BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মালদহে ব্যবসায়ী দম্পতি খুনে সিআইডি তদন্ত

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 22, 2016 4:11 pm|    Updated: July 22, 2016 4:11 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী-সহ সস্ত্রীক ব্যবসায়ী খুন মালদহে৷ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শুক্রবার সকালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মালদহের ইংরেজবাজারে ৷ ঘটনাস্থলে যান জেলাশাসক শরৎ দ্বিবেদী, পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ এবং মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী৷ তদন্তে নামানো হয় পুলিশ কুকুরদেরও৷ গোটা ঘরে তল্লাশি চালানো হয়৷ কিন্তু বাড়ি লুঠ করার জন্য খুন নাকি, অন্য কোনও কারণে, তা নিয়ে এখনও ধন্দে পুলিশ৷ দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার ব্যবসা বন্ধের ডাক দিয়েছে মালদহ জেলা বণিকসভা৷ ঘটনার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

সকাল ন’টা৷ স্থানীয় বাসিন্দারা রামরতনবাবুর দোতলা বাড়ির গেটের পাশে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী গণেশের দেহ৷ খবর দেওয়া হয় ইংরেজবাজার থানায়৷

বেলা দশটা৷ পুলিশ গণেশের দেহ উদ্ধারের পর বাড়িতে ঢুকে নীচের তলার বারান্দা থেকে উদ্ধার করে মালদহের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রামরতন আগরওয়ালের রক্তাক্ত দেহ৷ দোতলার সিঁড়িতে পাওয়া যায় রামরতনবাবুর স্ত্রী মঞ্জু আগরওয়ালের কোপানো দেহ৷ ঘটনাস্থলে আসেন জেলাশাসক, পুলিশ সুপার৷ আসেন মালদহ পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরিও৷

বেলা সাড়ে দশটা৷ নিরাপত্তার দাবিতে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তাঁদের অভিযোগ, এটা প্রথম নয়, মালদহ ক্রমেই দুষ্কৃতীদের ‘স্বর্গরাজ্য’ হয়ে উঠছে৷ সস্ত্রীক ব্যবসায়ী-সহ তিনজন খুনের প্রতিবাদে ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার জেলায় ব্যবসা বন্ধের ডাক দেয় মালদহ চেম্বার অফ কমার্স৷

তদন্ত সম্পর্কে পুলিশ বিশদে কিছু বলতে না চাইলেও জানিয়েছে, খুনের মোটিভ নিয়ে ধন্দ রয়েছে৷ সারা ঘর এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে৷ কিন্তু কিছু খোয়া গিয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয় তাঁরা৷ ব্যবসায়িক শত্রূতার জেরেও এই খুন কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রামরতন আগরওয়াল বড় ব্যবসায়ী হলেও বিভিন্ন সমাজসেবার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন৷ তিনি বা তাঁর স্ত্রী মঞ্জুদেবীর সঙ্গে এলাকার মানুষের যথেষ্ট সুসম্পর্ক ছিল৷ এলাকার বিভিন্ন্ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যও ছিলেন স্বামী-স্ত্রী৷ তিন মেয়ের মধ্যে দু’জনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, একজন পড়েন কলকাতায়৷ তাই নিরাপত্তারক্ষী গণেশকে নিয়ে দোতলা বাড়িতে দু’জনেই থাকতেন রামরতনবাবু ও মঞ্জুদেবী৷

 স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইংরেজবাজার শহরে সিসিটিভি লাগানো থাকলেও, তা কতটা কার্যকর তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে৷ যদিও সেই সিসিটিভিকেই ভরসা করছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ৷ চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় শঙ্কিত মালদহের ব্যবসায়ী মহলও৷ তাঁদের অভিযোগ, সজ্জন ব্যবসায়ী রামরতনবাবু ও তাঁর স্ত্রীকে যেভাবে খুন করা হয়েছে, তাতে প্রত্যেক ব্যবসায়ী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন৷ প্রতিবাদে শনিবার মালদহে ব্যবসা বন্ধের ডাকও দিয়েছে জেলা বণিকসভা৷

জেলা পুলিশ সুপার অর্ণব সাহা জানান, বেশ কিছু নথি-সূত্র হাতে এসেছে৷ দোষীদের দ্রূত চিহ্নিত করা হবে৷ এই আশ্বাস পাওয়ার পরই অবরোধ তুলে নেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ যদিও এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাপা ক্ষোভ রয়েছে৷ ব্যবসায়ীরা পুলিশি নিরাপত্তার দাবিতে আরও বড় আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement