১২ আষাঢ়  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার
বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ

১২ আষাঢ়  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯ 

BREAKING NEWS

দুলাল দে: ভারতের জাতীয় ফুটবল দলে এবার লুকা মদ্রিচের দেশের ছোঁয়া। আগামী দু’বছরের জন্য সুনীল ছেত্রীদের কোচ হয়ে ভারতীয় দলের দায়িত্ব নিতে আসছেন বিশ্বকাপার ইগর স্টিমাচ। যিনি শুধু ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলেননি। তাঁর কোচিংয়েই ক্রোয়েশিয়া ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছেছিল। এহেন হাই প্রোফাইল কোচের বিশ্বস্ত হাতই দায়িত্ব পেতে চলেছে ভারতীয় দলের।

[আরও পড়ুন: জল্পনার অবসান, মোহনাবাগানে সই করছেন বিদেশি কোচই]

এশিয়ান কাপ শেষে স্টিফেন কনস্ট্যানাটইনের বিদায়ের পর থেকেই ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে আলোচনার বিষয় ছিল, কে বসবেন জাতীয় দলের কোচের হট সিটে? ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে জাতীয় কোচ চেয়ে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার আগেই কোচ হওয়ার জন্য দরখাস্ত জমা পড়ে যায় ফেডারেশন দপ্তরে। শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের কোচ হতে চেয়ে আবেদন জমা পড়ে প্রায় ২০০ র বেশি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ২০০র উপর কোচ ভারতের জাতীয় কোচ হওয়ার জন্য আবেদন করলেও তাতে ভারতীয় কোচের আবেদনের সংখ্যা মাত্র ১। আর তিনি এবারের আই লিগে গোকুলামকে কোচিংয়ে করিয়ে কোনওমতে অবনমন বাঁচানো সুন্দর রাজন। তাই অনেক প্রাক্তন ফুটবলার জাতীয় কোচের জন্য ভারতীয় কোচকে চাইলেও, সুন্দর রাজন বাদে আর কোনও ভারতীয় কোচ আবেদন না করায়, শ্যাম থাপার নেতৃত্বাধীন টেকনিক্যাল কমিটির পক্ষে সম্ভব ছিল না, কোনও ভারতীয় কোচের নাম জাতীয় কোচের দৌড়ে রাখা।

শুরু থেকে একটা নামই জাতীয় কোচের দৌড়ে সবার আগে ছিল। যিনি শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে এখনও আছেন। তিনি বেঙ্গালুরুর প্রাক্তন কোচ রোকা। তবে, এবারের কোচ নির্বাচন করতে বসে টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের একটাই সিদ্ধান্ত ছিল, জাতীয় কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে কোচিং সাফল্যও দেখা হবে। সঙ্গে দেখা হবে, সেই কোচের বেতন ফেডারেশনের বাজেটের মধ্যে রয়েছে কী না। শেষ মুহূর্তে রোকার পিছিয়ে পড়ার একটাই কারণ, জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য না থাকা। একমাত্র এল সালভাদোর জাতীয় দলকেই কোচিং করিয়েছেন বেঙ্গালুরুর প্রাক্তন কোচ। কিন্তু সাফল্যর হার শূন্য। ছিলেন বিশ্বকাপার কোচ গোরান এরিকসনও। কিন্তু কিছুদিন আগে তাঁর কোচিংয়ে ফিলিপিন্স জাতীয় দল এশিয়ান কাপে মুখ থুবড়ে পড়ে। তার উপর এরিকসনের বেতনের চাহিদাও মাত্রাছাড়া। যে কারণে বিশ্বকাপ কোচ দোমিনেকের নামও শেষ মুহূর্তে আলোচনা থেকে বাদ দেন টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা। একটা সময় পর্যন্ত কোচ হওয়ার দৌড়ে রীতিমতো এগিয়ে ছিলেন অলিম্পিক জয়ী ব্রাজিলের কোচ রোজারিও মিকেল। কিন্তু কোচ হওয়ার জন্য মাত্রাতিরিক্ত বেতন চাওয়ায় বাজেটের অভাবে তাঁকে বাদ দিতে বাধ্য হন ফেডারেশন কর্তারা।

[আরও পড়ুন: এটিকেতে ফের স্প্যানিশ জমানা, তিন বছর পর কোচের পদে ফিরছেন হাবাস]

শেষ মুহূর্তে প্রোফাইল এবং বেতনের বাজেট দেখে চারজন কোচকেই জাতীয় কোচ হওয়ার লড়াইয়ে রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিমাচ সবার থেকে এগিয়ে। দৌড়ে এগিয়ে থাকার তালিকা অনুসারে বাকি তিনজন হলেন-সুইডিশ কোচ হাক্কান এরিকসন, কোরিয়ান কোচ লি মিন সুঙ এবং রোকা। লি মিন সুঙকে বেশ পছন্দ হয়েছিল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটির। কিন্তু ভাষা সমস্যার জন্য তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে প্রোফাইল সবচেয়ে ভাল ক্রোয়েশিয়ার ইগর স্টিমাচের। টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা ইগরের নাম বেছে দেওয়ার পর ফেডারেশন কর্তারা তাঁর সঙ্গে বেতন নিয়ে কথা বলে দেখেছেন, তা ফেডারেশনের বাজেটের মধ্যেই। তাছাড়া তিনি শুধু ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের মূলপর্বেই তোলেননি, তাঁর কোচিংয়ে স্পেন, জার্মানি এবং আর্জেন্টিনার পরই ক্রোয়েশিয়া বিশ্ব ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থান পায়। যা এখনও পর্যন্ত ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলে রেকর্ড হয়ে আছে।

তিনি যে সাফল্যর খতিয়ান ফেডারেশনের কাছে পাঠিয়েছেন, তাতে জানিয়েছেন, তাঁর কোচিংয়েই ইভান পেরেসিচ, মাতেয়ো কোভাসিচের মতো তারকা ফুটবলারের অভিষেক হয়। শুধু ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দল নয়। ক্লাব কোচিংয়েও যথেষ্ট সফল তিনি। জিতেছেন, ক্রোয়েশিয়া লিগ, ক্রোয়েশিয়া কাপ, সুপার কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট। সাফল্য আর বাজেটের মধ্য হওয়ায় বিশ্বকাপ রানার আপ দেশের কোচ ইগরকে এগিয়ে রাখার পরও ঠিক হয়েছে, টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যরা আরও একবার লড়াইয়ে থাকা চারজন কোচের সঙ্গে কথা বলবেন। সেটা শ্যাম থাপারা চাইলে মুখোমুখি বসতে পারেন। আবার স্কাইপের মাধ্যমেও করতে পারেন। তাই ইগর স্টিমাচের নাম ভারতীয় কোচ হিসেবে ঘোষণা হওয়াটা শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং