Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Sourav Kothari

বিলিয়ার্ডসে ব্রিলিয়ান্ট! বিশ্বজয়ী বাংলার সৌরভ ট্রফি উৎসর্গ করলেন বাবাকে

সৌরভ কোঠারির জীবনে পিতা মনোজের প্রভাব ছিল অনেকটাই। পুল টেবল তো বটে, তার বাইরের জীবনেও পিতার পরামর্শ বড় শক্তি ছিল কলকাতার এই কিউয়িস্টের।

শিলাজিৎ সরকার
শিলাজিৎ সরকার

শেষ আপডেট: মে ১, ২০২৬, ১৭:৩১

link
শিলাজিৎ সরকার
শিলাজিৎ সরকার

শেষ আপডেট: মে ১, ২০২৬, ১৭:৩১

options
link
বিলিয়ার্ডসে ব্রিলিয়ান্ট! বিশ্বজয়ী বাংলার সৌরভ ট্রফি উৎসর্গ করলেন বাবাকে zoom
কার্লো বিশ্ব বিলিয়ার্ডস চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি হাতে সৌরভ কোঠারি।
Advertisement

সৌরভ কোঠারির (Sourav Kothari) জীবনে পিতা মনোজের প্রভাব ছিল অনেকটাই। পুল টেবল তো বটে, তার বাইরের জীবনেও পিতার পরামর্শ বড় শক্তি ছিল কলকাতার এই কিউয়িস্টের। বিশেষত গত বছর আয়ারল্যান্ডের কার্লো শহরে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের মাঝেও ফোনে প্রাক্তন বিশ্বজয়ী মনোজের পরামর্শ নিয়েছিলেন সৌরভ। 

বুধবার রাতে সেই কার্লোতেই বিলিয়ার্ডসের টাইমড ফরম্যাটে ফের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন সৌরভ। প্রতিপক্ষ এবারও ছিলেন কিউ স্পোর্টসের কিংবদন্তি পঙ্কজ আদবানি। সৌরভের জন্য সবটা এক হলেও ছিল না চাপের মুখে বাবার থেকে পরামর্শ চাওয়ার সুযোগ। কারণ সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন মনোজ। বাবাকে হারানোর পর এটাই ছিল সৌরভের বড় প্রতিযোগিতা। তবে সেই শোক সঙ্গী করেই ফের বিশ্বজয়ী হলেন তিনি, পঙ্কজকে ১৩১১-৪৭৭ পয়েন্টে হারিয়ে। আর সেই ট্রফি বাবাকে উৎসর্গ করলেন সৌরভ।

Advertisement

কার্লো থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলছিলেন, “এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বিশেষত শেষ ছ’মাস যেভাবে কেটেছে। বাবার ঐতিহ্য আমি রক্ষা করতে পেরেছি। বাবা এর আগেও আমাকে বিশ্বজয়ী হতে দেখেছে। তবে আজ বাবা থাকলে ভালো হত। আরও আনন্দ পেতাম। এই ট্রফিটা বাবার জন্য।” বাবাকে ছাড়া খেলা প্রসঙ্গে সৌরভের বক্তব্য, “বাবা চলে যাওয়ার সাতদিনের মধ্যে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। জানি না কীভাবে সেটা করতে পেরেছি। অনেক বাবা-ছেলে থাকে যাদের পেশা এক নয়। তাদের সম্পর্কটা একরকম। কিন্তু আমার সঙ্গে আমার বাবার সম্পর্কটা অন্যরকম ছিল। আমার সবটাই বাবার তৈরি করা। জানি না কীভাবে ফাইনালটা খেললাম। তিন ঘণ্টার ম্যাচ ছিল। কিন্তু একটা সেকেন্ডের কথাও এখন মনে নেই। কেমন যেন যন্ত্রের মতো খেলে গিয়েছি।”

সৌরভ বলছেন, “বাবার ঐতিহ্য আমি রক্ষা করতে পেরেছি। বাবা এর আগেও আমাকে বিশ্বজয়ী হতে দেখেছে। তবে আজ বাবা থাকলে ভালো হত। আরও আনন্দ পেতাম। এই ট্রফিটা বাবার জন্য।”

কার্লোয় সেমিফাইনাল আর ফাইনালের মাঝে বিশেষ বিরতি ছিল না। ফলে সেমিফাইনালের পর দ্রুত চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য তৈরি হতে হয়েছে সৌরভকে। শারীরিকভাবে যা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর জন্য। ফাইনালে ফাস্ট ব্রেকে পঙ্কজ করেন ১৪১। যার জবাবে শুরুতেই ৪৮৫-তে পৌঁছে যান সৌরভ। এক ঘণ্টারও বেশি সময় টেবলে ছিলেন তিনি। যে পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে কলকাতার বিশ্বজয়ী শোনালেন, “বাইরে বসে খেলা দেখার সময় মনের মধ্যে অনেককিছু চলতে থাকে। নানা সম্ভাবনা। তারমধ্যে নিজের হারের কথাও থাকে। এবার ফাইনালেও তাই হয়েছে। তবে এবার সেসব ভাবনা খুব বেশি আসেনি। অন্য সবকিছু নিয়ে ভাবার চেষ্টা করেছি। আর সেই চেষ্টা করাটা বাবা শিখিয়েছে। এবার অন্য প্লেয়ারদের সঙ্গেও বেশি কথাও বলিনি। টেবলে গিয়ে খেলা শুরুর সময় বাবার কথা মনে পড়ত। সেটা আমাকে সেরা পারফর্ম করার ক্ষেত্রে কিছুটা বাঁধা দিত। সেসবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।” বিলিয়ার্ডসের পাশাপাশি স্নুকারেও নজর দিচ্ছেন সৌরভ। “মে মাসের শুরুতে মুম্বইয়ে একটা স্নুকার প্রতিযোগিতায় খেলব। তারপর আহমেদাবাদে আইপিএল টাইপ স্নুকার লিগে খেলব। এখন ভারতে স্নুকার নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। সেটা ইতিবাচক”, বলছিলেন তিনি।

“মে মাসের শুরুতে মুম্বইয়ে একটা স্নুকার প্রতিযোগিতায় খেলব। তারপর আহমেদাবাদে আইপিএল টাইপ স্নুকার লিগে খেলব। এখন ভারতে স্নুকার নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। সেটা ইতিবাচক”, বলছিলেন তিনি।

এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়া ভারতীয় দলকে আর্থিক সাহায্য করেছে সাই। সৌরভ চাইছেন, ফের কমনওয়েলথ গেমসে ফেরানো হোক বিলিয়ার্ড এবং স্নুকারকে। সঙ্গে যুক্ত করা হোক এশিয়ান গেমস এবং অলিম্পিকের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে। আর সেই কাজে উদ্যোগী হোক সাই। সেক্ষেত্রে এই সব প্রতিযোগিতায় ভারতের পদকসংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আত্মবিশ্বাসী কলকাতার এই বিশ্বজয়ী। “কোনও গেমসেই এখন কিউ স্পোর্টস নেই। ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসে থাকবে আশা করছি। তবে এশিয়ান গেমস আর অলিম্পিক গেমসেও কিউ স্পোর্টস যুক্ত করা উচিত। এত দেশে এই খেলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে গেমসগুলোয় যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। সেজন্য সাই-কে আরও একটু উদ্যোগী হতে হবে”, প্রত্যয়ী বার্তা সৌরভের।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.