Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৮ জুলাই ২০২৬
East Bengal

আইসক্রিম বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণ! আর্থিক অনটন পেরিয়ে ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে নবদ্বীপের পিউ

ছোট্ট টিনের ঘরের এক কোণে আজ সারি সারি ট্রফি আর পদক। সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকে উঠে এসেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ের জোরে যে বড় স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া যায়, পিউ তার উদাহরণ।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১৫:২১

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১৫:২১

options
link
আইসক্রিম বিক্রেতার মেয়ের স্বপ্নপূরণ! আর্থিক অনটন পেরিয়ে ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে নবদ্বীপের পিউ zoom
এবার লাল-হলুদ জার্সিতে খেলবে নবদ্বীপের পিউ। ছবি নিজস্ব।

অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। বাবা আইসক্রিম বিক্রি করে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই কোনও রকমে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। সেই আর্থিক প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে বড় সাফল্য নবদ্বীপের ১১ বছরের খুদে ফুটবলার পিউ বসাকের। শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ছোট্ট টিনের বাড়িতে বেড়ে ওঠা পিউ এবার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জার্সিতে ব্লু কাপস বেবি লিগে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়েছে। তার এই সাফল্যে খুশির হাওয়া পরিবার থেকে শুরু করে নবদ্বীপের ক্রীড়ামহলে।

নবদ্বীপ বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিউ পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত ফুটবল অনুশীলন করে। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে নবদ্বীপের বিবেকানন্দ ফুটবল অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করান। বর্তমানে প্রশিক্ষক প্রদীপ সাহার তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করে পিউ। প্রদীপবাবু জানান, পিউর মধ্যে শেখার আগ্রহ প্রবল। পরিশ্রম করার মানসিকতাও চোখে পড়ার মতো। তার গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগে অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে সবার নজর কেড়েছে। এর সুবাদেই লাল-হলুদের বেবি লিগ দলে স্ট্রাইকার হিসাবে সুযোগ পেয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তবে এই সাফল্যের রাস্তাটা সুগম ছিল না। পিউর বাবা পিন্টু বসাক পেশায় আইসক্রিম বিক্রেতা। মা পম্পা বসাক গৃহবধূ। সংসারের হাল ধরতে দিদাকেও অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করতে হয়। সীমিত আয়ের সংসারে মেয়ের অনুশীলন, যাতায়াত ও খেলাধুলার খরচ সামলানো পরিবারের কাছে খুবই চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আর্থিক সংকট কখনও পিউর স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তার মা জানান, ছোটবেলা থেকেই ফুটবলে প্রবল আগ্রহ পিউর। শুধু ফুটবল নয়, অ্যাথলেটিক্সের বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতেও সে সাফল্য পেয়েছে। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ায় পরিবারে এখন আনন্দের আবহ। তাঁদের বিশ্বাস, আগামী দিনে আরও বড় মঞ্চে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখে পরিবারের পাশাপাশি জেলারও মুখ উজ্জ্বল করবে পিউ।

ছোট্ট টিনের ঘরের এক কোণে আজ সারি সারি ট্রফি আর পদক। সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকে উঠে এসেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায়ের জোরে যে বড় স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া যায়, পিউ তার উদাহরণ। এমনই মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভা তুলে আনতে ব্লু কাপস বেবি লিগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেই মঞ্চ থেকেই ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ পেয়েছে পিউ।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.