Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে রাজ্য পরিবহণ

চালক কীভাবে লাইসেন্স পেয়েছেন? কোথা থেকে তিনি গাড়ি চালানো শিখেছেন? এসব বিষয়গুলির উপরও নজর রাখা হবে৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২, ২০১৬, ১০:২৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২, ২০১৬, ১০:২৬

options
link
ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে রাজ্য পরিবহণ zoom

স্টাফ রিপোর্টার: মোটর ট্রেনিং স্কুলের পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে এবার আরও কঠোর হচ্ছে পরিবহণ দফতর৷ লাইসেন্স প্রদানে কোনওরকম শিথিলতা আর দেখানো চলবে না বলে সোমবার এক অনুষ্ঠানে পরিষ্কার জানিয়ে দেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ একইসঙ্গে এবার কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সেই গাড়ির চালকের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহণ দফতরের কর্তারা৷ চালক কীভাবে লাইসেন্স পেয়েছেন? কোথা থেকে তিনি গাড়ি চালানো শিখেছেন? এসব বিষয়গুলির উপরও নজর রাখা হবে৷ যদি কোনও অফিসারের বিরু‌দ্ধে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে শিথিলতার অভিযোগ প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরু‌দ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ পাশাপাশি কমার্শিয়াল গাড়ির চালককে এবার থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ল্যামিনেশন করে গলায় ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে৷ খালাসির হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা ঘটে৷ তা কমাতেই এবার এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে৷
এদিন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যাঁদের হাতে স্টিয়ারিং আছে তাঁদের যাঁরা প্রশিক্ষিত করছেন, সেই মোটর ড্রাইভিং স্কুলকে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়া হচ্ছে পরিবহণ দফতর৷ ব্যাঙের ছাতার মতো এই স্কুলগুলি গজিয়ে উঠেছে৷ তাদের লাইসেন্স পেতে আর ছাড় দেওয়া চলবে না৷ নতুন মোটর ড্রাইভিং স্কুলের লাইসেন্স এবার আরটিও লেভেলে দেওয়া হবে না৷ পরিবহণ দফতরের তরফে তিন জনের একটি কমিটি তৈরি হবে৷ যাঁরা নতুন মোটর ট্রেনিং স্কুল খুলতে চান, তাঁরা আরটিওতে আবেদন করবেন, সেই আবেদন পরিবহণ দফতরের এই কমিটি যাচাই করে দেখবে যে, আদৌ আবেদনকারীর স্কুলের পরিকাঠামো সঠিক থাকছে কি না! তার পর মিলবে ছাড়পত্র৷ পাশাপাশি যে স্কুলগুলো এখন ড্রাইভিং শেখায়, তাঁদের অনেক পরিকাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো শুধরে নিতে হবে৷ তবে রাজ্য সরকার কোনও কিছুই কারও উপর জোর করে চাপিয়ে দেবে না৷ এই পরিকাঠামো উন্নয়নে ছ’মাস সময় দেওয়া হবে৷ তাঁদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন পাঠ্যক্রম৷ তাতে সহযোগিতা করবে খড়গপুর আইআইটি-র বিশেষজ্ঞরা৷ পাঠ্যক্রমের নতুন বই ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিটি ট্রেনিং স্কুলে দিয়ে দেওয়া হবে৷”

drivinglicence1_web
অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুরজিত্‍ কর পুরকায়স্থ, রাজীব কুমার৷ ছবি: প্রবীর বন্দ্যোপাধ্যায়।

পথদুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে উদ্বিগ্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নজরুল মঞ্চের এক অনুষ্ঠান থেকে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’–এর শপথের কথা শুনিয়েছিলেন৷ সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সোমবার সায়েন্স সিটিতে পরিবহণ দফতরের উদ্যোগে হয়ে গেল ‘লার্নিং সেফ ড্রাইভিং’৷ রাজ্যের সমস্ত মোটর ট্রেনিং স্কুলকে এদিনের অনুষ্ঠানে ডাকা হয়েছিল৷ উপস্থিত ছিল কলকাতা পুলিশ, পরিবহণ দফতরের কর্তারাও৷ এসেছিলেন খড়গপুর আইআইটি-র এক বিশেষজ্ঞ৷ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এদিন বলেন, “পথ দুর্ঘটনা হয় চালকের কারণে৷ তাই চালকদের প্রশিক্ষণে কোনও খামতি রাখা যাবে না৷ সে কারণেই আগে মোটর ট্রেনিং স্কুলের পরিকাঠামোর ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করা দরকার৷ কারণ চালকদের তাঁরা প্রশিক্ষিত করতে না পারলে দুর্ঘটনা কমানোর লক্ষ্য সফল হবে না৷ পাশাপাশি লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রেও আরও কঠোর হতে হবে৷ লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি আমাদের কোনও কর্মীর ত্রুটি থাকে সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে৷”
এদিনের অনুষ্ঠানে পরিবহণসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে পরিমাণ চালক দরকার, সেই পরিমাণ জোগান নেই৷ তাই এতদিন কড়াকড়ি কিছুটা কম হত৷ কিন্তু এখন ড্রাইভিং স্কুল এবং চালকের লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আরও কঠোর হতে হবে৷ মোটর ড্রাইভিং স্কুলের কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড রাখা হবে৷ এত দিন লাইসেন্সের পরীক্ষায় কেউ ফেল করত না৷ এটা হতে পারে না৷ তাই লাইসেন্সের পরীক্ষায় আমরা আরও কঠোর হব৷” অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ করপুরকায়স্থ৷ তিনি বলেন, “এবার ড্রাইভিংযের ক্ষেত্রে একেবারে গোড়া থেকে শোধরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ চালকদের ড্রাইভিং স্কিলের পাশাপাশি ড্রাইভিং সেন্স শেখানো দরকার৷ কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্কিলের থেকে সেন্সের অভাবে দুর্ঘটনা ঘটে৷” আইআইটি খড়গপুরের বিশেষজ্ঞ ভার্গব মৈত্র এদিনের অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রতি মোটর ট্রেনিং স্কুলের জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম তৈরি করা হচ্ছে৷ তাঁদের জন্য সিলেবাস তৈরি হবে৷ রাস্তায় গাড়ি নামাতে কোন কোন বিষয় মাথায় রাখা দরকার তা সেখানে থাকবে৷” এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার, ডিসি ট্রাফিক ভি সলোমান নিসাকুমার-সহ পুলিশ ও পরিবহণ দফতরের কর্তারা৷

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.