ভারত: ৫০ ওভারে ২৮১/৭ (পাণ্ডিয়া ৮৩, ধোনি ৭৯, কুলটার নাইল ৩/৪৪)
অস্ট্রেলিয়া: ২১ ওভারে ১৩৭/৯ (ম্যাক্সওয়েল ৩৯, চাহাল ৩/৩০)
ভারত ২৬ রানে জয়ী।(ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে)
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় হোয়াইটওয়াশ। নিন্দুকেরা বলছিল এ নেহাতই ফ্লুক। কোহলি-শাস্ত্রী জুটির অ্যাসিড টেস্ট ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। তাঁরা নিজেরাও তা খুব ভালই জানতেন। আর তাই ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতিও সারা ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামা যদি পরীক্ষা হয়, তবে তার প্রথম দিনে সসম্মানেই উত্তীর্ণ হলেন কোহলিরা।
পূর্বাভাস ছিলই। কোহলির টসে জেতাটাই দিনের শেষে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াল। বারকয়েক বৃষ্টির ভ্রূকুটি। থমকাল খেলা। তবে ভারতের জয় আটকাল না। শুরুর দিকে অবশ্য তেমনটা মনে হয়নি। কোহলি-রাহানেরা যখন ফিরে গেলেন, তখন ভারত একরকম ধুঁকছেই বলা যায়, অস্ট্রেলিয়ার জুজু চেপে বসেছে ভারতের ঘাড়ে। তাসের ঘরের মতো ভেঙেই পড়ত যদি না রুখে দাঁড়াতেন রোহিত শর্মা(২৮) এবং কেদার যাদব(৪০)। তবে দিনটা ছিল মহেন্দ্র সিং ধোনি ও হার্দিক পাণ্ডিয়ার। একজন তুমুল অভিজ্ঞ এবং একজন তুলনায় অনভিজ্ঞই বলা যায়। প্রবীণ-নবীন এই জুটির রসায়নই বদলে দিল খেলার রং।

[জানেন, কেন প্রত্যেক ম্যাচ জেতার পর একটি উইকেট সংগ্রহে রাখেন ধোনি?]
একদিকে ধোনি যখন ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন, অপরদিকে পালটা মার শুরু করেন পাণ্ডিয়া। মাত্র ৬৬ বলে ৮৩ রান করেন তিনি। এটিই ওয়ানডে কেরিয়ারে তাঁর সর্বোচ্চ রান। মারেন ৫টি চার ও ৫টি ছয়। প্রথমদিকে, ধরে খেললেও ইনিংস যত গড়াতে থাকে নিজমূর্তি ধারণ করেন প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। শেষ ওভারে যখন আউট হলেন তখন তাঁর নামের পাশে ৮৮ বলে ৭৯ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস। এদিন নিজের ১০০ তম অর্ধ-শতরান করলেন ধোনি। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধেও এরকম একটি ইনিংস খেলে প্রমাণ করলেন তিনি এখনও ফুরোননি। পাণ্ডিয়া আউট হলেও ভারতের ইনিংসের শেষদিকে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। তিনি ৩০ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে সাত উইকেটে ২৮১ রানে থামে টিম ইন্ডিয়ার ইনিংস।

[অক্ষর প্যাটেলের চোট, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ডাক পেলেন জাদেজা]
কিন্তু অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শুরুতেই বাধ সাধেন বরুণদেব। যার জন্য নষ্ট হয় ২৯ ওভার। শেষপর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২১ ওভারে ১৬৪ রানের। টি-টোয়েন্টির যুগে যা কোনও ব্যাপারই নয়। কিন্তু সেই রান তুলতেই হিমশিম খেলেন স্মিথ-ওয়ার্নাররা। সিরিজের শুরু থেকেই কুলদীপ যাদবকে নিয়ে চিন্তায় থাকার কথা জানিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। আর এদিন ম্যাচে দেখা গেল শুধু কুলদীপ নন, ভুবনেশ্বর-চাহাল-পাণ্ডিয়া-বুমরাহ কারোর সামনেই তেমন স্বচ্ছন্দ্য নন তাঁরা। ফলে শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। শেষদিকে ১৮ বলে ৩৯ রান করে চেষ্টা করলেও দলের হার বাঁচাতে পারেননি গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। আর উলটোদিক থেকে তাঁকে সাহায্য করার জন্য আর কোনও ব্যাটসম্যানও ছিল না। কারণ স্টিভ স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নাররা ততক্ষণে প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছেন।শেষপর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৩৭ রানে।

[শেহবাগকে বোকা বলেও পিছু হটলেন সৌরভ!]
এদিন প্রায় প্রত্যেক ভারতীয় বোলারই দুর্দান্ত বল করলেন। কিছুটা বেশি রান দিলেও গুরুত্বপূর্ণ দু’টি উইকেট পেলেন কুলদীপ যাদব। অন্যদিকে, ব্যাট হাতে ৮৩ রান করার পর বল হাতে দু’টি উইকেট পেলেন পাণ্ডিয়া। তবে সবচেয়ে সফল যুজবেন্দ্র চাহাল। তিনি পেয়েছেন তিনটি উইকেট। এই জয়ের ফলে সিরিজের আগামী ম্যাচগুলির জন্য বেশ খানিকটা আত্মবিশ্বাস অর্জন করে নিল বিরাট বাহিনী। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ইডেন গার্ডেন্সে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু’দল। বলা যায়, পুজোর আগেই ক্রিকেট জ্বরে ভুগতে প্রস্তুত তিলোত্তমা।
ছবি সৌজন্য: বিসিসিআই
সর্বশেষ খবর
-
বিনা টিকিটে সফর, ট্রেনের সিঁড়িতে বসে যাত্রা করলেই বিপত্তি! জরিমানা বাড়াল ভারতীয় রেল
-
৩৩ বছর কাটল, কেউ কথা রাখেনি! ২১ জুলাই শহিদদের ন্যায়বিচার চেয়ে শুভেন্দুকে চিঠি কাকলির
-
ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌননিগ্রহের বিজ্ঞাপন, টেলিগ্রামে বিক্রি! মেটাকে নোটিস কেন্দ্রের
-
তৃণমূল ভবনের ‘দখল’ নিল ঋতব্রত শিবির, আরও কোণঠাসা মমতার ‘কালীঘাট তৃণমূল’!
-
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতার সাইবার প্রতারকদের ডেরায় পুলিশ! ভুয়ো কল সেন্টার থেকে জালে ৩