BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মুসার সূত্র ধরেই ধৃত আরও দুই আইএস জঙ্গি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 7, 2016 9:07 am|    Updated: July 7, 2016 9:07 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা ও নিজস্ব সংবাদদাতা বোলপুর: ধৃত মসিউদ্দিন মিঁয়া ওরফে মুসার সূত্র ধরে বীরভূমের লাভপুর থেকেই ‘ইসলামিক স্টেট’ বা আইএসের আরও দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করলেন সিআইডির গোয়েন্দারা৷ মঙ্গলবারই সাদ্দাম হোসেন ওরফে কালু এবং শেখ আব্বাসউদ্দিন ওরফে আমির নামে ওই দুই জঙ্গিকে আটক করা হয়েছিল৷ দীর্ঘ জেরার পর আইএস ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ হতেই তাদের গ্রেফতার করা হয়৷ আজ  ধৃত কালু এবং আমিরকে হাওড়া আদালতে তোলা হবে৷

কালু ও আমিরের পাশাপাশি চন্দন বসু-সহ আরও ৩ যুবককে আইএস জঙ্গি সন্দেহে আটক করেছে সিআইডি৷ অন্যদিকে এদিন ধৃত মুসার চেন্নাইয়ের তিরুপ্পুরের বাড়িতে হানা দিয়ে জোর তল্লাশি চালান সিআইডির গোয়েন্দারা৷ সেই তল্লাশিতে মুসার বাড়ি থেকে আইএস সংগঠনের বহু তথ্য মিলেছে বলে ভবানী ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে৷ এমনকী তার মোবাইলের সূত্র ধরে সিরিয়ার আইএস জঙ্গি নেতা সফি আরমারের সঙ্গেও যোগাযোগের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে৷ সফি আরমারের সঙ্গে নিয়মিত চ্যাট করত মুসা৷ সফির নির্দেশেই আইএস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দায়িত্ব নেয় সে৷

ডিআইজি-সিআইডি (অপারেশন) দিলীপ আদক বলেন, “ধৃত কালু এবং আমির মুসার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী৷ গত সোমবার বর্ধমানের আমোদপুর স্টেশনে মুসার জন্য অপেক্ষা করছিল তারা৷ চেন্নাই থেকে অস্ত্রশস্ত্র-সহ ফেরা মুসাকে একটি টাটা সুমোয় চাপিয়ে লাভপুরে নিয়ে যেত কালু ও আমির৷” তিনি আরও জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়েছে৷

মুসাকে মঙ্গলবার হাওড়়া আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে আগামী ১৪ দিন পর্যন্ত সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন৷

মুসা, কালু এবং আমিরের পাশাপাশি আইএস নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত লাভপুরের আরও যুবকের নাম উঠে এসেছে সিআইডির হাতে৷ নদিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের জামাত নেটওয়ার্ক পাল্টে সেখানে আইএস সংগঠন গড়ে তুলেছে মুসারা৷ শিক্ষিত এবং সরকারি চাকরি করা যুবকদেরই আইএস সদস্য হিসাবে বেছে নিত তারা৷ কম্পিউটারে দক্ষ ওই যুবকরা যাতে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সংগঠন বাড়াতে পারে৷

মুসা নিজেও অত্যন্ত স্মার্ট যুবক৷ একাধিক ভাষায় কথা বলার পাশাপাশি ল্যাপটপ, ট্যাব ও অত্যাধুনিক মোবাইল ব্যবহারে সে পারদর্শী৷ সাদ্দাম, কালু এবং চন্দনও অত্যন্ত শিক্ষিত৷ এদের জেরা করে সিআইডি জানতে পেরেছে, মুসা দু’তিন মাস অন্তর লাভপুরে আসত৷ নেটওয়ার্ক গড়ার ক্ষেত্রে একটি মোটরবাইক ও লাল রঙের টাটাসুমো ব্যবহার করত সে৷ এই টাটাসুমোতে চেপেই মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতেও যাতায়াত করত৷

সিআইডি জানতে পেরেছে, সম্প্রতি লাভপুর, নানুর-সহ বেশ কিছু এলাকার পাঁচজন যুবক তামিলনাড়ুতে গিয়েও মুসার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে৷ গোয়েন্দা পুলিশ তাদের উপর নজর রেখেছে৷ এ রাজ্যে আইএস সংগঠন গড়তে বেশ কয়েকবার সিরিয়ায় গিয়েছিল মুসাও৷ সংগঠন গড়ার স্বার্থে বীরভূম, বর্ধমান, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের নতুন সদস্যদের নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ শিবির করেছিল৷ তাকে জেরা করে এ রাজ্যের আইএস জঙ্গিদের নামের তালিকা তৈরি করছে সিআইডি৷

জেরায় সিআইডি জানতে পেরেছে, রথযাত্রার উৎসবে রাজ্যে হামলার ছক পাকাই করে ফেলেছিল মুসা৷ সেই কারণেই তার বীরভূমে আসা৷ সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমোদপুর স্টেশনে অপেক্ষা করছিল কালু ও আমির৷ রথ উৎসবের জনসমাগমে গুলি করে মারার পাশাপাশি ছুরি দিয়েও মুণ্ডচ্ছেদ করার ছক ছিল তাদের৷ সেই কারণেই ধর্মতলা থেকে একটি ১৩ ইঞ্চির ছুরি কিনেছিল মুসা৷ সোমবার লাভপুরে এসে এই হামলার চুড়ান্ত ব্লুপ্রিণ্ট তৈরি করার কথা ছিল তার৷ কিন্তু তাকে গ্রেফতার করে সেই ছক বানচাল করে দিল সিআইডি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement