সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: উচ্চতা কোনও ব্যাপার নয়। তা নিয়ে যদি কেউ রসিকতা করে, তাকে পাত্তা দেওয়ার কোনও মানে নেই। পরিবর্তে সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। হতে হবে সেরার সেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া অস্ট্রেলিয়ার বছর নয়েকের ‘মরে যেতে চাওয়া’ খুদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগাল রাগবি অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার রাগবি লিগের অল স্টারস একাদশ বনাম মাওরি অল স্টারসের প্রদর্শনী ম্যাচে বল হাতে মাঠে নামেও সে। মাঠে নামার পরই হাততালি দিয়ে স্টেডিয়াম থেকে দর্শকরা অভিবাদন জানায় তাকে। তাতে কেঁদে ফেলে খুদে। তবে এবার আর দুঃখে নয়, আনন্দে কেঁদে ফেলল অস্ট্রেলিয়ার ছোট্ট কাদেন।

অস্ট্রেলিয়ার বছর নয়েকের শিশু কাদেনের জন্ম থেকেই শারীরিক সমস্যা রয়েছে। বয়সের তুলনায় তার উচ্চতায় অনেকটাই কম। বামন বলেই সে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হতে পারে না। শিশুটি অস্ট্রেলিয়ার এক স্কুলেই পড়ে। তার মায়ের অভিযোগ, স্কুলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে সহপাঠীরা। কখনও তাকে মারধর করা হয়। আবার কখনও বিদ্রুপ মিশ্রিত নানা নামে ডাকা হয়। দিনের পর দিন তা সহ্য করতে পারে না বছর নয়েকের ওই স্কুলপড়ুয়া। একদিন ছুটির সময় স্কুল থেকে সন্তানকে নিতে গিয়ে অমানবিক ঘটনার সাক্ষী হতে হয় ওই শিশুর মাকে। তিনি দেখেন, এক সহপাঠী প্রথমে তাঁর সন্তানকে মাথায় চাঁটি মারে। তারপর মশকরা করে তার দেওয়া নানা নামে ডাকতে শুরু করে। তা শুনে অঝোরে কাঁদতে শুরু করে তাঁর সন্তান। তবে সহপাঠীকে কাঁদতে দেখেও কোনও ভ্রূক্ষেপ নেই মশকরা করতে থাকা স্কুলপড়ুয়ার। সে দিব্যি হাসতে হাসতে চলে যায়।

যন্ত্রণা চেপে নিজের ছেলেকে গাড়িতে তুলে নেন ওই মহিলা। ছেলে তখনও কেঁদেই চলেছে। গাড়িতে বসেও মুখে তার একটাই কথা, “আমাকে একটা দড়ি দাও। আমি নিজেকে মেরে ফেলতে চাই।” মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছেলেকে দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি ওই মহিলা। তিনিও অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন। ছেলের কান্নার ভিডিও করেন তিনি। প্রতিদিন একটু একটু করে ছেলের ভেঙে পড়ার কাহিনি ভিডিওর মাধ্যমে সকলের সামনে তুলে ধরেন তিনি। কারও চেহারাগত ত্রুটি নিয়ে মশকরা করা যে কতটা ভয়ংকর, তা বোঝানোর চেষ্টা করেন ওই মহিলা। উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে স্কুলপড়ুয়াদের মশকরা করার প্রবণতায় রাশ টানা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
[আরও পড়ুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভারত সফরে আসছে ‘দ্য বিস্ট’, জেনে নিন এর বৈশিষ্ট্য]
মহিলার শেয়ার করা এই ভিডিও বিদ্যুতের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। বছর নয়েকের শিশুর কান্না চোখে পড়ে রাগবি অ্যাসোসিয়েশনের। তাদের পক্ষ থেকে শিশুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

শনিবার রাগবি লিগের অল স্টারস একাদশ বনাম মাওরি অল স্টারসের প্রদর্শনী ম্যাচে বল হাতে মাঠে নামেও সে। আর পাঁচজনের মতো বল হাতে মাঠে নামে খুদে।

ভিড়ে ঠাসা স্টেডিয়ামে সকলের হাততালি শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে যায় সে। মুখে হাসি থাকলেও, কান্নায় ভিজে যায় দু’চোখ।

খেলা দেখতে এসে কাদেনই যেন বড় পাওনা বলেই দাবি দর্শকদের।

সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে মহা অঘটন! রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় জার্মানির
-
সামুরাই সূর্যাস্ত, শিষ্য জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গুরু ব্রাজিল
-
‘তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি নেই’, বঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক কংগ্রেস নেতা বেনুগোপালের
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!