Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১২ জুন ২০২৬
Mohun Bagan

গোলের সাইরেন বাজালেন দিমি-ম্যাকলারেন, আইএসএলে জয়রথ ছুটছে মোহনবাগানের

সোমবারও ভারী সংখ্যায় হাজির হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। দু'দিন আগেই গিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সেই উপলক্ষে বিশেষ টিফো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের সামনেই জয় পেয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল মোহনবাগান।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৭:৫৮

options
link
গোলের সাইরেন বাজালেন দিমি-ম্যাকলারেন, আইএসএলে জয়রথ ছুটছে মোহনবাগানের zoom
ছবি অমিত মৌলিক।

মোহনবাগান ২ (ম্যাকলারেন, পেত্রাতোস)
চেন্নাইয়িন ০ 

শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত বলেছিলেন, “পথের ফুলের মতোই কিছু মানুষ, পথে এসে হাসি দিয়ে যায়।” অনেকটা তেমনই জেমি ম্যাকলারেন এবং দিমিত্রি পেত্রাতোস। প্রথমজন গোলের মধ্যে রয়েছেন। দ্বিতীয়জন নিজেকে ফিরে পেলেন। তাঁরাই হাসি এনে দিলেন। দুই অজি তারকার গোলেই আইএসএলে জয়রথ ছুটছে মোহনবাগানের। আইএসএলের দ্বিতীয় ম্যাচে চেন্নাইয়িন এফসি’কে ২-০ গোলে হারিয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সবুজ মেরুন। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এবারের লিগ ছোট। পয়েন্ট হারানোর অর্থ চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে হোঁচট খাওয়া। এই সার সত্য কারওই অজানা নয়। তবে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ফুটবলাররা যেমন নেমেছিলেন, তেমনই সোমবারও যুবভারতী ভরিয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। দু’দিন আগেই গিয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সেই উপলক্ষে বিশেষ টিফো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তাঁরা। গ্যালারির সাজের মতোই কি সুন্দর ফুটবল উপহার দিল সের্জিও লোবেরার দল? তাদের সামনে ছিল মুম্বইয়ের কাছে আত্মঘাতী গেলে হেরে যাওয়া চেন্নাইয়িন। পেত্রাতোস, রবসন, লিস্টনদের যথেষ্ট বেগ দেওয়ার চেষ্টা করল তারা। বাগান ফুটবলাররা রক্ষণ ভেদ করার চেষ্টা করলেও কিছুতেই সফল হচ্ছিলেন না। এর মধ্যে ৮ মিনিটের মাথায় সুযোগ পায় চেন্নাই। ডান দিক থেকে নিচু ক্রস পেলেও পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ মার্টিন। পায়ে বলে হয়ে গেলে বিপদ অবশ্যম্ভাবী ছিল মোহনবাগানের কাছে।

বিশেষ টিফো নিয়ে হাজির সমর্থকরা। ছবি অমিত মৌলিক।

১২ মিনিটে সুযোগ আসে মোহনবাগানের সামনে। রবসনের কর্নার থেকে দুর্দান্ত শট অনিরুদ্ধ থাপার। বার উঁচিয়ে চলে যায় বল। ২০ মিনিটে দিমির শট বিপক্ষ ফুটবলারের গায়ে লেগে গোলে প্রায় ঢুকেই গিয়েছিল। চেন্নাই গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ পরিত্রাতার ভূমিকা নেন। ৩৭ মিনিটে রবসন-লিস্টন যুগলবন্দি দেখা গেলেও তা ফলপ্রসূ ছিল না। ৪২ মিনিটে কোলাসোর শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। যদিও অফসাইডের ফাঁদে পড়েন জেমি। বল জালে জড়ালেও গোল হত না। সবাই যখন মোটামুটি ধরে নিয়েছেন গোলশূন্য শেষ হবে প্রথমার্ধ, ঠিক সেই সময় গোলের সাইরেন বাজালেন ম্যাকলারেন। অনবদ্য থ্রু পেয়ে বল জালে জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি তিনি। বলাই বাহুল্য, চোট পেয়ে নওয়াজের বেরিয়ে যাওয়াটা কাল হল চেন্নাইয়ের কাছে। 

দ্বিতীয়ার্ধেও একই দাপট বজায় রাখে লোবেরা ব্রিগেড। ৪৬ মিনিটে গোল করতে ব্যর্থ হন জেমি। ৫২ মিনিটে আবারও সুযোগ এবং আবারও মিস ম্যাকলারেনের। ৬২ মিনিটেও তাঁর মিস। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা ততক্ষণে হয়তো আপশোস করছেন, এত মিস না হলে হয়তো হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতেন অজি তারকা! এই হাপিত্যেশের মিনিট তিনেক পর বাঁদিক থেকে শুভাশিসের ভাসানো ক্রস থেকে জোরাল নিখুঁত শটে গোল পেত্রাতোসের। এরপর গ্যালারির কাছে গিয়ে বিখ্যাত স্টেনগান সেলিব্রেশনে মাতলেন মোলিনার আমলে ‘ব্রাত্য’ দিমি। ঠিক একটা বছর আগে, ২৩ ফেব্রুয়ারি, সংযুক্ত সময়ে বাঁ-পায়ের দূরপাল্লার শটে ওড়িশার জালে বলটা জড়িয়ে দিয়েছিলেন। গ্যালারির দিকে ছুটতে ছুটতে স্টেনগান চালানোর ভঙ্গিতে উচ্ছ্বাসে মেতেছিলেন। তাঁর গোলে লিগ-শিল্ড নিশ্চিত হওয়ার পর বুক বাজিয়ে জানান দিয়েছিলেন, ফুরিয়ে যাননি। ঘটনাচক্রে সেদিন ডাগ আউটে প্রতিপক্ষ কোচের চেয়ারে বসেছিলেন লোবেরা।

এরপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। গতবার নিজেকে যথাসাধ্য মেলে ধরলেও নিজেকে যেন খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সব সার্চলাইটের আলো যেন গিয়ে পড়ছিল গ্রেগ স্টুয়ার্ট, ম্যাকলারেনদের উপর। ফর্ম ভালো ছিল না। গোল আসছিল না। দল থেকে বাদও পড়তে হয়েছিল। গত বছর যে সমর্থকরা তাঁকে নয়নের মণি করে রেখেছিল, যারা তাঁকে ঈশ্বরের আসনে বসিয়েছিল, তারাই ‘দিমি গো’ লেখা পোস্টার সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে গিয়েছিলেন একের পর এক। তাতে হয়তো একটু অভিমানও হয়েছিল। কিন্তু চেষ্টা থামাননি। যখন যেটুকু সুযোগ পেয়েছেন মাঠে সেরাটা দিয়ে এসেছেন। অবশেষে ফল পেলেন। আবার। ঠিক একটা বছর পর। আবারও গোলে ফিরলেন লোবেরার আমলে নিজেকে ফিরে পাওয়া দিমিত্রি। ম্যাচের সেরাও হলেন। তাঁর চেনা সেলিব্রেশন যেন বুঝিয়ে গেল, ফুরোননি তিনি, বরং আরও ধারাল হয়ে ফিরেছেন। এরপর অবশ্য আর গোল হয়নি। গোল মিসের প্রবণতা কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখবে বাগান কোচকে। 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.