সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিরাট কোহালি মানেই এখন সেই বাইশ গজের বিধ্বংসী যোদ্ধা। যিনি ব্যাট হাতে নামা মানেই বোলারদের মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হয়। তাঁর প্রশংসা করতে করতে বোধহয় ক্রিকেট-পন্ডিতরা হাঁপিয়ে উঠেছেন। কোহলিকে সম্বোধন করতে যাঁদের নতুন শব্দ খুঁজতে হচ্ছে। আসলে বছরটাই শুধু পালটেছে, ‘কোহলিয়ানা’ নয়। বিরাট কোহলির নৃশংস শাসনের আর এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল বুধবারের ক্রিকেটবিশ্ব। অপরাজিত ১৬০ রান করে যিনি ভারতকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ান ডে সিরিজ জয়ের দোরগোড়ায় এনে দাঁড় করালেন।
স্কোরবোর্ড দেখলেই বোঝা যাচ্ছে ঠিক কতটা দাপুটে মেজাজে ছিলেন বিরাট। কিন্তু সেই স্কোর বোর্ডও তো পুরো কথা বলছে না। বলছে না, ৯৫ রানে তাঁর পেশিতে টান ধরে। কিন্তু সাধারণ একটা ক্র্যাম্প কি আর কোহলিকে আটকাতে পারে? দলের জন্য সেই যন্ত্রণার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন কোহলি। ম্যাচের সেরার পুরস্কার নিতে এসে ভারত অধিনায়ক কোহলি বললেন, “৯৫ রানের সময় ক্র্যাম্প ধরেছিল। কিন্তু তখন অত বেশি ভাবিনি। দলের জন্য খেলতে হত। সেটাই করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমি খুশি ম্যাচ জিততে পেরে। এই জয়ের মানে আমরা সিরিজ আর হারব না। তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকেও আবার প্রত্যাবর্তনের রাস্তা দিলে হবে না। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দারুণ লাগে।”
[বিরাটের চওড়া ব্যাটে ফের প্রোটিয়া বধ, সিরিজে ৩-০ এগিয়ে ভারত]
ওয়ান ডে-তে ৩৪তম সেঞ্চুরি হয়ে গেল। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাঁর তৃতীয়। কিন্তু স্বপ্নের ফর্মেও কোহলির মুখে ‘আমি’ নয় ‘আমরা’। “দারুণ খেলেছি আমরা। ধাওয়ানও খুব ভাল ব্যাট করেছে। ওর সঙ্গে পার্টনারশিপটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল,” বললেন কোহলি। সঙ্গে তিনি যোগ করলেন ৩০ ওভারের আগে অবধি পিচটা ব্যাটিংয়ের জন্য আদর্শ ছিল। “শুরুর দিকে ব্যাটিং করতে কোনও সমস্যা হয়নি। উইকেটে ভাল ক্যারি ছিল। সঙ্গে বাউন্সও। কিন্তু তিরিশ ওভারের পর স্লো হয়ে যায় পিচ। তার আগে ভেবেছিলাম আমরা ৩৩০ রান তুলতে পারব। কিন্তু তারপর সেটা কেটে এনে ২৮০ থেকে ২৮৫ ছিল লক্ষ্য। তবে তিনশো তুলতে পেরে ভাল লাগছে,” বললেন কোহলি।

ওয়ান ডে-তে দাপুটে ভারতের পিছনে যদি বিরাটের ব্যাটিং দায়ী থাকে। তা হলে বলে কেরামতি দেখাচ্ছেন দুই রিস্টস্পিনার। চাহাল-কুলদীপ জুটি ধারাবাহিকভাবে ধস নামাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিংয়ে। এদিনও যার ব্যতিক্রম ছিল না। রান তাড়া করতে গিয়ে ১৭৯ রানে অলআউট হন ডুমিনিরা। কোহলি যে প্রসঙ্গে বললেন, “চাহাল আর কুলদীপ দারুণ বল করছে। উইকেট তুলে যাচ্ছে। ব্যাটসম্যানদের সেট হতে দিচ্ছে না। রান তাড়া করার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য কাজটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে।”
ভারতের স্পিনাররা সফল হলেও ঘরের দলের বোলিং লাইন আপ প্রতিটা ওয়ান ডে-তে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে স্পিনাররা। ভারতের ক্রিকেট নক্ষত্র সুনীল গাভাসকার সেই কারণে ঠাট্টার সুরেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরামর্শ দিলেন, স্পিন বোলিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাট করা শিখতে হলে ভারতের অ্যাকাডেমি আছে। “যদি স্পিন খেলাটা শিখতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা তা হলে চেন্নাইয়ের অ্যাকাডেমিতে আসুক।” রিস্টস্পিনারদের খেলতে ঠিক কোথায় ভুল করছেন মারক্রামরা সেটাও পরিষ্কার করে দিলেন গাভাসকার। “আরও স্ট্রেট ব্যাটে খেলা উচিত ছিল। ওরা প্রায় সবাই অ্যাক্রস দ্য উইকেট খেলেছে।”
ম্যাচ জিতে কী বলছেন কোহলি, দেখুন ভিডিও:
[ফের নয়া রেকর্ড, শচীনকে টপকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বোচ্চ স্কোর কোহলির]
সর্বশেষ খবর
-
এবারও হল না হেক্সার স্বপ্নপুরণ, হ্যালান্ড ম্যাজিকে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় ব্রাজিলের
-
‘এটাই লাস্ট ডান্স’, মন খারাপের খবর দিয়ে রোনাল্ডো বললেন, ‘আগের মতো খেলতে পারি না’
-
ভুলো বিল তৈরি করে কলকাতা পুলিশের ডিসি অফিসের ৫১ লাখ টাকা তছরূপ! গ্রেপ্তার সরকারি কর্তা
-
টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড, ইংল্যান্ডকে হেলায় হারিয়ে সাতবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান অস্ট্রেলিয়া
-
টোটোতে অ্যাম্বুল্যান্সের ধাক্কা, চালকের হাত কেটে পড়ে গেল রাস্তায়! ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরে