সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কারোর বাবা চাষের কাজ করেন, কারোর বাবা আবার প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মাছ কাঁকড়া ধরতে কিংবা মধু সংগ্রহে গভীর বনে যায়। কেউ আবার ইতিমধ্যেই নিজের বাবাকে হারিয়েছে। অনেকেই জানে না সকালে বাবা বাড়ি থেকে দু’মুঠো অন্নের সন্ধানে বেরলে রাতে ফিরবে কি না! এরকমই অনিশ্চয়তায় ভরা তাদের জীবন। যাদের কাছে একবেলা অন্ন জোগাড় করাও প্রায় স্বপ্নের মতো, সেই পরিবারগুলির পাশেই এবার দাঁড়াল মোহনবাগান ফ্যানস ক্লাব- জীবনের রং সবুজ মেরুন বা জেআরএসএম। সুন্দরবনে ওই খেতে না পাওয়া পরিবারের সন্তানদের হাতে তাঁরা তুলে দিল পুজোর জামা কাপড় থেকে শুরু করে বই, খাতা, পেন ,পেন্সিল, ব্যাগ ইত্যাদি। গত ১০ই সেপ্টেম্বর ওই ফ্যানস ক্লাবের উদ্যোগে সুন্দরবন সূর্যোদয় স্কুলে প্রায় দেড়শো দুঃস্থ শিশুর হাতে এই জিনিসগুলি তুলে দেওয়া হয়েছে। খোদ ফ্যানস ক্লাবের সদস্যরাই ওই শিশুদের হাতে এই উপহার তুলে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাদের মুখে একবেলা অন্নও তুলে দিয়েছেন সবুজ-মেরুন এই সমর্থকরা।
[১৬তম গ্র্যান্ড স্লামের মালিক নাদালকে শুভেচ্ছা ভূপতি, বোপন্নার]

২০১৫ সালে শুরু। তারপর থেকে গত তিন বছর ধরে এই কাজ করে আসছে ‘জীবনের রং সবুজ মেরুন’। উদ্দেশ্য একটাই দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারগুলির মুখে একবেলার জন্য হাসি এনে দেওয়া। অনেকেই সাধ্যমতো সাহায্য করেছে। কেউ টাকা-পয়সা দিয়ে, কেউ বই-খাতা কিনে। ওই দুঃস্থ শিশুদের হাতে শুধু বই, খাতা, ব্যাগ দিয়ে নয়, তাঁদের সঙ্গে গোটা একটি দিন কাটিয়েছে ফ্যানস ক্লাবের তরুণ-তুর্কিরা। একবেলার খাবার তুলে দিয়েছে তাঁদের হাতে। এছাড়া বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প কিংবা ওষুধও দিয়েছে। হাতে তুলে দিয়েছে কিছু খেলার সরঞ্জামও। আসার সময় তুলে দিয়েছে শুকনো খাবারের প্যাকেটও। শুধু যে সমাজসেবা মূলক কাজ তা তো নয়, গ্রামের ওই কচি-কাঁচাদের কাছে এই দাদারা ছিলেন বন্ধুর ন্যায়।
[আজহারের জোড়া গোলে রুদ্ধশ্বাস মিনি ডার্বিতে জয় মোহনবাগানের]

এই প্রসঙ্গে ওই ফ্যানস ক্লাবের সভাপতি তন্ময় মিশ্র বলেন, ‘ইচ্ছেপূরণ মানে শুধু সমাজে কিছু পিছিয়ে পড়া শিশুর ইচ্ছেকে পূরণ করা নয়, সাথে আমাদেরও এক মহৎ ইচ্ছেপূরণ হয়। শিশুরা পুজোর উপহার পেয়ে খুশি আর এই ইচ্ছেপূরণের মাধ্যমে আমরা প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুদের কাছে আমাদের মাতৃসম ক্লাব মোহন বাগানের ইতিহাস শোনাতে পেরেও গর্বিত বোধ করছি।’ প্রতিষ্ঠাতা সুমন্ত মণ্ডলের কথায়, ‘ইচ্ছেপূরণ আমাদের কাছে একটা অন্যরকম ভালোবাসা। আজ সারা বিশ্বে যখন শিশুশ্রমের বিপক্ষে বিভিন্ন জায়গায় অনেক প্রতিবাদী কন্ঠ শুনতে পাই তখন মাঝে মাঝে ভাবি, আমরাও তো পারি কিছু শিশুকে শিশুশ্রমিক হওয়া থেকে বাঁচাতে। তাদের ক্ষুদ্রতম চাহিদাটুকু পুরণ করার নুন্যতম সুযোগ পাই এই ইচ্ছেপূরণের মধ্য দিয়ে। তা সে হোকনা বছরে একটা দিন, কিন্তু ওদের তো ওই দিনটাই কিছুটা হলেও সামনে চলার প্রেরণা দেয়। মোহনবাগান নামের তাৎপর্যটাও তো ওদের কাছে পৌঁছতে পারি এই কাজের মধ্য দিয়ে।’

[ছাত্রের উদ্দেশে এবার এমনটাই বার্তা দিলেন ধোনির ছোটবেলার কোচ]
সর্বশেষ খবর
-
আদরের বিড়ালের সামান্য আঁচড়েও হতে পারে বড় বিপদ! এই লক্ষণগুলো দেখলেই সতর্ক হোন
-
ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ! স্যরকে বেদম মার, ডিম-থেরাপি, শান্তিপুরের স্কুলে ব্যাপক উত্তেজনা
-
জমির খতিয়ান-দাগের তথ্য জানতে লাগবে না ফি! জানালেন শুভেন্দু, কীভাবে খতিয়ে দেখবেন?
-
মায়ের তিনটে বিয়ে, বাংলাদেশে জন্মদাত্রীকে ‘খুন’ স্নেহবঞ্চিত ছেলের, শিয়ালে খুবলে খেল দেহ!
-
এক ব্যক্তির সঙ্গে হোটেলে রাত কাটান! সকালে বন্ধুকে ভিডিও কল করে সেখানেই ‘আত্মহত্যা’ তরুণীর