BREAKING NEWS

১৫  আষাঢ়  ১৪২৯  শনিবার ২ জুলাই ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

অষ্টমী পুজোয় নেমে আসেন মা, বেঁধে রাখা হয় শিকলে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 4, 2016 12:04 pm|    Updated: October 4, 2016 12:04 pm

Maa Durga Uses To Be Chained In This Puja

মিঠুন হালদার: প্রথা অনুযায়ী আজও মায়ের পাট বেঁধে রাখা হয় লোহার শিকল দিয়ে৷ জঙ্গিপুরের ঘোষাল বাড়ির ৩৬৪ বছরের পুজো৷ কথিত, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার কারণ, অষ্টমীর দিনে দেবী মায়ের মধ্যে প্রাণ আসে, তিনি আসন ছেড়ে নেমে আসেন নিচে৷ সেই কারণের জন্য আজও লোহার শিকল ব্যবহার করা হয়৷ পরিবারের এক সদস্য জয়ন্ত ঘোষাল জানিয়েছেন, “গয়া মুনি বৈষ্ণবী নামে আমাদের পরিবারের এক পূর্বপুরুষ প্রায় ৩৬৪ বছর আগে এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৷ প্রথা অনুযায়ী আজও একইরকমভাবে পুজোর নিয়ম মানা হয়৷ কিছু বিশেষত্ব আছে আমাদের বাড়ির পুজোতে৷ সেই সময়ের জমিদারি না থাকলেও বিধি মেনেই পুজো করা হয় এখনও৷ আমাদের বৈষ্ণব মত মেনে পুজো করা হয়৷ পালকিতে করে কলাবউকে নিয়ে আসা হয় আজও৷ সপ্তমীর দিনে সাত রকমের অন্নে ভোগ দেওয়া হয় মাকে৷ অষ্টমীর দিনে আটরকম এবং নবমীর দিনে নয়রকমের ভোগ দিয়ে হয় দেবীর পুজো৷ সেই সঙ্গে বাজারে যত ধরনের সবজি পাওয়া যায় সব ধরনের সবজির ভোগ দিতে হয়৷ অষ্টমী পুজোর দিনে আজও সন্ধি পুজোর সময় একটা প্রজাপতি আসে দেবী মায়ের কাছে৷ আমরা প্রায় এই ধরনের বিষয় অনেকদিন ধরেই একনাগাড়ে দেখে আসছি৷
সেই সঙ্গে কথিত আছে, কোনও এক সময়ে অষ্টমী পুজোর সময় দেবী মা নিজের পাট ছেড়ে বাড়ির দালানে নেমে এসেছিলেন এবং চলে যাচ্ছিলেন কোথাও৷ সেই সময় পুরোহিত মশাই এবং গয়া মু্নি বৈষ্ণবী তাঁর পাট লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে দেন৷ তার পর থেকে প্রথা মেনে শুধুমাত্র নিরঞ্জনের সময় পাট খোলা হয়৷ বাকি সময়ে পাট বাঁধা থাকে লোহার শিকল দিয়েই৷ বালক ভোজনের প্রথা সেই সময় ছিল৷ আজও সেই প্রথা রক্ষা করা হয় ঠিকই, তবে আগের মতো খুব বেশি বালক নয়, সংখ্যাটা সীমিত থাকে প্রায় ১০০ জনের মধ্যে৷ তবে অষ্টমীর দিনে খিচুড়ি ভোগ বিতরণ আজও হয় এলাকার মানুষের মধ্যে৷ বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে একটু অসুবিধা হলেও কোনওরকম খামতি থাকে না আমাদের পুজোর প্রথাতে৷ কর্মসূত্রে সবাই বাড়ি থেকে অনেক দূরে থাকে, কিন্তু এই সময়ে এক জায়গাতে মিলতে পারি পরিবারের সবাই৷ যা আমাদের কাছে খুবই আনন্দের৷ এলাকাতে ক্লাবের থিমের পুজো হলেও আমাদের বাড়ির পুজোর জন্য এখনও সাধারণের মন কাড়ে৷”

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে