২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

পাকিস্তানকে কড়া বার্তা, বাতিল জেটলির ইসলামাবাদ সফর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 17, 2016 1:30 pm|    Updated: August 17, 2016 1:30 pm

An Images

নন্দিতা রায়: প্রথমে কাশ্মীর নিয়ে সর্বদল বৈঠক ও পরে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেওয়ার পর জল আরও গড়াল৷ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি তাঁর পাকিস্তান সফর বাতিল করলেন৷ সূত্রের খবর, চলতি মাসের ২৫-২৬ তারিখ ইসলামাবাদে সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন বা সার্কভুক্ত দেশগুলির অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক হতে চলেছে৷ সেই বৈঠকেই  তাঁর যাওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু সূত্রের খবর, জেটলি ইসলামাবাদে যাচ্ছেন না৷ মঙ্গলবার বিজেপির পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠকে দলের জাতীয় সচিব সিদ্ধার্থনাথ সিং এ প্রসঙ্গে বলেন, “সার্কের বিষয় নিয়ে এইটুকুই বলতে পারি, ভারত সরকার পাকিস্তান নিয়ে সময়ে সময়ে নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ যা-ই সিদ্ধান্ত হোক, সরকার বুঝে শুনেই তা নিয়েছে৷”

যদিও জেটলির না যাওয়ার পিছনে কূটনৈতিক কারণের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ কয়েকদিন আগেই সার্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ইসলামাবাদ গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ সেই বৈঠকে রাজনাথের ভাষণ সম্প্রচার করা হয়নি৷ বিষয়টি নিয়ে জলঘোলাও হয়েছিল বিস্তর৷ সেই সময় রাজনাথের পাকিস্তান সফর নিয়ে সংসদের অন্দরেও সরকারের বিদেশ নীতির দিকে আঙুল তুলে বিরোধীরা সোচ্চার হয়েছিলেন৷ বিরোধীরা যাতে নতুন করে সরকারের দিকে আঙুল তোলার সুযোগ না পান, সেইদিকে নজর রাখা হচ্ছে৷ আবার কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান যেভাবে মন্তব্য করে চলেছে তা একেবারেই পছন্দ করছে না ভারত৷ এতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিলেও সার্কের মতো ‘মাল্টিল্যাটেরাল’ আলোচনায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল ছিল৷ কিন্তু রাজনাথের ঘটনার পরে সেই বিষয়টি নিয়েও ভারত যে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে, এদিন জেটলির পাক সফর বাতিল করা তারই প্রমাণ বলেই মনে করা হচ্ছে৷

জেটলি সার্কের বৈঠকে যোগ না দিলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলেও কূটনীতিবিদদের ধারণা৷ পাকিস্তানের আসল স্বরূপ যে ভারত বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চায়, সে কথা আগেই প্রধানমন্ত্রী সর্বদল বৈঠকে জানিয়েছিলেন৷ পরে একইভাবে বালুচিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে লালকেল্লা থেকে ভাষণেও মোদি সরব হন৷

অন্যদিকে, পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রকের তরফ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ভাল অতিথিসেবকের ভূমিকা পালন করতে ও আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক রাখতে তারা তৈরি৷ কিন্তু ভারত যে তাতে বিশ্বাস করতে রাজি নয়, সেই বার্তাই জেটলির সফর বাতিলের মাধ্যমে দেওয়া হতে চলেছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement