আরও জোরাল। তবে আবেগ নয়, পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে ভিন্ন ছবি দেখা যাবে। তথ্য বলছে, ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দলের তালিকায় আর্জেন্টিনা শীর্ষে নয়, তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্ব থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত প্রতি ১০০টি ফাউলে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হার সবচেয়ে বেশি ছিল আয়োজক দেশ মেক্সিকোর পক্ষে ৭.৮। সেখানে আর্জেন্টিনার ৬.৭।
আরও পড়ুন:
চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হল, এই পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটিও ভিএআর সিদ্ধান্ত যায়নি। তালিকায় পর্তুগাল (৪.৬), নিউজিল্যান্ড (৪.২), সৌদি আরব (৩.৬) রয়েছে যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম স্থানে। অন্যদিকে ভিএআরের সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার উপর। ২০১৮ সালের রানার্সরা একবারও এর সুবিধা পায়নি। বরং তাদের বিপক্ষে হস্তক্ষেপ হয়েছে প্রতি ১০০ ফাউলে ৬.৫ বার। এরপর রয়েছে ইরান (৫.৪), কাতার (৫.১), জার্মানি (৪.০) এবং ইংল্যান্ড (৩.৫)।

শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে হেরে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “কে কী মনে করল তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। আমি সত্যি কথাটাই বলতে এসেছি। ভালো ভালো কথা বলতে এখানে আসিনি। আমাদের সঙ্গে অন্যায়ভাবে প্রতারণা করা হয়েছে। গভীর অবিচারের শিকার হয়েছি আমরা।” এমনকী রেফারিং নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগও করেছে মিশর ফুটবল সংস্থা। যদিও সেই অভিযোগ একেবারে ফুৎকারে উড়িয়ে দেন ফিফার চিফ রেফারিং অফিসার পিয়েরলুইগি কোলিনা। সাফ জানিয়ে দিলেন, ফিফা রেফারিদের কাজে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনতে পারেন না কেউই।
অন্যদিকে, এই ম্যাচে ফিফার নতুন ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মে প্রথম খেলোয়াড় হিসাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। ৭১ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে রেগে কাঁই সুইজারল্যান্ড শিবির। ম্যাচের পর সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত সত্যিই বোধগম্য নয়। আমি জানি ফিফা রেফারিদের প্রতিবারই সুরক্ষা দেবে। কিন্তু এই নিয়মের কারণেই ম্যাচটা শেষ হয়ে গিয়েছে।” এই পরিস্থিতিতে পরিসংখ্যানে মেক্সিকো এগিয়ে থাকলেও, মেসিদের পক্ষে ভিএআর রক্ষাকবচের ভূমিকা পালন করেছে, এমন অভিযোগ তুলছেন অনেকেই। আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বিতর্কের আরও একটি কারণ আলজেরিয়া ম্যাচে মেসির একটি স্টাডস-আপ ট্যাকল। অনেকের মতে, ওই ঘটনায় মেসির লাল কার্ড দেখা উচিত ছিল। কিন্তু রেফারি তাঁকে হলুদ কার্ডও দেখাননি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘রাক্ষসী নয় বরং…’, নিন্দুকদের পালটা কী টিপস ‘দিদি নম্বর ওয়ান’ স্বস্তিকার?
-
ফুলশয্যার পর এবার চলন্ত ট্রেনে পূজার্চনা! নতুন ভিডিও ভাইরাল হতেই কী দাবি রেলের?
-
২১ জুলাইয়ের আগে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা কেন? হাই কোর্টে কালীঘাট তৃণমূল
-
গোহত্যায় বাধা নেই! মাদ্রাজ হাই কোর্টের রায়ে ‘সুপ্রিম’ স্থগিতাদেশ, বড় সাফল্য বিজয় সরকারের
-
অবিলম্বে স্থগিতাদেশ চাই! গুন্ডাদমন আইন লাগু হওয়ার দিনই হাই কোর্টে মামলা
