মোহনবাগান- ১ (কিংসলে)
ইস্টবেঙ্গল- ০
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এক শহর, দুই হৃদয়। রবিবারের কলকাতা যেন ভাগ হয়ে গিয়েছিল দু’ভাগে। একদিকে সবুজ-মেরুন, আরেকদিকে লাল-হলুদ। বহুদিন পর ডার্বি ফিরেছে যুবভারতীতে। আর গোটা শহর ছুটছে সেদিকে। ছুটির দিনের দুপুরে একটাই চিত্র। মাঠের বাইরে সমর্থক টানার ক্ষেত্রে যদি দু’দলই সমানে সমানে লড়াই করে তাহলে মাঠের ভিতরের যুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলকে টেক্কা দিল মোহনবাগান। গত মরশুমে আইজলে খালিদের তত্ত্বাবধানে খেলা কিংসলের গোলেই পরাজয় স্বীকার করতে হল আই লিগ জয়ী কোচকে।
[জানেন, কেন অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইনিংস ডিক্লেয়ার করলেন বিরাট?]
আইএসএল-এর ম্যাচে যদি এটিকে যুবভারতী ভরাতে পারে, তাহলে দেশের দুই ঐতিহ্যশালী দল ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান কেন পারবে না? ম্যাচের আগেরদিন দু’দলের সমর্থকদের মুখেও বারেবারে উঠে আসছিল সেকথা। আর সেই প্রতিচ্ছবিই দেখা গেল ম্যাচের দিনও। বলতে গেলে ফাঁকা ছিল না কোনও অংশই। ম্যাচের সময় জানা যায়, মোট দর্শকসংখ্যা ৬৪,৬৩০ জন। আই লিগ শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচই ডার্বি। শনিবার যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে দু’দলের কোচই এককথায় জানিয়ে দিলেন, যেদিনই হোক খেলতে হবে। তাঁদের প্রথম একাদশ তৈরি। তবে ম্যাচ শুরুর প্রথম দশ মিনিটে অবশ্য দেখা গেল ইস্ট-মোহন দু’জনেই একে অপরকে মেপে নিতে ব্যস্ত ছিল। কিন্তু সেটা হওয়ার পরই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় মোহনবাগান। পালটা আক্রমণে ওঠে ইস্টবেঙ্গলও। একদিকে সোনি নর্ডি-ক্রোমা জুটি, আরেকদিকে আমনা-কাটসুমি জুটি। ৩১ মিনিটে কর্নার থেকে সহজ সুযোগ নষ্ট করে বাগান খেলোয়াড়রা। ৩৪ মিনিটে পালটা কর্নার পায় ইস্টবেঙ্গলও। কিন্তু গোল পায়নি তাঁরাও। শেষপর্যন্ত ৩৯ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ভুলে গোল পায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। আর গোলদাতা আর কেউ নয়, খালিদের প্রাক্তন ছাত্র কিংসলে। এই অর্ধেই বাগানের দু’টি শট পোস্টে না লাগলে আরও গোল পেতেই পারত গঙ্গাপাড়ের ক্লাবটি। শেষপর্যন্ত ১-০ গোলেই শেষ হয় প্রথামার্ধের খেলা।
[অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে ৬টি দ্বিশতরান, লারাকে টপকে বিশ্বরেকর্ড কোহলির]
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ছক পালটান খালিদ। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ে। তবে এর মধ্যে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন ডিপান্ডা ডিকা। তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে মাঠের বাইরে নিয়ে আসা হয়। এই অর্ধে গোল শোধের জন্য একের পর এক আক্রমণ তুলে আনেন আল আমনা, কাটসুমিরা। কিন্তু বারেবারেই বাগান রক্ষণ বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই অর্ধে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর স্ট্রাইকার উইলিস প্লাজা। তবে ৭৯ মিনিটে লাল হলুদ খেলোয়াড়ের একটি শট দুর্দান্ত সেভ করেন বাগান গোলরক্ষক শিল্টন পাল। নাহলে সমতায় ফিরতেই পারত ইস্টবেঙ্গল। শেষপর্যন্ত প্রথমার্ধে করা কিংসলের গোলেই ঐতিহ্যের ডার্বিতে তিন পয়েন্ট পেল সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। ম্যাচ শেষে মোহনবাগান গ্যালারিতে যখন মেক্সিকান ওয়েভে কান পাতা দায় হয়ে উঠেছে, উলটোদিকে ততটাই ম্লান লাল-হলুদ সমর্থকরা।
এদিনের ম্যাচের পরও ফের একবার প্রশ্ন উঠবে খালিদের রক্ষণকে নিয়ে। গত ম্যাচে সেটপিস থেকে রক্ষণের ভুলে অন্তিম মুহূর্তে সমতাসূচক গোল পেয়েছিল আইজল। আর ডার্বিতে সেই কর্নার থেকেই গোল পেল মোহনবাগান। উলটোদিকে, ম্যাচে ভাল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে সঞ্জয়ের রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। তবে দিনের শেষে দীর্ঘ আই লিগে তিন পয়েন্টটাই আসল। আর সেখানেই চির-প্রতিদ্বন্দ্বীকে এদিন টেক্কা দিল মোহনবাগান। ম্যাচের পর মাঠে নেমে খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরলেন বাগান সহ-সচিব সৃঞ্জয় বোস।
[‘বিশ্বকাপ জিতলে লন্ডনের রাস্তায় জামা খুলে ঘুরবে কোহলি’]
সর্বশেষ খবর
-
‘বাংলায় সব সম্পদ আছে’, শিল্পপতিদের বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
বৈভবের অভিষেকেও এল না জয়, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল ভারত
-
রাস্তা তৈরিতে এবার ব্যবহার হবে ‘ম্যাস্টিক অ্যাসফল্ট’! বড় উদ্যোগ সিকিম সরকারের
-
ভাড়াবাড়িতে ভাগ্নের সঙ্গে লিভ ইন! ‘খুন’ করে ট্রেন লাইনে ঝাঁপ মামির, জোড়া দেহ উদ্ধার বসিরহাটে
-
ম্যাচ জিতে মেসি জড়িয়ে ধরতেই চুমু সাংবাদিক সোফির! শুরু সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন