শিলাজিৎ সরকার: ভারতীয় টেবল টেনিসে (Table Tennis) ইতিহাস! প্রথমবারের জন্য অলিম্পিকে টিম ইভেন্টে নামার ছাড়পত্র পেলেন এদেশের প্যাডলাররা। এবং সেই ছাড়পত্র এল পুরুষ ও মহিলা, একসঙ্গে দুই বিভাগেই। এর আগে ব্যক্তিগত বিভাগে লড়লেও টিম ইভেন্টে অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি ভারতীয় প্যাডলাররা।
আর সেই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন বঙ্গসন্তান সৌরভ চক্রবর্তী (Sourav Chakraborty)। প্রাক্তন তারকা প্যাডলার সৌরভ বর্তমানে জাতীয় দলের কোচ। প্যারিসের টিকিট প্রসঙ্গে সৌরভ জানান, “টানা ভালো পারফর্ম করার জেরে আমরা এখন দুই বিভাগেই বিশ্বের সেরা ষোলো দলে উঠে এসেছি। এটা সমবেত প্রচেষ্টার ফল। আর দুটো বিভাগে একসঙ্গে অলিম্পিকের ছাড়পত্র পাওয়াটা ভারতীয় টেবল টেনিসের শক্তির প্রমাণ।”
চলতি মাসেই প্যারিসের কথা মাথায় রেখে জাতীয় শিবির শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন সৌরভ। বললেন, “আমরা শুধুমাত্র অংশ নেওয়ার জন্য অলিম্পিকে যেতে চাই না। সেজন্য প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখা হবে না। এমাসেই শিবির শুরু হবে। অলিম্পিকের আগে বিদেশেও শিবির করার পরিকল্পনা আছে। অলিম্পিক শুরুর এক সপ্তাহ আগেই আমরা প্যারিস চলে যেতে চাই।” প্রতিপক্ষ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে র্যাঙ্কিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। জুলাই মাসের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী চূড়ান্ত সূচি তৈরি হবে। তার আগে টিম ও ব্যক্তিগত বিভাগে র্যাঙ্কিংয়ে যতটা সম্ভব উন্নতি করাই এখন লক্ষ্য, স্পষ্ট করে দিয়েছেন সৌরভ।
টিটিএফআই-এর সচিব পদে কমলেশ মেহতার উপস্থিতির ফলে কাজ সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সৌরভ। তাঁর বক্তব্য, “নিজে বিশ্বমানের প্যাডলার হওয়ার আমাদের সুবিধা-অসুবিধার দিকটা সহজেই ওঁকে বোঝানো যায়।” কমলেশ অবশ্য বলছেন, এই সাফল্য পুরোটাই টিম গেমের ফল। আটবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এই প্রাক্তন প্যাডলার বললেন, “এটা ভারতীয় টিটি-র জন্য দুর্দান্ত খবর। আমরা খুব খুশি। প্যাডলারদের পাশাপাশি কোচ, ফেডারেশন, সাই এবং অভিভাবকরাও এই ইতিহাসের দাবিদার।” অবশ্য দুই বিভাগে ছাড়পত্র যে আসতে চলেছে, তা নিয়ে বেশ নিশ্চিত ছিলেন ভারতীয় টিটি-র কর্তারা।
কারণ বিশ্ব টিম চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত ভালো পারফর্ম করার প্রভাব যে র্যাঙ্কিংয়ে পড়বে, সেটা নিয়ে সন্দেহ ছিল না কারও। সেইমতো অলিম্পিকের জন্য প্যাডলারদের তৈরি করার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে মাসখানেক আগেই। টিটিএফআই সচিবের কথায়, “আমরা আশাবাদী ছিলাম। তাই আগে থেকেই আলোচনা শুরু করে দিয়েছিলাম। কারণ আমরা শুধু অংশগ্রহণ করতে অলিম্পিকে দল পাঠাতে চাই না। বেশি সময় নেই। তবে পুরোটা কাজে লাগানোই লক্ষ্য।”
কোন পথে এই ছাড়পত্র পেল ভারত? বিশ্ব টিম চ্যাম্পিয়নশিপে দুরন্ত পারফরম্যান্সই দুই বিভাগে র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতিতে সাহায্য করেছে। গত মাসে শরথদের র্যাঙ্কিং ছিল ১৫, মণিকাদের ১৭। মার্চের শুরুতে প্রকাশিত নতুন র্যাঙ্কিংয়ে ছেলেরা ১৫ নম্বরেই আছেন, মেয়েরা উঠে এসেছেন ১৩ নম্বরে। পুরুষ বিভাগে হংকং ১৭ নম্বরে নেমে যাওয়ার সুবিধা পেয়েছেন শরথরা। মহিলা বিভাগে এগিয়ে থাকা চার দেশ চলে গিয়েছে মণিকাদের নিচে। আর তাতেই ইতিহাস গড়ে ফেলল ভারত।
সর্বশেষ খবর
-
গ্রন্থাগার মন্ত্রীকে নিয়ে তৃণমূলের মিথ্যাচার! চেয়ার বিতর্কে কী বললেন গৌরীশংকর
-
বাড়িতে ওয়াই-ফাই লাগিয়েও স্পিড নেই? এই উপায়ে রকেটের গতিতে ছুটবে ইন্টারনেট
-
‘বঙ্গেই প্রথম বন্দে মাতরম ধ্বনি…’, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে শুভেন্দুকে বাংলায় চিঠি মোদির
-
বিয়ের ছ’মাসেই সুখবর! প্রকাশ্যে পরিচালক স্বামীর প্রেমের ইস্তেহারে আপত্তির মাঝেই সামান্থার ‘সারপ্রাইজ’?
-
জামাইষষ্ঠীর আনন্দ শেষে শোকের ছায়া! শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় মৃত ২