২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বোলপুরের হোটেলে বসে নোবেল চুরির ‘মাস্টার প্ল্যান’!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 12, 2016 10:19 am|    Updated: August 12, 2016 12:41 pm

An Images

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: নোবেল চুরির ‘মাস্টার প্ল্যানার’ কে? অনেক পরিকল্পনা করেই যে নোবেল চুরি হয় ও তার পিছনে যে কোনও ‘পাকা মাথা’ রয়েছে, সেই বিষয়ে আগেই নিশ্চিত হয়েছিলেন গোয়েন্দারা৷

নোবেল চুরির তদন্তভার হাতে নেওয়ার আগেই ওই ‘মাস্টার প্ল্যানার’-এর সন্ধান শুরু করেছে সিআইডি৷ এক ইউরোপীয় ব্যক্তি ২০০৪ সালে শান্তিনিকেতনের ‘বিচিত্রা’-র সংগ্রহশালা থেকে নোবেল চুরির ‘মাস্টার প্ল্যান’ করে, এমন ইঙ্গিত আগেই পেয়েছিল সিবিআই৷ নোবেল পাচারের মূল চক্রী বাংলাদেশের সোনার ব্যবসায়ী মহম্মদ হোসেন শিপলু ও কেএলও প্রধান জীবন সিংয়ের সঙ্গে ওই ইউরোপীয় ব্যক্তির যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল, মিলেছে এমন প্রমাণও৷ এক সিআইডি আধিকারিক জানান, সেই সূত্র ধরে তদন্ত চালাবেন তাঁরাও৷ এমনকী, নোবেল ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত প্রচুর জিনিসপত্র চুরি করার ‘মাস্টার প্ল্যান’ যে ওই পান্ডার ছিল, সেই বিষয়ে নিশ্চিত সিআইডি আধিকারিকরা৷

আন্তর্জাতিক ওই অ্যান্টিক চক্রের মাথারা ছক কষেছিল, চোরাপথে নোবেল ও অন্য অ্যান্টিকগুলি পাচার করে প্রথমে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া৷ সেখান থেকে নোবেল চোরাপথে ইতালি বা জার্মানির মতো ইউরোপের কোনও দেশে পাচার হয়েছে, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা৷ আবার হাত ঘুরে নোবেল ফের এই দেশেই ফিরে এসেছে, এমন সম্ভাবনাও রয়ে গিয়েছে৷

গোয়েন্দাদের কাছে আসা খবর অনুযায়ী, ২০০৪ সালের মার্চ মাসে নোবেল চুরির আগে ‘বিচিত্রা’-র সংগ্রহশালায় বেশ কয়েকজন বিদেশিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল৷ পর্যটক হিসাবেই তাঁরা সংগ্রহশালায় ঘুরে দেখেন৷ নোবেল চুরির পান্ডা ওই দলের সঙ্গে ‘বিচিত্রা’য় গিয়েছিলেন, এমন সম্ভাবনা রয়েছে৷ আবার ওই পান্ডা একাও একাধিকবার ওই সংগ্রহশালা ঘুরে রেইকি করে, এমন সম্ভাবনা গোয়ন্দারা উড়িয়ে দিচ্ছেন না৷ প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দাদের কাছে খবর, ওই পান্ডা আসলে জর্মানির বাসিন্দা৷ নোবেল চুরির আগে সে রেইকি করার জন্য শান্তিনিকেতনের কোনও হোটেল বা গেস্ট হাউসে ছিল৷ সিআইডি জানিয়েছে, এই তথ্যের সূত্র ধরে তদন্ত হাতে নেওয়ার পর বোলপুরের বড় হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলিতে গিয়ে ওই বিদেশিকে শনাক্তকরণের চেষ্টা হবে৷ যদিও সিআইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এখানেও কয়েকটি সমস্যা হতে পারে৷ ২০০৪ সালে বহু হোটেলেই সিসিটিভি ছিল না৷ এত বছর আগেকার হোটেলের রেজিস্টার খাতা কর্তৃপক্ষ রেখে দিয়েছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ৷

এখন থেকেই গোয়েন্দারা অনেকটা নিশ্চিত যে, শান্তিনিকেতনে বসে বিচিত্রা চুরির ছক কষে ওই ‘মাস্টার প্ল্যানার’ অ্যান্টিক চক্রের অন্যদের জানায়৷ বাংলাদেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গার বাসিন্দা ওই অ্যান্টিক চক্রের পান্ডাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেই ওই বিদেশি নোবেল চুরির ছক কষে৷ যদিও গোয়েন্দাদের কাছে খবর, ওই চুরির জন্য সে সময় ধরেই যোগাযোগ করে বীরভূমেরই একটি চোরের গ্যাংয়ের সঙ্গে৷ ওই গ্যাংয়ের এক বা একাধিক পান্ডার সঙ্গে বসে কীভাবে সংগ্রহশালার ভিতরে ঢুকে নোবেল ও অন্যান্য অমূল্য অ্যান্টিক চুরি করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা করে৷ শান্তিনিকেতন থেকে বাংলাদেশের ঢাকা পর্যন্ত যে ওই ‘মাস্টার প্ল্যানার’-এর ছক অনুযায়ী নোবেল পাচার হয়, সেই বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত গোয়েন্দারা৷ ওই ‘মাস্টার প্ল্যানার’কে শনাক্ত করা গেলে নোবেল চুরির বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য মিলবে বলে জানিয়েছে সিআইডি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement