BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

জিটিএ ভোটের আগে মোর্চাকে প্যাঁচে ফেললেন মুখ্যমন্ত্রী

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 14, 2016 8:55 am|    Updated: July 14, 2016 8:55 am

An Images

কিংশুক প্রামাণিক, দার্জিলিং: এবার কামার, দর্জি ও মুচি সম্প্রদায়ের জন্যও আলাদা বোর্ড গঠন করে পাহাড়ের রাজনীতিতে বিমল গুরুংদের আরও কোণঠাসা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই নিয়ে জিটিএ’র বাইরে মোট দশটি উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি হয়ে গেল৷ লেপচাদের দীর্ঘ দিনের দাবি মেনে বোর্ড গঠন দিয়ে শুরু, বুধবার নেপালি প্রবাদপ্রতিম কবি ভানুভক্তের ২০২তম জন্মদিনে ম্যালে সরকারি অনুষ্ঠানে জিটিএ চিফ গুরুংকে মঞ্চে বসিয়েই তিন তফসিলি সম্প্রদায়ের বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আর তার ঠিক পরেই তাঁর উদ্যোগকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ বললেন, “পাহাড়ের জনগোষ্ঠীগুলির জন্য মমতা যা করছেন আমি তাকে সমর্থন জানাই৷ খুব ভাল কাজ হচ্ছে পাহাড়ে৷” আরও একবার ঐক্যের বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “পাহাড়ে উন্নয়নের স্বার্থেই তিন নতুন বোর্ড গড়ে দিলাম৷” মোর্চার উপর চাপ বাড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী কোনও একসময় পাহাড়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকও করবেন তিনি৷

মোর্চার ভোট ব্যাঙ্ক বলে পরিচিত কামি, দামাই আর সার্কি সম্প্রদায়ের কমবেশি প্রায় আশি হাজার মানুষ নতুন বোর্ড পেয়ে উচ্ছ্বসিত৷ নতুন তিন বোর্ড গঠনের ঘোষণার সময় মঞ্চে বসে মিটিমিটি হাসলেও মমতার মাস্টারস্ট্রোকে গুরুং দিশাহারা৷ রোশন গিরি পরে বলেন, “আমরা সব বোর্ডকে জিটিএ’র আন্ডারে আনতে চাই৷ কিন্তু রাজ্য তা মানছে না৷”

বিশাল ভোটে জিতে আসার পর মমতাকে তুষ্ট করতে এখন উঠে পড়ে লেগেছে মোর্চা৷ অনেক আবেদন-নিবেদনের পর এদিন অনুষ্ঠানের আগেই রিচমন্ড হিলে মুখ্যমন্ত্রী সময় দেন বিমল গুরুংদের৷ যথারীতি তারা পূর্ত-সহ আরও কয়েকটি দফতরের ক্ষমতা হাতে পাওয়ার দাবি করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী এনিয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেন৷ রাজ্য ও জিটিএ সমস্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবে বলে ঠিক হয়েছে৷
একদিকে বিধানসভা ভোটে পাহাড়ের তিন আসনে দেড় লক্ষের বেশি ভোট পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা৷ পাশাপাশি পাহাড়ে দ্রুত উত্থান হচ্ছে সুবাস ঘিসিংয়ের পুত্র মন ঘিসিংয়ের৷ বহু জায়গায় পার্টি অফিস খুলে ফেলেছে জিএনএলএফ৷ ফলে মোর্চা বেশ ব্যাকফুটে৷

কামি জনজাতি মূলত কুকরি তৈরি করে৷ দামাই সম্প্রদায় টেলারিংয়ের কাজ করে৷ আর সার্কিরা মুচি৷ জুতো তৈরি করে৷ মূলত গরিব এই তিন সম্প্রদায়ের মানুষরা এতদিন মোর্চাকেই ভোট দিয়ে এসেছে৷ কিন্তু এদিন নতুন বোর্ড পেয়ে তারা যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নামে জয়ধ্বনি দিল তাতে চিন্তা বাড়ল মোর্চার৷ জিটিএ কিছু করতে পারছে না বলেই যে নতুন বোর্ড গঠনের দাবি আসছে সেটা পাহাড়ের মানুষ বুঝতে পারছেন৷ বেগতিক বুঝেই সব বোর্ড নিজেদের মধ্যে আনতে দাবি তুলেছে মোর্চা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement