BREAKING NEWS

১৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

বেপরোয়া ছেলেকে সুপারি দিয়ে খুন করাল বাবা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 11, 2016 10:21 am|    Updated: August 11, 2016 10:37 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: উচ্ছৃঙ্খল অনিমেষের বেপরোয়া আচরণ কার্যত ঘুম কেড়ে নিয়েছিল গোটা পরিবারের৷ মদ খেয়ে বেলেল্লাপনা তো ছিলই৷ যখন তখন মত্ত অবস্থায় বাড়িতে ঢুকে মারধরও হয়ে উঠেছিল প্রায় রোজকার ঘটনা৷ তবুও মুখ বুজে সব সয়েছিল দ্বিবেদি পরিবার৷ কিন্তু সেই অনিমেষই যখন নিজের কাকিমার সমভ্রমেরও তোয়াক্কা করল না, তখনই যেন ধৈর্যের সব বাঁধ ভেঙে পড়ল নিমেষে৷ নিজের ছেলেকেই খুন করিয়ে সব অশান্তির অবসান ঘটানোর পথ বেছে নিলেন বাবা৷

এ যেন সুপারহিট কোনও হিন্দি ছবির অ্যাকশন রিপ্লে৷ উচ্ছৃঙ্খল, অত্যাচারি ছেলের হাত থেকে বাঁচতে লক্ষাধিক টাকায় সুপারি কিলার নিয়োগ করলেন বাবা৷ অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তবে এই ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে৷ নিজের ছেলে অনিমেষ দ্বিবেদীকে (২৮) লোক লাগিয়ে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে বাবা অশোক দ্বিবেদীকে৷ গ্রেফতার করা হয়েছে ভাড়াটে দুই খুনি জয়দেব ও দেবদুলাল মাইতিও৷ ধরা পড়ে অশোক দ্বিবেদী স্বীকার করেছে যে, ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই এই পথ নিতে বাধ্য হয়েছে সে৷ এ নিয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই তার৷ এমনকী,  গোটা পরিবারেরও৷

পরিবারের সম্মান রক্ষায় সন্তান বা সন্ততিদের হত্যার ঘটনা মাঝে মধ্যে শোনা যায়৷ কিন্তু এ রাজ্যে বেয়াদপ ছেলেকে শায়েস্তা করতে সুপারি কিলার লাগিয়ে খুনের ঘটনা স্মরণাতীত কালের মধ্যে ঘটেনি৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ৩ মার্চ সকালে জুনপুট উপকুল থানা এলাকার পূর্ব পুরুষোত্তমপুর গ্রামে রাস্তার পাশে এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির প্রধান কল্লোল পাল এ ব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন৷ তদন্তে নেমে অনিমেষের পরিচয় খুঁজে পায় পুলিশ৷ খবর দেওয়া হয় তার পরিবারকে৷ পরিবারের লোকেরা এসে অনিমেষের মৃতদেহ নিয়ে গেলেও কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি৷ তখনই পুলিশের মনে সন্দেহ দেখা দেয়৷ এর পর পুলিশি তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে৷

অনিমেষের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুরের বৈতা গ্রামে৷ তার বাবা অশোক দ্বিবেদীর কাঠ চেরাইয়ের কল রয়েছে৷ ছেলেকে শোধরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল তার পরিবার৷ তাই বাধ্য হয়ে ছেলেকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় অশোকবাবু৷ সেই মতো তার পূর্ব পরিচিত কাঁথির জয়দেব মাইতি ও দেবদুলাল মাইতিকে সুপারি কিলার হিসাবে নিয়োগ করা হয়৷ ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয় ছেলেকে খুন করার জন্য৷

বাবার নির্দেশমতো মদ্যপ ছেলেকে মদ খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে জুনপুট নিয়ে যায় জয়দেব ও দেবদুলাল৷ এর পরই খুন করা হয় অনিমেষকে৷ তদন্তে নেমে অনিমেষের মোবাইলের কললিস্ট ঘেঁটে জয়দেবের সন্ধান পায় তদন্তকারীরা৷ জয়দেবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ধরা হয় দেবদুলালকে৷ এই দু’জনকে জেরা করতেই বাবা অশোক দ্বিবেদীর নাম প্রকাশ্যে আসে৷ গ্রেফতার করা হয় তাকে৷ ধৃতকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement