সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাঝে আর কয়েক ঘণ্টা। রবিবার মহারণে নামছে দুই প্রধান। তবে দুই শিবিরের বর্তমান চালচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বৃহস্পতিবার সকালে ইস্টবেঙ্গলের প্র্যাকটিস হলেও প্রথম একাদশের কেউ নামলেন না। পুরো দলকেই বিশ্রাম দিলেন কোচ খালিদ জামিল। অন্যদিকে পুরোদমেই অনুশীলন করলেন মোহনবাগানের ফুটবলাররা। তবে এর পাশাপাশি এদিন থেকেই পুরোদমে শুরু হয়ে গেল ডার্বির টিকিট বিক্রিও। যার ফলে বলাই যায়, আই লিগের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দামামা বেজে গেল।
[মহিলাদের কবাডি ম্যাচে হিজাব পরে বসে পুরুষ কোচ, তারপর…]
বৃহস্পতিবার সকালে ইস্টবেঙ্গল মাঠে যে প্র্যাকটিস হল তাতে দেখা গেল স্রেফ অর্ণব মণ্ডলদের কসরত করতে। তাও আবার কী, না মাঠের একদিকে। প্রশ্ন হল, মাঝে যেখানে মাত্র দু’দিন বাকি সেখানে কেন বিশ্রাম দেওয়া হল আমনাদের? লাল-হলুদের টিম ম্যানেজমেন্ট যা বোঝাতে চাইল তা হল অতিরিক্ত খেলে নাকি সবাই ক্লান্ত। তাই ডার্বির ৭২ ঘণ্টা আগে সবাইকে প্র্যাকটিসে নামতে বারণ করা হয়েছে। তবে সকাল ১১টা নাগাদ দেখা গেল প্রথম একাদশের প্রত্যেকে টেন্টে এসে হাজির। কারণ? ফুটবলারদের সঙ্গে নাকি আলোচনায় বসবেন খালিদ জামিল। তাই প্রত্যেককে ১১টার সময় আসতে বলা হয়েছে। তবে আলোচনার যা নির্যাস পাওয়া গেল, তা হল মানসিক দিক দিয়ে দল খুব বিপর্যস্ত। যেহেতু দল আইজলের বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে গিয়েও ম্যাচ শেষ হয় ড্রতে। তাই দলকে চাঙ্গা রাখা খুব জরুরি। সেইজন্যই প্রত্যেককে মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করতে আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে মোহনবাগান কাউকে বিশ্রামে রাখতে বিশ্বাসী নয়। দুপুর দু’টো থেকেই দল নেমে পড়ছে মাঠে। যুবভারতীতে দীর্ঘদিন খেলেনি মোহনবাগান। ফলে ওখানকার মাঠ কেমন তা জানা সম্ভব নয়। যদিও যুবভারতীর মূল স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস করার সুযোগ আপাতত পাচ্ছে না সবুজ-মেরুন। পাশের মাঠে নেমে একটা সম্যক ধারণা তৈরি করে নিতে চাইছে তারা। ইস্টবেঙ্গল ইতিমধ্যে সেখানে একটি ম্যাচ খেলে ফেলেছে। ফলে যুবভারতী সম্পর্কে তাদের নতুন করে ধারণা তৈরির প্রয়োজন নেই। তাই ইস্টবেঙ্গল যুবভারতী সম্পর্কে যতটা নিশ্চিন্ত, ততটাই দুর্ভাবনায় রয়েছে সঞ্জয় সেনের দল। তবে মোহনবাগান শিবির আপাতত চাঙ্গা।
[মহিলাদের কবাডি ম্যাচে হিজাব পরে বসে পুরুষ কোচ, তারপর…]
মোহনবাগানের দুশ্চিন্তায় যেমন ঢুকে পড়েছে মাঝমাঠ, ঠিক তেমনই ইস্টবেঙ্গলকে ভাবিয়ে তুলেছে তাদের রক্ষণ। মোহনবাগানের মাঝমাঠের উপর নির্ভর করছে দলের সাফল্য। ঘরোয়া লিগের ডার্বিতে দল নড়বড়ে অবস্থায় থাকলেও ম্যাচে দেখা গিয়েছিল ঠিক উল্টো ছবি। যেখানে পুরো খেলার নিয়ন্ত্রণ করেছিল মোহনবাগান। এবার দেখা যাচ্ছে ডার্বির আগে ছবিটা সেই একইরকম। যেখানে জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না খেলার শুরু থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলবে সঞ্জয় বাহিনী। অথচ মাঝমাঠ যদি ভাল না খেলে তাহলে আমনাদের সমস্যায় ফেলা যাবে না। আর কে না জানে, আমনাকে বোতলবন্দি করতে না পারলে ম্যাচের রাশ আলগা হয়ে যাবে মোহনবাগানের। ইস্টবেঙ্গলকে আবার ভাবনায় ফেলে দিয়েছে তাদের ডিফেন্স। এডু ডিপ ডিফেন্সে খেললেও কেউ তাঁর উপর ভরসা রাখতে পারছে না। গতবার এডু ছিলেন মোহনবাগানে। রক্ষণে তিনিই ছিলেন নেতা। অনেকে আশা করেছিলেন এবার এডুর হাত ধরে জ্বলবে মশাল। কিন্তু সেই ভরসা আর কেউ করতে পারছেন না।
[শচীনের পর এবার অবসর নিচ্ছে তাঁর ১০ নম্বর জার্সিটিও!]
এদিকে, ডার্বির দামামা বাজিয়ে শুরু হয়ে গেল টিকিট বিক্রি। দুই প্রধানেরই সমর্থকদের উৎসাহ তুঙ্গে। আসলে মোহনবাগান পাঞ্জাবে ড্র করে ফিরে আসার পর সমর্থকরা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গল দু’গোলে এগিয়ে থেকেও জিততে না পারায় স্বভাবতই হতাশ লাল-হলুদ সমর্থকরা। ফলে দুই শিবির মনে করছে, আই লিগ আসলে শুরু হবে রবিবার থেকে। যে দল জিতবে সেই দলই এগিয়ে যাবে মানসিকতায়। মনোবল তুঙ্গে রেখে পরবর্তী ম্যাচগুলো খেলতে নামবে। এই কারণেই দু’দলকে সমর্থন করতে এগিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট দলের সমর্থকরা। আপাতত যুবভারতী স্টেডিয়ামে আসন সংখ্যা ৮০ হাজারের কাছাকাছি। দুই প্রধানের কর্তারা মনে করছেন, পুরো স্টেডিয়াম ভর্তি হয়ে যাবে। যতই দুপুর দুটোয় খেলা দিক না কেন ফেডারেশন।
সর্বশেষ খবর
-
আঞ্চলিক মিষ্টির জিআই ট্যাগ নিয়ে তৎপর বঙ্গ বিজেপি! ‘মিষ্টি হাব’ তৈরিরও পরিকল্পনা শমীকদের
-
এবার সপ্তাহে ৬ দিনই শান্তিনিকেতনে ‘হেরিটেজ ওয়াক’, দ্রুত টিকিট মিলবে অনলাইনেও
-
লরি চাপা পড়ে মাইকেল ক্লার্কের গাড়ি! আইপিএল শেষে বিমানবন্দর যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা
-
নিজের নিরাপত্তা দিতে চেয়েছিলেন মমতা! এবার এনআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার ‘মাছ চোর’ শওকত
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ