১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

আবেগে-উচ্ছ্বাসে মোহনবাগান দিবসে ময়দান সবুজ-মেরুন

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 29, 2016 9:11 pm|    Updated: July 29, 2016 9:46 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘আমাদের সূর্য মেরুন….’- দেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, অগণিত মোহনবাগান সমর্থকের কাছে আজকের সকাল যেন এই রঙেই রাঙা হয়ে আসে৷ অন্য পাঁচদিনের থেকে এ দিনটার মেজাজই যে আলাদা৷ যেমন আলাদা এদিনের মাহাত্ম্য৷ ২৯ জুলাই, মোহনবাগান দিবস৷ মোহনবাগান দিবস মানে তো শুধু মোহনবাগান সমর্থকদের উদযাপনের দিনই নয়, বাংলার সকল ফুটবলপ্রেমীর কাছেই আবেগের দিন৷ আজ সেই আবেগে, উচ্ছ্বাসে শহরের রঙই যেন হয়ে উঠল সবুজ-মেরুন৷

মোহনবাগান দিবস মানেই ঐতিহ্য আর নস্টালজিয়ার যুগলবন্দি৷ ঘাসে ঘাসে লেগে থাকা কত সুখস্মৃতি৷ কত জয়, ঘাম, লড়াইয়ের ইতিবৃত্ত৷ কত তারকার জন্মকথা লেখা আছে ক্লাবের ইতিহাসে, কত সমর্থকের আনন্দাশ্রু মিশে গিয়েছে ক্লাবে রাখা ট্রফিগুলিতে৷ আজ ছিল সে সবই ফিরে ফিরে মনে করার দিন৷ সপ্তাহখানেক আগে থেকে ক্লাবে ছিল সাজে সাজো রব৷ আজ ক্লাব সেজে উঠল সেলিব্রেশনের সাজে, মেতে উঠল উৎসবের মেজাজে৷

Mohunbagan_2

এদিন মোহনবাগাস দিবস পালনে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট টুটু বোস, সহ-সচিব সৃঞ্জয় বোস থেকে শুরু করে অর্থ সচিব দেবাশিস দত্ত-সহ সকল কর্মকর্তারাই৷ উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা৷ এসেছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার চুনী গোস্বামীও৷ অসংখ্য সমর্থকদের উপস্থিতিতে এদিন সৈয়দ নইমুদ্দিনের হাতে মোহনবাগান রত্ন সম্মান তুলে দেন ক্লাবের সচিব অঞ্জন মিত্র৷ বহু বছর এ ক্লাবের হয়েই ময়দানে লড়াই করেছেন তিনি৷ আজ এমন সম্মানিত হওয়ার মুহূর্তে তাই স্মৃতির পালতোলা নৌকায় সওয়ার হলেন প্রাক্তন ফুটবলার তথা কোচ৷ জানালেন, ক্লাব এমন সম্মান দিচ্ছে, এর থেকে ভাল আর কী হতে পারে৷

Mohunbagan-3

ঐতিহাসিক সব মুহূর্তের স্মৃতি এদিন সাজানো ছিল পরতে পরতে৷ ক্লাবের সমস্ত সুখস্মৃতির কোলাজ ফিরে দেখার সুযোগ পেলেন সমর্থক ও উৎসাহীরা৷ সকল মোহনবাগানিদের কাছে গর্বের দিন হলেও, এ তো আসলে বাংলার ফুটবল ইতিহাসেরই স্মরণীয় দিন৷ বাংলার ফুটবল যতই নয়া মোড় নিক না কেন, যত কর্পোরেট পেশাদারিত্বের পোশাক গায় চাপাক না কেন, কখনও ভুলবে না শিবদাস ভাদুড়িদের খালি পায়ে গোরাদের হারানোর সেই বাহাদুরির কথা৷ শুধু তো খেলা ছিল না সেদিন, ছিল স্বাধীনতা সংগ্রাম৷ পরাধীন এক জাতির হয়ে সেদিন লড়েছিলেন বীর এগারো৷ আর সশস্ত্র বিপ্লব যা পারেনি, তাই সম্ভব করে তুলেছিলেন তাঁরা৷ অনমনীয় জেদ, লড়াই আর দক্ষতার কাছে সেদিন হেরে গিয়েছিল ইংরেজরা৷ আসলে হেরে গিয়েছিল একটা জাতির স্বাধীনতা কামনার কাছেই৷ খেলায় হারজিতের থেকে সে হারের মাত্রা যে কোনখানে আলাদা, তা এর পরবর্তী সময়ে বাংলা থেকে ব্রিটিশদের রাজধানী সরানোর সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট ছিল৷ এমনকী স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অভ্যুত্থানের মশালটি যেন জ্বলেছিল এখান থেকেই৷ এসবই সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ছবি৷ ভারতের ইতিহাস স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যেমন কখনওই ভুলবে না, তেমনই ভুলবে না এই দিনটিকেও, সেই লড়াকু এগারোজনকেও৷

Mohunbagan4

যত ছবি আজ ক্লাব তাঁবুতে সাজানো ছিল তার থেকে বেশি ছবি যেন সাজানো সমর্থকদের মনে মনে৷ প্রতি মোহনবাগানি মাত্রই জানেন, তাঁদের খুঁজলে পাওয়া যাবে সোনায় লেখা ইতিহাসে৷ আর তাই প্রতি মোহনবাগান দিবস মানেই স্মৃতির সোনার কেল্লায় নতুন করে অভিযান৷ আজকের দিনটিও সাক্ষী থাকল সেরকমই এক অভিযানের, আর ইতিহাসের সরণি ধরে হাঁটতে হাঁটতে অপেক্ষা থাকল নতুন ইতিহাস গড়ার৷ আসলে এ ক্লাবের তাঁবুতেই যে ঐতিহ্য ইতিহাস হাত ধরাধরি করে হাঁটে৷ আর কে না জানে, যার ইতিহাস আছে, একমাত্র ভিত আছে তারই৷ সেই পারে নতুন ইতিহাস রচনা করতে৷ একদিন এই সবুজ-মেরুন রঙেই হয়েছিল বিপ্লবের সূচনা, আজও তাই তার পথচলা বৈপ্লবিক পথেই৷ আর সে চড়াই-উতরাই পেরতে পেরতে সাফল্যের যে নতুন সূর্য উঁকি দেয়, মোহনবাগানি মাত্রই জানেন, সে সূর্যের রং আসলে সবুজ-মেরুনই৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement