৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

গুলশানে হামলার নেপথ্যে জামাতের ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ গঠন!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 4, 2016 10:07 am|    Updated: July 4, 2016 10:08 am

An Images

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়: বৃহত্তর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কি নতুন করে অস্ত্র শানাচ্ছে খাগড়াগড়-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বোমারু মিজান, হাতকাটা নাসিরুল্লারা? ঢাকায় জঙ্গিহানার পর এই প্রশ্নেরই উত্তর  খুঁজছেন গোয়েন্দারা৷ গোয়েন্দাদের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-র এই জঙ্গি নেতারা৷ তারা যে নতুন মডিউল তৈরির চেষ্টা করছে, সেই বিষয়ে নিশ্চিত এনআইএ৷ ওই জঙ্গিদের সন্ধানে এখনও চলছে তল্লাশি৷

২০১৪ সালের অক্টোবরে খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পর পালিয়ে যায় জঙ্গিগোষ্ঠীর বাংলাদেশি নেতারা৷ এই ঘটনার তদন্তে নেমে এনআইএ প্রমাণ করে যে, হাসিনা সরকারকে ফেলে দেওয়ার ছক কষেছে জেএমবি৷ বৃহত্তর বাংলাদেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়েই তারা শিমুলিয়া, মোকিমনগরের মতো জায়গাগুলিতে তৈরি করেছে প্রশিক্ষণ শিবির৷ এই শিবিরগুলিতে প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা জেরার মুখে গোয়েন্দাদের জানিয়েছিল, তাদের বাংলাদেশি জঙ্গি নেতারা মানুষ ‘কোতল’ করতেও শিখিয়েছে৷

উল্লেখ্য, ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে বিদেশিদেরও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে৷ খাগড়াগড়-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত বোমারু মিজান ওরফে কওসর, তালহা শেখ, হাতকাটা নাসিরুল্লা, ইউসুফরা এই ধরনের প্রশিক্ষণ কতটা দিয়েছে, তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ গোয়েন্দাদের শঙ্কা, ঢাকার এই গণহত্যা পলাতক জেএমবি-র কার্যকলাপে ‘অক্সিজেন’ জোগাতে পারে৷

শুধু জেহাদি প্রচার নয়, এবার নতুন করে নাশকতার প্রশিক্ষণ দেওয়াও শুরু করতে পারে বোমারু মিজানরা৷ কওসর বা মিজান ও নাসিরুল্লা, দু’জনেই বিস্ফোরক ও হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ৷ বর্ধমানের খাগড়াগড় ও শিমুলিয়ায় এই ধরনের প্রচুর গ্রেনেড ও আইইডি দু’বছর আগেই তৈরি করেছিল তারা৷ এবার বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে মানুষ হত্যা করতে হয়, সেই প্রশিক্ষণও তারা যে দিতে পারে, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না গোয়েন্দারা৷

খাগড়াগড়-কাণ্ডের ধৃতদের জেরা করে আগেই গোয়েন্দারা জেনেছেন যে, বৃহত্তর বাংলাদেশ তৈরির জন্যই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে জেএমবি৷ তার জন্য শুধু এই রাজ্যেই নয়, অসম, ঝাড়খণ্ড, বিহারেও ঘাঁটি তৈরি করেছে তারা৷ মাসখানেক আগেও অসম থেকে জেএমবির একাধিক সদস্য ধরা পড়ে৷ খাগড়াগড়-কাণ্ডের পর তাদের কার্যকলাপে ছেদ পড়লেও কয়েক মাস আগে দুই জেএমবি নেতাকে ধরে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে, কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নতুন করে জেএমবি মডিউল তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে৷ পলাতক জঙ্গিরা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে৷ পলাতক অবস্থাতেই  ইউসুফরা জেলায় জেলায় জেএমবি জঙ্গি গোষ্ঠীর হয়ে জেহাদি প্রচার চালাচ্ছে৷ কোনও সূত্রে খবর পেলেই জঙ্গিদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে এনআইএ৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement